448 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

মায়াবী শরীরে বেশ্যা মানচিত্র আর কত? শেখ আবুল খায়ের আনছারী

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

 

 

কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন; “পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর” পৃথিবীটাকে সৃষ্টিকর্তা যেভাবে সাজিয়েছেন তার মাঝে নারী পুরুষ অর্থাৎ পুঃলিঙ্গ ও স্ত্রী লিঙ্গ করে সৃষ্টি করেছেন প্রতিটা জাতিকেই। খুব সহজেই অনুমেয় যে একজন অপরজনের সহায়ক বা সম্পুরক করেই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব শুধু তাই নই, মানুষকে সৃষ্টিকর্তা তার প্রতিনিধি হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। মাখলূকাতে এমন অনেক প্রাণী রয়েছে যারা শারিরীক ভাবে মানুষের চেয়ে বহুগুনে শক্তিশালী। সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে প্রতিনিধি করেন নি। যে প্রাণীটি সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধিত্ব করবে তার কিছু আলাদা বৈশিষ্ট থাকতে হবে যা অন্য প্রাণীর নেই। আর যদি অন্য প্রাণীর চেয়ে মানুষের আলাদা কিছু গুন বা বৈশিষ্ট না থাকে তাহলে বুঝতে হবে তার আর জন্তু জানোয়ারের মাঝে কোন তফাত নেই। জন্তু জানোয়ারেরা তাদের জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য স্থান কাল বিবেচনা করেনা। যখন যেখানে প্রয়োজন তাদের জৈবিক চাহিদা মিটিয়ে নিচ্ছে। তাদের বিবেক বোধ নেই, ভাল মন্দের যাছাই নেই,আর না তাদের কোন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হয়। আজকাল আমাদের দেশেও কিছু নরপশু আছে যাদের আচরণ ঐসব জন্তু জানোয়ারের মতই।

অনেক দেশেই ধর্ষনের মতো ঘৃণ্য কর্মটি মানুষ নামধারী পশুরা করে থাকে,কিন্তু আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি রীতিমত উদ্বেগ জনক। ধর্ষন যেন একটি  সাধারণ শব্দ হয়ে গেছে। ঘুম থেকে উঠে সংবাদপত্র খোললেই বড় শিরোনামে আসছে ধর্ষনের খবর। এমন কোনো দিন নেই যেখানে ধর্ষনের খবর সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে না। স্যোশাল মিডিয়া সহ সব ধরণের প্রচার মাধ্যমে খবর প্রকাশ হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ধর্ষন যেন সাধারণ একটি বিষয় এর কোন প্রতিকার নেই। শিশু থেকে বৃদ্ধা, মানসিক ভারসম্যহীন ভবঘুরে, এমনকি প্রতিবন্ধি পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না ধর্ষন নামক ঘৃণ্য এ কাজটি থেকে।

পাষন্ডরা শুধু ধর্ষন করেই ক্ষান্ত থাকছে না নিজেদের বাঁচাতে ধর্ষনের পর হত্যা পর্যন্ত করছে। যে খবর গুলো মিডিয়াতে আসে সেগুলো হয়তো আমরা জানতে পারি। এমন অনেক ধর্ষণের খবর আছে যেগুলো মিডিয়াতে আসেনা আমরা  জানতেও পারিনা। কেন হচ্ছে ধর্ষন সে প্রশ্নের জবাবে নানা জনে নানান মত ব্যাক্ত করেন। অনেকের ধারণা শুধু মেয়েদের দোষেই ধর্ষণ হচ্ছে। পুরোটা না হোক আংশিক সত্য বলা যায়। মেয়েদের অত্যাধুনিকতা,ভিনদেশি কালচার অনুস্বরণ,ধর্মীয় অনুশাষন না মানা, মা-বাবার নজরদারী না থাকা ইত্যাদি কারণে ধর্ষন দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। প্রশ্ন হলো যে বালিকাটি ইমাম সাহেবের কাছে মসজিদে পড়তে যায়, মাদরাসায় হুজুরের কাছে পড়তে যায় সে মেয়ে তো বেপর্দা নয় কিংবা ভিনদেশি কালচার অনুস্বরণ করে সর্ট কাপড় পড়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়না যে বখাটেদের বদ নজর পড়বে। তাহলে অবুঝ শিশু বা তরুণী কেন ধর্ষিত হচ্ছে লেবাসধারী পশুদের হাতে? জবাব আছে?

কিছুদিন আগে সিলেট এম সি কলেজের হোস্টেলে বহুল আলোচিত ধর্ষনের ঘটনা আমাদেরকে কী বার্তা দিচ্ছে? উচ্ছৃঙ্খল একজন তরুণী বখাটেদের বদ নজরে হয়তো পরতে পারে, কিন্ত একজন গৃহবধু স্বামীর সাথে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষনের শিকার হবে তাও আবার একটি স্বনাম ধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে? এটা কি মেনে নেয়া যায়?

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে আমরা কী আবার জাহেলিয়াতের যুগে ফিরে যাচ্ছি? মানবতা, মনুষত্য সব তাহলে হারিয়ে গেছে? আমরা কি করে ভুলে যায় যে আমরা মানুষ জাতি সৃষ্টির সেরা জীব। কখনোবা দেখা যায় ধর্ষক সে তার অপকর্ম সম্পাদন করার পর বিজয় উল্লাস প্রকাশ করে বা ধর্ষীতাকে ধর্ষিতার পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়, তখন একটা ধর্ষিতা মেয়ে এবং তার পরিবার  কিভাবে সমাজে বাস করতে পারে? তার বেঁচে থাকা কতটা কষ্টকর আমরা তা অনুধাবন করি? তাই কবি লিটন হোসাইন জিহাদ তাঁর কবিতায় লিখেছেন “মায়াবী শরীরে বেশ্যা মানচিত্র এঁকে তোমরা যখন বিজয় উল্লাস কর আমি তখন গাঁধার চোখে বিষ্ময় অশ্রু দেখতে পাই”

ধর্ষনের বিরুদ্ধে দেশে নানা মুখি কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রয়েছে আইন, সোচ্চার রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তার পরও ধর্ষন থামছেনা। যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করে এর যথাযথ প্রয়োগও করতে হবে তবেই হয়তো ধর্ষণ কমতে পারে। এটা সময়ের দাবি। আধুনিক দেশ তথা সমাজ বিনির্মাণে এ বিষয়কে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

  • 4
    Shares
  • 4
    Shares