360 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ডাক্তার দেখাতে সিরিয়াল বিড়াম্বনা ; বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ

  • 43
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    43
    Shares

রাবেয়া জাহান: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবাইকে অসুখ থেকে হেফাজতে রাখুক। আসলে অসুখের যন্ত্রণা যতোটা না কষ্টদায়ক, তার চেয়ে বেশি কষ্টদায়ক কিছু ডাক্তারদের কাছে সিরিয়াল দেওয়ার বিড়াম্বনা। একজন অসুস্থ রোগীর কাছে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার অনেক কিছু। তাছাড়া এই করোনা ভাইরাসের দুঃসময়ে অনেক ডাক্তার, জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে দিচ্ছেন। সেই সকল ডাক্তারদের প্রতি হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে দোয়া এবং স্যালুট।
তবে কিছু ডাক্তারদের কাছে সিরিয়াল দেওয়ার সিস্টেম, রোগীদের জন্য অনেক কষ্টকর এবং দুর্ভোগের কারণ। আমি নিজে সেই দুর্ভোগের শিকার হয়েছি।
আজ ১১ দিন হলো চোখের সমস্যায় ভুগছি। চোখে কিছু একটা পড়েছে। তবে কি পড়েছে তা বুঝতে সক্ষম হচ্ছিলাম না, তাই ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হলাম। গত ৬-৮- ২০২০ তারিখে গেলাম ডাক্তার সুকেন্দু সাহেবের কাছে। পূর্ব অভিজ্ঞতার জন্য , বিষয়টি জানা ছিল যে, আগে থেকেই সিরিয়াল দিতে হয়।তাই সকাল সাড়ে ৮টাই গেলাম ডাক্তারের চেম্বারে কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। সকাল ৬ টা থেকে ৮ টার মধ্যে সিরিয়াল দিতে হবে। আর এর পর  কোনো রোগী অনেক দূর থেকে এলে বা কারো অবস্থা খুব খারাপ হলেও ডাক্তার দেখানো তো দূরের কথা, সিরিয়াল ই দেওয়া সম্ভব নয় । অনেক রিকোয়েস্ট করলাম, আগামীকালের সিরিয়াল রাখার জন্য। কিন্তু তা সম্ভব হলো না। আরো কয়েকজন রোগীকে দেখলাম, তারাও সিরিয়াল দিতে পারেননি। তাদের কেউ কেউ অনেক দুর থেকে এসেছে। কিন্তু সকাল ৮ টার পর আর সিরিয়াল দেওয়ার নিয়ম নেই।
এই নিয়মের কঠোরতায় অনেক রোগিদের সিরিয়াল দেওয়ার জন্য দূর থেকে বার বার আসা যাওয়ার খরচ বহন করা অনেক কষ্টকর।
আমার চোখের যন্ত্রণা বাড়ছিলো, তাই ডাক্তার ইয়ামলি খানের কাছে গেলাম। সেখানে অন্তত সিরিয়াল দেওয়া গেলো৷ ৮০০ টাকা ভিজিট দিয়ে সিরিয়াল দিলাম ৷ ৩ টা থেকে ডাক্তার সাহেব রোগী দেখবেব। যাহোক সাড়ে ৪ টার মধ্যে ডাক্তার দেখাতে সক্ষম হলাম। চোখে কি পড়েছে, তা ডাক্তার সাহেব তুলা দিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পারেননি। পরে ১২৫০ টাকার ওষুধ দিয়েছেন, আর বলেছেন ৭ দিন পরে আসতে। আমি চোখের ড্রপ, অয়েনমেন্ট সব নিয়মিত দিচ্ছি, কিন্ত আজ ৫ দিনে কোনো অগ্রগতি দেখছিনা৷ চোখের যন্ত্রনায় আর টিকতে পারছিলাম না। তাই আজ সকাল ১১ টাই সিরিয়াল দিতে গেলাম৷ গিয়ে শুনি সিরিয়াল নেওয়া শেষ৷ আজ আর রোগী দেখবেন না। আমি বললাম, সেদিন তো ১২ টার সময় সিরিয়াল দিলাম। তখন বেচারি রিসেপশনিস্ট কন্যা বললো, আজ ১১ টার মধ্যেই পঞ্চাশ জন রোগী হয়ে গেছে। আর পঞ্চাশ জনের বাইরে ডাক্তার সাহেব একজন রোগী ও দেখবেন না।আমি খুব কষ্ট পেলাম, পাশাপাশি এই সিস্টেমের প্রতি খুব ক্ষুব্ধ হলাম। নামিদামী ডাক্তারগণ শুধু নিজেদের সুবিধর্থে রোগী না দেখে , রোগীদের প্রয়োজনীয়তাটুকু যদি একটু বিবেচনায় রাখেন , তাহলে নামকরা ডাক্তারের পাশাপাশি নামকরা মানুষ হতে পারেন।
কি আর করার ,চোখের যন্ত্রণা নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হলো। আগামীকাল সকালে সিরিয়াল দিতে হবে , তারপর ,আবার বিকেলে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে হবে।
আসলে সিরিয়াল দেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের আরো নানান রকম জটিলতায় একজন রোগী মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরেন । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সম্মানিত ডাক্তারগণের কাছে অনুরোধ রইলো, রোগীদের দুঃখ দৃর্দশা এবং কষ্টের কথা বিবেচনা করে হাসপাতালের নিয়ম কানুন রোগীদের প্রয়োজনে কিছুটা শিথিল এবং সহজলভ্য যেনো করা হয়।

  • 43
    Shares