ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক গতি ফিরেছে,সরাইল-বিশ্বরোডে নেই আর যানজট

লেখক: মোঃমনির হোসেন
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল-বিশ্বরোড মোড় অংশে এখন স্বস্তির চিত্র। দীর্ঘদিনের ভয়াবহ যানজট যেন এক নিমিষেই উধাও। গাড়ির চাপ থাকলেও কোথাও জটলা নেই। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেয়া হয়েছে বিভাজক, একই সঙ্গে চলছে দ্রুতগতিতে সংস্কার কাজও। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠে থেকে এসব কার্যক্রম তদারকি করছেন।

অনেকটা রাতারাতি বদলে যাওয়া এ দৃশ্য দেখা গেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের পরিদর্শন ও নির্দেশনার পর। দীর্ঘদিনের যানজটে অতিষ্ঠ যাত্রী ও চালকরা এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

২০২০ সালে একনেকে অনুমোদনের পর আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চারলেন জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণ কাজটি করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। তবে শুরু থেকেই নানা সংকটে পড়ে প্রকল্পটি। আর্থিক জটিলতা ও প্রশাসনিক বাধার কারণে কাজ এগোয় ধীর গতিতে। পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে, যা শেষ হবে আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসে।

প্রকল্পের ১২ কিলোমিটার অংশ পড়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল-বিশ্বরোড পর্যন্ত। এই অংশের মাত্র ৬২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কাজের ধীরগতির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় খানাখন্দ ও যানজট। একসময় এই ১২ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে লাগত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা, কখনও কখনও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টাও। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো যাত্রী ও চালকদের।

যানজট নিরসনে সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ১২ সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠন করে। এরপর ৮ অক্টোবর উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মহাসড়কের বেহাল অংশ পরিদর্শনে এসে নিজেই ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়েন। গাড়ি ফেলে মোটরসাইকেলে চড়ে সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ে গিয়ে তিনি দায়ীদের তিরস্কার করেন এবং কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মাঠে থাকার নির্দেশ দেন।

তারপর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে মহাসড়কের চিত্র। যানবাহনের উল্টোপথে চলাচল বন্ধে সড়কে দেয়া হয়েছে বিভাজক। ফলে আর কোনো গাড়ি উল্টোদিকে চলাচল করতে পারছে না। শৃঙ্খলা ফিরেছে সড়কে।

রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, সরাইল-বিশ্বরোড মোড় ও আশপাশে কোথাও যানজট নেই। আশুগঞ্জ গোলচত্বরেও স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করছে। উপদেষ্টার নির্দেশনার পরদিন (৯ অক্টোবর) কর্মকর্তাদের উপস্থিতি চোখে না পড়লেও রোববার অধিকাংশ কর্মকর্তাকেই দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। দ্রুতগতিতে চলছে অস্থায়ী সংস্কার কাজও।

ঢাকা-সিলেট রুটের বাস চালক হানিফ মিয়া বলেন, “গত কয়েক মাস যানজটের কারণে অমানবিক কষ্ট করতে হয়েছে। ১০-১২ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে সিলেট পৌঁছানো যেত না। কিন্তু এখন কয়েক মিনিটেই বিশ্বরোড পার হওয়া যাচ্ছে।” যাত্রী রাকিব হোসেন বলেন, “আপাতত যানজট নিরসন হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করা জরুরি। না হলে আবারও একই দুর্ভোগে পড়তে হবে।”

সরাইলের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বিশ্বরোড মোড়ের দুই পাশে সড়ক বিভাজক দেয়া হয়েছে। উল্টো পথে কোনো গাড়ি চলাচল না করে—সেদিকে আমরা নজর রাখছি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।”

চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্যাকেজ-১ এর কাজ ৬২ শতাংশ শেষ হয়েছে, প্যাকেজ-২ এর কাজ শেষ হয়েছে ৫৫ শতাংশ। তবে বিভিন্ন জটিলতায় প্যাকেজ-৩ এর কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫০ শতাংশের কিছু বেশি।

প্রকল্পের ব্যবস্থাপক (প্যাকেজ-১) মোস্তাকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “বর্তমানে মহাসড়কে যানজট নেই বললেই চলে। বেহাল অংশের সংস্কার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজে ফিরতে শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে বর্ধিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে।”

সর্বোপরি, সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টার নির্দেশনায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের সরাইল-বিশ্বরোড অংশে এখন শৃঙ্খলা ও গতি ফিরেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বস্তি স্থায়ী করতে হলে দ্রুত চারলেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ করাই হবে মূল সমাধান।