300 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

তিতাসে কিশোর গ্যাং সোহেলের সস্ত্রাসী তান্ডবঃ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা 

 হালিম সৈকত,  কুমিল্লাঃ তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের কালাচান্দকান্দি গ্রামে কিশোর গ্যাং সোহেল বাহিনীর হাতে গুরুতর আহত  হয়েছে ৩ জন।
 পবিত্র রমজান মাসে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসী সোহেল বাহিনী।
৬ মে বৃহস্পতিবার ইফতারের পর পর আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের কালাচাঁন্দকান্দি গ্রামে জমির আলীর মোদি দোকানের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের পর পর জমির আলীর দোকানে জাহাঙ্গীর, হিরন, ইয়াছিন (শিকু) সহ আরো কয়েকজন বসে চা পান করছিলেন। এমন সময় কিশোর সন্ত্রাসী সোহেল গংরা আসলে ছাত্রলীগ নেতা মু. হেলাল উদ্দিনের উপর আক্রমণের বিষয়ে কথা ওঠে।  তর্ক বির্তেকের এক পর্যায়ে  পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কালাচাঁন্দকান্দি গ্রামের মোঃ মোকবল মিয়ার ছেলে  সোহেল (২৪), মৃত মবিন মিয়ার ছেলে  দিদার (২৫), শহিদ মিয়ার ছেলে আল-আমিন (২৩), রহিম মিয়ার ছেলে রাসেল (২৬) সহ আরো কয়েকজন হাতে রামদা,চাপাতি, লোহার রড সহ ধারালো অস্ত্রসস্ত্র  নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় আহত হন কালাচাঁন্দকান্দি গ্রামের হিরন মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর (২৬), ইয়াছিন ওরফে শুকু (১৯), একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মোহাম্মদ (৩০)।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে গুরুতর আহত ৩ জনকে প্রাথমিক  চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২ মে ২০২১ইং তারিখে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মু. হেলাল উদ্দীনকে কুপিয়ে আহত করেছে এই কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী সোহেল বাহিনী। তিতাস থানায় আহত ছাত্রলীগ নেতা হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।  কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি কোন এক অদৃশ্য কারণে। ভুক্তভোগী ও একাধিক সূত্রের অভিযোগ,  আগের ঘটনায় যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো,  তাহলে তারা পরপর এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস পেত না!
এই বিষয়ে কিশোর গ্যাং লিডার সোহেলের সাথে মোবাইলে কথা হলে সে জানায়,  হেলাল এর আগে একটি মেয়েলি ঘটনায় তাদেরকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেছে। রাস্তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে  এবং এলাকায় একজনকে দিয়ে আরেকজনকে লাগিয়ে রাখে। তাই তাকে সাইজ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সাথে দেখা করার কথা বললেও পরে এক ছাত্রলীগ নেতার পরামর্শে আর দেখা করেনি। উল্টো সাংবাদিকদের গালাগালি শুরু করে মোবাইলে।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই কান্ড ঘটিয়েছে এই অপরাধীচক্র।
এই বিষয়ে কলাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার বলেন,  সোহেল,  দিদার,  রাসেল ও আল আমিন গংরা একটি অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় নানা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে।  সামনে ইউপি নির্বাচন। আমাকে যারা সমর্থন করে,  তাদেরকে টার্গেট করে একের পর এক তাদের উপর সস্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে।  তাদের সকলের কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে।  আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।    মামালার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
এই বিষয়ে তিতাস থানার নবাগত ওসি সুধীন চন্দ্র দাস বলেন,  আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যারা জড়িত তাদেরকে আটক করার চেষ্টা চলছে।  এখনও মামলা হয়নি, ভূক্তভোগী পরিবার রোগি নিয়ে ব্যস্ত।
[Sassy_Social_Share total_shares="ON"]