50 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে ধরলার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লালমনিরহাটের তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে ধরলার পানি। মঙ্গলবার সকালে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও ধরলার কুলাঘাট পয়েন্টে ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীবর্তী এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের সংকট।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ধরলার কুলাঘাট পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে পানি। এতে লালমনিরহাটের ৫ ও রংপুরের ৩টি উপজেলা পানিতে তলিয়ে গেছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালীগঞ্জ উপজেলার, চর বৈরাতী, ভোটমারী, কাকিনা, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্ণা, গড্ডিমারী, দোয়ানী, ধুবনী, ডাউয়াবাড়ি এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক পরিবার গত তিনদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে এসব এলাকার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চর এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। শনিবার রাতেও পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। সেই কারণেই নদীর চরাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছিল। তবে রোববার সকাল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। পানি কমে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া ধরলার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক মৎস্য খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু-বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

ধরলার কূলাঘাটের ইউপি চেয়ারম্যান, ইদ্রিস আলী জানান, ধরলা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। ধেয়ে আসা পানিতে আমাদের কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। এখন পর্যন্ত সরকারি সহযোগিতা তেমন পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, ত্রাণ পর্যাপ্ত থাকায় প্রতিদিনেই ত্রাণ দেয়া অব্যাহত রয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সেখানেও পৌছানোরও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।