188 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

“তুমিহীনা বন্ধ্যা সময়” প্রেম ও দ্রোহের কাব্যগ্রন্থ : শেখ আবুল খায়ের আনছারী

  • 31
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    31
    Shares

বিশ্বখ্যাত পরমানু বিজ্ঞানী ভারতের প্রয়াত সফল রাষ্ট্রপতি এপিজে আবুল কালাম আজাদ বলেছেন; ‘স্বপ্ন এটা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, স্বপ্ন হল এই যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না’

লিটন হোসাইন জিহাদ এমন এক প্রতিভার নাম, যিনি স্বপ্ন দেখেন এবং স্বপ্ন দেখান। যাকে আমরা বলি স্বপ্নদ্রষ্টা। প্রতিভাবান এই তরুন সর্বদাই আবিষ্কার নেশায় মত্ত থাকে। সে পেয়ে নয় বরং দিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। এমন প্রতিভা আমাদের সমাজে বিরল। তরুণ কবি লিটন হোসাইন জিহাদের “তুমিহীনা বন্ধা সময়” কবিতা প্রেমিদের কাছে একটি গ্রহনযোগ্য কবিতার বই।

চারটি বর্ণের সমষ্টি ভালোবাসার সঠিক সংজ্ঞা নিরুপনে বিতর্ক হয়তো কোনদিন শেষ হবে না। কারণ;এটা কারো কাছে নির্মোহ আবেগ, উষ্ণ সংযুক্তি, কারো কাছে গভীর স্নেহ, মায়া-মমতার অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। কারো কাছে জীবনের শেষ অবলম্বন মা-বাবার প্রতি সশ্রদ্ধ চিত্তে নিজেকে সমর্পন করা।
কবি লিটন হোসাইন জিহাদ তার কাব্যগ্রন্থ “তুমিহীনা বন্ধা সময়” বইয়ের উৎসর্গের দুটি লাইন নির্মল ভালবাসার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। ধ্যানে-জ্ঞানে লালন করা প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি কবিতার ভাষায়। কবি সেখানে লিখেছেন; “নিমগ্ন রাত্রিতে নীলিমা ছোঁয়ে যার সুরম্য সরলতা আমার প্রার্থনার বন্দরে ছড়িয়ে দেয় মোহন-স্বর্গীয় শোভা”
এ কথাটির ব্যপকতা কত গভীর! তা বিশ্লেষণ করা আমার মতো পাঠকের জন্য সত্যিই দূরহ ব্যপার । এত উচুঁ মানের কথা!বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসার ভক্তিপূর্ণ এমন আবেগমাখা লেখনি এর আগে কোন লেখকের লেখায় আমি দেখিনি।

সৃষ্টিকর্তা আমাদের যা দান করেছেন তার সর্বোচ্চ উপহার হলো মা-বাবা। বাবা মানে মাথার উপর একটি সুবিশাল বটগাছ, যার সুশীতল ছাঁয়ায় আমরা নিশ্চিন্তে আয়েশে জীবন অতিবাহিত করতে পারি। বাবার কোন সংজ্ঞা হয় না,বাবার কোন বর্ণ হয় না,তবে বাবা শব্দের অর্থ হয়। অনিশ্চয়তার মাঝে বাবা মানে পরম নিশ্চয়তা। যিনি নিজের সূখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যান। যিনি আমাদের প্রর্থনার বন্দরে মোহন সর্গীয় শোভা ছড়িয়ে সৃষ্টকর্তার সান্নিধ্যে পৌঁছানোর সোপান তৈরী করে দেন তিনি বাবা।

স্মৃতির পাতায় অম্লান আমাদের অতীত।স্মৃতি মানুষের জীবনের এক আশ্চর্য বাস্তবতা। প্রত্যেক মানুষেরই স্মৃতির পাতায় জমে থাকে অনেক না বলা কথা। অনেক ভালো লাগা, অনেক কষ্ট-বেদনা, দুঃখ-যন্ত্রণা সবসময়ই স্থান করে নেয় প্রতিটি মানুষের স্মৃতির পাতা। সবারই রয়েছে জীবনভর নানারকম স্মৃতি। জীবনের যে কোনো বয়সে এসে স্মৃতির পাতা হাতড়ে বের করা যায় এমন অনেক মুহুর্ত যা এক মূহুর্তের জন্য মুখে এক চিলতে হাসির কারণ হয়ে যায়। আবার এমন অনেক মূহুর্ত স্মৃতির পাতায় বন্দী হয়ে রয় যেগুলো নিমিষেই হাসিখুশি মনটাকে করে দিতে পারে বর্ষার মেঘের মতোই মলিন।
স্মৃতির পাতায় কবি লিখেছেন,
তোমার স্মৃতি ধারালো চাকুর আঘাতে প্রতি নিশীথেই হাসিমুখে খুন করছে আমাকে,আর আমি বিষন্নতার তীরভাঙ্গা ঢেউয়ে ভেসে চলেছি
গন্তব্যহীন ভবঘুরে।

প্রেম আর দ্রুহের সম্বিলনে অনবদ্য এক সৃষ্টি কবি লিটন হোসাইন জিহাদের তুমিহীনা বন্ধা সময়। যেখানে কবি প্রথাগত প্রেমের বিষোদগার করেছেন। সমাজে চলমান আধুনিকতার নামে বেহায়াপনাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। মানুষ নামধারী পশুদের কর্মকান্ডে তিনি বিস্ময়াভিভূত হয়েছেন,তিনি লিখেছেন ;
“মায়াবী শরীরে বেশ্যা মানচিত্র এঁকে
তোমরা যখন বিজয়ের হাসি হাসো
আমি তখন গাধার চোখে বিষ্ময় অশ্রু দেখতে পায়।

প্রেম একটা সম্পর্কের গভীরতম নির্যাস। কিন্তু সে প্রেম এখন বাজারের সস্তা কোন পন্যের মতই। প্রমের মোহে অন্ধবিশ্বাসী নারী প্রেমের ছদ্মাবরণে কপট পুরুষের লালসার স্বীকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে হচ্ছে দিকভ্রান্ত দিশেহারা। সেখানেও কবি মনের খেদ নিয়ে লিখেছেন;
ধূসর জীবন অভিঘাতে কনক্রিট জঙ্গলে হারায় সম্পর্ক, বড্ড খাপছাড়া সূখের নেশায় মাতাল দুনিয়া। প্রেমের জঠরে জন্ম নিচ্ছে খুনি,ধর্ষনে হচ্ছে মাখামাখি;রাতের আধারে সম্ভ্রম হারাচ্ছে প্রেম।

একটা জাতির আসল পরিচয় হলো সংস্কৃতি-কৃষ্টি। যে জাতির সংস্কৃতি যত বেশি সমৃদ্ধ,সে জাতি তত বেশি উন্নত। জাতি হিসেবে আমাদের রয়েছে হাজার বছরের সংস্কৃতির ঐতিহ্য। মা-মাটি ও মানুষের কৃষ্টি-কালচারে সমৃদ্ধ জাতি হয়েও আমরা মনের অজান্তে ক্রমান্বয়ে বিজাতীয় সংস্কৃতিতে হারিয়ে যাচ্ছি। জারি-সারি,মুর্শিদী-ভাটিয়ালী, হাছন-লালন,কানাই-নজরুল,আলিম-আব্বাস,শিল্পাচার্য জয়নুলের দেশে এখন বিজাতীয় সংস্কৃতির রমরমা প্রসার। দেশের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতি ছেড়ে অপরের সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে জাতিকে আমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি?
বিজাতীয় আগ্রাসনে বাঙ্গালী আজ দ্বিধাবিভক্ত। বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি আজ ভূলুণ্ঠিত। দেশ প্রেমের এক করুন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন তিনি তার কবিতায়। এখানে দ্রুহের কবি লিটন হোসাইন জিহাদ লিখেছেন;
“শতাব্দী ধরে শকুনের বিষাক্ত থাবা, বিশ্বাসের শেকড়ে প্রতিনিয়ত ঢেলে দিচ্ছে মরণ বিষ; সমস্ত মানচিত্র ঘিরে বিজাতীয় মহামারী, আজ রক্ত কনিকায় বাড়িয়ে দিয়েছে মেদ”

সোপান স্যার যথার্থই বলেছেন; “মনের মাপে কবিতা পরিমাপ করতে হয়, ভালোবাসার দাসত্বে পরাজিত মন নানাভাবে প্রকৃতির নিগূর রুপে কবিতায় আশ্রিত হয়”

কবি লিটন হোসাইন জিহাদ তার মনের ক্যানভাসে আঁকা কথামালা দিয়ে যেভাবে কবিতাগুলো সাজিয়েছেন ” তুমিহীনা বন্ধা সময়” বইয়ে,তাতে তার কাব্য শিল্পের শিল্পগুন প্রকাশিত হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। বিজ্ঞমহল এর স্বীকৃতি দিবেন আশা করি।

বহুপ্রতিভার প্রতিভাধর এই তরুন কবি, পূন্যভূমি সিলেটের অন্তর্গত হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলাধীন কামালপুর নামক এক অবহেলিত জনপদে জন্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার পারিবারিক আবহ। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘পথিক নিউজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথম আইপি চ্যানেল পথিক টিভির সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন। সকালের আলো দৈনিক পত্রিকার জেলা প্রতিনিধির দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর এই কবি লিটন হোসাইন জিহাদ আইন পেশায়ও নিয়োজিত আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জজ কোর্টে।

তুমিহীনা বন্ধা সময় কাব্যগ্রন্থ কবির দ্বিতীয় পান্ডুলিপি এবং প্রথম প্রকাশিত কবিতার বই। বইটি সারা দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইন মার্কেট প্লেস রকমারি ডটকমেও বইটি পাওয়া যাবে।

  • 31
    Shares