643 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

থেমে যাচ্ছে ’’হৃদয়ের” হৃদয় স্পন্দন ভিটেবাড়ী বিক্রি করে নিঃস্ব হৃদয়কে বাঁচাতে এখনো প্রয়োজন ১২ লাখ 

  • 63
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    63
    Shares
মানিক ঘোষ: দিন যতই পার হচ্ছে বুকের ধন হৃদয় ক্রমশ অসুস্থ’ হয়ে পড়ছে। চোখের সামনেই তার জীবন প্রদীপ নিভতে বসেছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন তার দুটি কিডনিই প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। আপাতত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্ত পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের কারও গ্রুপের সঙ্গে মিল না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এখন কিডনি কেনার কোন বিকল্প নেই। যার জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১২ লক্ষ টাকা। কিন্ত কোথায় পাবেন এতো টাকা। ইতোমধ্যে শেষ সম্বল বসতভিটেটাও বিক্রির মাধ্যমে সন্তানের চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন। এখন মানুষের কাছে হাত পেতে ৮ হাজার টাকা খরচে সপ্তাহে ২ দিন ডাইলোসিস করে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বাবা মায়ের মনে সব সময় সঙ্কা প্রিয় সন্তানের জীবন প্রদীপ কখন জানি নিভে যায়। টাকার অভাবে চোখের সামনেই সন্তানকে হারিয়ে ফেলবেন কোন বাবা মায়ের পক্ষেই এটা সহ্য করা সম্ভব না। কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন বাবা মহিন্দ্রনাথ দাস। সাথে সাথে সন্তানের পাশে বসে অঝোরো কাঁদছেন মা কমলা দাসও। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহের মহারাজপুর ইউনিয়নের বড় খড়িখালি গ্রামে। হৃদয় দাস বিষয়খালী এস এম স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্র।
হৃদয়ের মা কমলা দাস জানান, ৩ বছর আগে হঠাৎ জ্বরে হৃদয় অসুস্থ’ হয়ে পড়ে। সে সময়ে স্থানীয় চিকিৎসক দেখানোর পর জ¦র ও ব্লাড পেসার নিয়ন্ত্রন করা যায়নি। ক্রমেই অসু¯’তা বাড়তে থাকে। এ সময়ে বাধ্য হয়ে ধারদেনা ও একমাত্র সম্বল বসতবাড়ি ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের ভেলরে নিয়ে যান। তখন পরীক্ষা নিরীক্ষায় কিডনির কোন জটিলতা ধরা পড়েনি। সেখানে ১ মাস চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর ২ বছর পরে হৃদয় আবার অসু¯’ হয়ে শরীর ফুলে পড়তে থাকে। এরপর ধারদেনা করে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরীক্ষা নিরীক্ষায় চিকিৎসক নিশ্চিত হয়েছেন হৃদয়ের দুটি কিডনিই ড্যামেজ। তাকে বাঁচাতে হলে জরুরীভাবে কমপক্ষে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। যেখানে কমপক্ষে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এখন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলা ছাড়া অর্থ ব্যয় করার মত কোন সামর্থ তাদের নেই।
বাবা মহিন্দ্রনাথ দাস জানান,বিশিষ্ট কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে হৃদয়ের পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে জানিয়েছেন হৃদয়ের দুটি কিডনিতেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সু¯’ রাখতে হলে সপ্তাহে ২ দিন কিডনি ডাইলোসিস করে  কিডনি সচল রাখতে হবে। সাথে সাথে জরুরীভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। এখন হৃদয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিবেশিসহ স্বজনরা সাধ্যমত সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছেন। তাদের দেয়া আর্থিক সহযোগীতায় প্রতি সপ্তাহে যশোর ইবনে সিনা হাসপাতালে ডায়লোসিস করানো হচ্ছে।
হৃদয় জানায়, তার কিডনি সমস্যায় অসু¯’ হয়ে পড়াতে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারকে ভিটে বাড়ী পর্ষন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। সে আরও দশ জনের মত বাঁচতে চায়।
হৃদয়ের আত্বীয় মানিক কুমার জানান, হৃদয়ের বাবা একজন গ্রাম পুলিশ। সামান্য বেতন দিয়ে ৫ সদস্যের সংসারে অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। বড় ছেলে সেলুনে কাজ। ছেলের চিকিৎসায় বসতভিটে বিক্রি করে দিলেও বর্তমান বাড়ির মালিক মানবিক কারনে তাদেরকে থাকতে দিচ্ছেন। এখন কিভাবে ছেলের কিডনির জন্য ১২ লাখ টাকা জোগাড় করবেন সে চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। এমন অবস্থায় সন্তানকে বাঁচাতে হৃদয়ের বাবা প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
মহারাজপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, হৃদয়ের পরিবারটি খুবই দরিদ্র। তার বাবা মহিন্দ্রনাথ দাস তারই পরিষদে দীর্ঘদিন গ্রাম পুলিশের চাকুরী করছেন। ছেলের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে বসতবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছেন। তারাও সাহায্য সহযোগীতা করছেন। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য এতো টাকা জোগাড় করা সর্বস্ব হারানো এ পরিবারটির পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান তিনি।
  • 63
    Shares
  • 63
    Shares