334 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

দানবীর লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও তার পরিবারের কথা।

  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares

পথিক রিপোর্ট: ইতিহাস ঐতিহ্যের লীলাভুমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া।এ জেলাটি বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করেই দাঁড়িয়ে আছে তার মানববিক কাজের জন্য।বর্তমান সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায মানবিক ও জনসেবার এক উল্লেখ্যযোগ্য নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও।

শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নয় সারা বাংলাদেশে বংশ পরস্পরায় যে সব পরিবার সমাজ রাষ্ট্র ও দেশের উন্নয়নে নিঃস্বার্থ ভাবে নানামূখী সামাজিক সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে সু-খ্যাতি অর্জন করেছেন তাদের অন্যতম লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও ও তার পরিবার।

লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও’র পিতা প্রয়াত শেখ ইয়াকুব আলী ও তার মাতা দুজনই দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। পিতা-মাতার হাত ধরে তাদের পদাংঙ্ক অনুসরণ করে লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও মানব সেবায় জড়িত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে তাদের পুরো পরিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের ভক্ত অনুরাগী। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি স্ব-শরীরে অংশগ্রহন করেন। ১৫ই আগস্ট শহীদ বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ জামাল ও শেখ মারুফের সাথে ছিল তার গভীর বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বন্ধুত্বের টানে ও দেশ প্রেমে আর স্বাধীনতার মোহে তিনি জীবন বাজি রেখে ১৯৭১ সালের ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ৯ ঘটিকায় দেয়াল টপকে শেখ জামালকে মুক্ত করে তার ঢাকাস্থ শুক্রাবাদের বাসায় নিয়ে আসেন। তার পর দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে শেখ জামালকে নিজের গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে যান। বাড়ীতে ৫ দিন অবস্থানের পর আখাউড়য়ার মনিয়ন্দ বর্ডার হয়ে আগড়তলায় গমন করেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করার অপরাধে ও শেখ জামালকে আশ্রয় দেবার কারণে পাকবাহিনী ও আলবদর রাজাকাররা তাদের বাড়ী ঘর পুড়িয়ে দেয়। তার পিতাকে গুলি করে, চাচা শহীদ হন। এছাড়া ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর পরিবার নির্মম ভাবে নিহত হবার পর তিনি সাহসীকতার সাথে তার শুক্রাবাদের বাড়ীতে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের চেহলাম পালন করেন। তার এই সব কর্মকান্ড বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সকল সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অবগত রয়েছেন।

১৯৯০ এর গনআন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের নিবার্চনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পরাজিত হয়। যে কারণে দলীয় প্রধান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করতে মনস্থির করেন। সে সময় দলীয়ভাবে সবাই নীরব থাকলেও ফিরোজুর রহমান ওলিও ও তার পুত্ররা ৩২ নাম্বারে গিয়ে দলীয় সভানেত্রীর পদত্যাগের প্রতিবাদে তাদের কর্মী সমথর্কদের নিয়ে মিছিল করেন।

লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা সুলতানপুর ইউনিয়নবাসীর প্রাণের মানুষে পরিনত হয়েছেন। পর পর ৫ বার সর্বদলীয় ভোটারদের বিপুল ভোটে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান। দেশে যখন রাজনীতিতে দূর্বেত্তায়ন প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে তখন তিনি ও তার পরিবার সুলতানপুর ইউনিয়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি বরাদ্দের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পাকা রাস্তা,পুল,কালভাট নির্মাণ বিদ্যুৎতায়ন, ভৌত অবকাঠামো সংস্কার, পূণঃসংস্কার ও নির্মাণ অব্যাহত ভাবে চালিয়ে আসছেন বিগত ২৭ বছর ধরে। তিনি এলাকার শত শত গৃহহীন মানুষের ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। দুঃস্থ হতদরিদ্র ও আর্ত মানবতারসেবায় অন্ন, বন্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি, সেনিটেশন, বিবাহ সাদী ও এতিমদের সহযোগীতা অকৃপন চিত্তে করে আসছেন। তার ঐক্যান্তিক প্রচেষ্টায় সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুটি নিজস্ব ভবন নির্মিত হয়েছে। ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া জেলা ও সুলতানপুর ইউনিয়নবাসীর শিক্ষা স্বাস্থ্য প্রকল্পের অধীনে এফএম ফাউন্ডেশেনের উদ্যোগে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা সহ প্রতিষ্ঠা করছেন লায়ন ফিরোজুর রহমান রেসিডেন্সিয়াল একাডেমী।

এলাকায় ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তারে জগতসার গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘‘জগতসার এয়াকুবিয়া মাদ্রাসা’’। এছাড়া তার দান অনুদানে অনেক মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানা ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে থাকে। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি জড়িত রয়েছেন আর্ন্তজাতিক সেবা সংগঠন লায়ন্স ক্লাব এর সাথে।  ১৯৯৮-2000 লায়ন বর্ষে তিনি তার কার্মকান্ডের স্বীকৃত হিসাবে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় লায়ন জেলা ৩১৫বি-২ এর ভাইস গভর্ণর পর পর দুই বার নির্বাচিত হন।

সমাজ সেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন জাতীয় ভাবে অনেক দুর্লভ স্বর্ণপদক সম্মাননা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। নিঃসন্দেহে তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসীর জন্য গর্বের বিষয়। ।

লায়ন ফিরোজুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরী তার বড় পুত্র লায়ন শেখ ওমর ফারুক। পিতার মতই তিনি দৃঢ় অথচ শান্ত স্বভাবের সু-শিক্ষিত এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তার চলা ফেরায় নেই কোন অহংঙ্কার অথবা দম্ভ।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১১ নং সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর মনোনিত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে তিনি নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত হওয়ার পর নানা মূখী কর্মকান্ডের মাধ্যমে ইতি মধ্যে তিনি এলাকাবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সারা পৃথিবীর মানুষকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিয়েছে। লকডাউনে জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের শুরু থেকেই সাময়িক অভাব অনটনে পড়া কর্মহীন ঋষি, কামার, কুমার, বেঁদে, নরসুন্দর, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়সহ নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে উদার মানসিকতার অধিকারী মানবসেবক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চেয়ারম লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও সুযোগ্য সন্তান সুলতানপুর ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন শেখ ওমর ফারুক।

মহামারী করোনা ভাইরাস মহাসংকটকালীন দুর্যোগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা প্রদানে তিনি বিনামূল্যে ওষধ নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন সারা জেলা।সুলতান পুর ইউপিরে বিভিন্ন এলাকায়  জীবাণুনাশক স্প্রে করা থেকে শুরু করে  করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার করা সহ এলাকায় খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন প্রতিদিন, দুর্যোগকালীন সময়ে পবিত্র রমজান মাসে 107টি মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন ও স্কুল ও কিন্ডার গাটেনের স্কুল শিক্খদের দের মাঝে আর্থিক সহায়তা সহ  অভাবগ্রস্ত রোজাদারদের হাতে খাবার বিতরণ ও পবিত্র ঈদুল ফিতরে অসহায় পরিবারদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান মানবিক সেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ মো: ওমর ফারুক।

ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া জেলার সুলতানপুরের অধিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি গর্ব বোধ করেন। পিতার মত তার রাজনীতির আদর্শ দেশ প্রেম ও নিঃস্বার্থ মানব সেবা। প্রতি বছর ২৬শে মার্চ জাতীয় স্বাধীনতা দিবস, ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৬ই ডিসেম্বর জাতীয় বিজয় দিবস, এই জাতীয় দিবসগুলো তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে পালন করা হয়। পিতার হাত ধরে তিনি জড়িত রয়েছেন আন্তর্জাতিক সেবা সংগঠন লায়ন্স কাব অব ইন্টারন্যাশনাল এর সাথে। তিনি লায়ন্স কাব অব কসমোপলিটন ডিস্টিক ৩১৫ বি২ এর রিজিয়ন চেয়ারপার্সন। ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয় তথা সুলতানপুর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে তিনি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘‘ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া গ্যাস বিদ্যুৎ ও সড়ক কল্যাণ সমিতি’’ । এ সংগঠনের মাধ্যমে জেলা ও সুলতানপুর ইউনিয়নবাসীর গ্যাস বিদ্যুৎ ও সড়ক সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন প্রচার প্রকাশনা র‌্যালি ও জনসচেতনতা মূলক প্রচারনা চালিয়ে আসছেন। এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুলতানপুরে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এলাকার বহু হত দরিদ্র ভূমিহীনদের জমি দান করে বসতবাড়ী নির্মাণ করে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শেখ ফয়জুর রহমান ওলিও মসজিদ ও মক্তব। এলাকাবাসীর স্বার্থে ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে ১২ বিঘা জমির উপর কবরস্থান ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে। তার প্রয়াত নানার নামে ৩নং ওয়ার্ড উত্তর সুলতানপুরে মসজিদ নির্মাণাধীন রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী রোমানা জাহান ও দুই পুত্র শেখ ফয়েজুর রহমান আরাফ (এল এলবি অনার্স অধ্যয়নরত) ও শেখ ময়েজুর রহমান দানিয়াল এবং মেয়ে শেখ জাফরিন । তার শ্বশুর ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ শাহজাহান মিয়া । তিনি ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া সদর উপজেলা পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

জনসেবার পাশাপাশি পরিচালনা করছেন এফ আর গ্রুপ ,সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ,এস বি এল ক্যাপিটেল মেনেজমেন্ট লিঃ,হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল,আরাফ দানিয়েল ডি ওলিও সেন্টার সুলতানপুর,-ওলিও ফিলিং ষ্টেশন আহরন্দ,এছাড়াও স্পন্সর শেয়ার হোল্ডার – ষ্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিঃ ঢাকা,  ম্যানেজিংডিরেক্টর  রোমানা ফিলিং ষ্টেশন সুলতানপুর বি-বাড়িয়া।

আমৃত্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া মানুষের পাশে থেকে মানবিক কাজের অগ্রনী ভুমিকা রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসীর দোয়া ও রায় প্রত্যাশী লায়ন শেখ ওমর ফারুক।

  • 11
    Shares
  • 11
    Shares