1324 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ইমামে আহলে সুন্নাত কাযী নুরুল ইসলাম হাশেমী চিকিৎসা বঞ্চনার স্বীকার।

  • 746
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    746
    Shares

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ-

সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের দাবি আহলে সুন্নাত সমন্বয় কমিটির।

প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম এ মতিন

————————————————————–

অতিতের মত এই কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। করোনা সন্দেহে নানান রোগে অাক্রান্ত সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দেওয়ার ঘটনাও প্রতিনিয়ত ঘটছে। বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুবরণের অভিযোগ ও রয়েছে। আজ ১ জুন’২০ সোমবার সকালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম এ মতিন এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোন রোগী দেখলেই হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি না করানো এবাং চিকিৎসা না দেওয়ার এই প্রবণতা কোনও সুস্থ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার লক্ষণ নয়। আমরা বুঝতে পারছি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। তাদের এই নিরাপত্তাহীনতা এতটাই প্রকট যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন, এমন রোগীরাও হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রবীণ আলেম, উস্তাজুল উলামা, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাযী নুরুল ইসলাম হাশেমী (ম.জি.আ.) সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত রোগে অসুস্থতা পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ডেলটা ও মেট্রোপলিটন হসপিটালসহ বেসরকারী ক্লিনিক-হসপিটালে দীর্ঘ ৪ঘন্টা অপেক্ষামান রেখেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইমামে আহলে সুন্নাত কাযী নুরুল ইসলাম হাশেমীকে ভর্তি করেননি। অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ বার বার অনুরোধও ওইসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অগ্রাহ্য করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ ধরণের অাচরণ চরম অপেশাদারপূর্ণ ও নিন্দনীয়। দেশসেরা সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন আলেমের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যদি এহেন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ জনগণের সাথে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা সহজে অনুমেয়। তাই আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত বেসরকারি হসপিটাল গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ তাদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

এম এ মতিন আরো বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করাও অধিক গুরূত্বপূর্ণ। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বজুড়েই এখন হাহাকার। এমতাবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ফিরিয়ে দিলে রোগীরা কোথায় যাবে। তাছাড়া এসব হাসপাতাল গুলো মুমূর্ষু রোগীকে ফিরিয়ে দিয়ে কীভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে। দেশবাসী এই প্রশ্নের উত্তর জানার পাশাপাশি দ্রুত এই অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধের বিচার দেখতে চাই। তিনি এসব অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কে আহবান জানিয়েছেন। দেশের এমন পরিস্থিতিতে এসব হাসপাতাল কেন এতটা দায়িত্বহীন, সেটা জানা দরকার। সেইসাথে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো কেন তাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিইসহ সুরক্ষা উপকরণ দিচ্ছে না, সেই জবাবদিহিতাও প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা উপকরণ যেমন ভাবে সরকার দিচ্ছে, দেশের জনগণের সুচিকিৎসার নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জামও ঠিক তেমনি ভাবে সরকারকেই দিতে হবে। প্রতিটি রোগীর চিকিৎসায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সুরক্ষিত হয়ে যেন চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসতে পারে সরকার কে এও দেখতে হবে। একই সাথে সরকারের নিকট তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমানে করোনা চিকিৎসায় যেসব ডাক্তার-নার্স, পুলিশ প্রশাসনসহ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদেরকে যথাযথ পুরস্কৃত করতে হবে। তেমনি, যারা অপেশাদার অাচরণ করছে তাদেরকে কঠোর শাস্তি আওতায় আনতে হবে।

 

  • 746
    Shares