254 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

দৌলতদিয়ায় ঘাট থেকে ঘাটে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত যাত্রীরা

  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    21
    Shares

ঈদ শেষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হতে শুরু করেছে। আজ সোমবার সকাল থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সঙ্গে এসব মানুষের ভিড় ধীরে ধীরে বাড়ছে। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রীদেরও ফেরিতে আসতে দেখা যায়।

ঢাকামুখী যাত্রীদের প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঘাটে ফেরি ভেড়ানো থাকলেও এ–ঘাট থেকে সে–ঘাটে দৌড়াতে দৌড়াতে তাঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। আজ সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঘাটে অপেক্ষা করে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

যশোরের মনিরামপুর থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে পরিবারের সবাই মিলে ঢাকা যাচ্ছিলেন বাপ্পি শেখ। প্রথমে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রী দেখে তাঁরাও প্রবেশ করেন। এ সময় কেউ তাঁদের কোনো ধরনের দিকনির্দেশনা দেয়নি। কিন্তু ৫ নম্বর ঘাটে ভেড়ার পর তাঁদের স্থানীয় ফেরির স্টাফরা জানিয়ে দেন, ৩ নম্বর ঘাটে সিরিয়ালে থাকা রো রো শাহ আলী আগে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

এরপর আরেকটি রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান। তারপর ৫ নম্বর ঘাটে থাকা রো রো ফেরি ছেড়ে যাবে। স্টাফদের কাছ থেকে এমন কথা শোনার পর তাঁরা ৩ নম্বর ঘাটের উদ্দেশে রওনা করেন। কিন্তু এ ঘাটে অনেক যাত্রী এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন যানবাহনের ভিড়ে ফিরে যেতে অনেক বেগ পোহাতে হয়।

এ সময় বাপ্পি শেখ অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, জিরো পয়েন্টে বা ৫ নম্বর ঘাটের শুরুতে যদি তাঁদের লোকজন দিকনির্দেশনা দিত, তাহলে এত মানুষকে এই প্রচণ্ড রোদ আর গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ৫ নম্বর ঘাটে আসা কয়েকজন যাত্রী ও অন্যান্য যানবাহনের চালক।

৩ নম্বর ঘাটে পৌঁছার আগে ফেরি ছেড়ে দেওয়ায় আরেক ভোগান্তিতে পড়েন কুষ্টিয়া থেকে আসা সুজন সাহা নামের তরুণ। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়া থেকে একটি মাহেন্দ্র রিজার্ভ করে আমরা কয়েকজন দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছাই। ৫ নম্বর ঘাটের কাছে মাহেন্দ্রটি নামিয়ে দেয়। অন্যদের ঘাটে অপেক্ষমাণ ফেরিতে উঠতে দেখে নেমে পড়ি। পরে শুনি, এ ঘাট থেকে ফেরি ছাড়বে না। ৩ নম্বর ঘাটে থাকা ফেরি ছাড়ার সিরিয়াল রয়েছে। কথামতো দ্রুত ৩ নম্বর ঘাটে পৌঁছোতেই দেখি ফেরিটি ছেড়ে যাচ্ছে। ৫ নম্বর ঘাট থেকে ৩ নম্বর ঘাটের দূরত্ব কয়েক শ মিটার। প্রখর রোদ আর গরমের মধ্যে এত আপডাউন করা যায়? এটা অবশ্যই ঘাটসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা গাফিলতি ছাড়া কিছুই নয়।’

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে আসা ফেরিতেও যানবাহনের সঙ্গে এখনো লোকজনকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যেতে দেখা যায়। পাটুরিয়া ঘাট থেকে সকাল নয়টার দিকে ছেড়ে আসা রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানে ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে কিছু মোটরসাইকেল ও যাত্রী দেখা যায়।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা যাচ্ছিলেন মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি বলেন, বড় ভাই অসুস্থ। তাঁকে নিয়ে গতকাল রোববার ঢাকার সাভার গিয়েছিলাম। তাঁর কিছু জরুরি কাগজপত্র বাড়িতে রেখে এসেছি, তাই আজ আবার ফিরে এসেছি।’ করোনার মধ্যে এভাবে ভিড় সামলে ঢাকায় আসা–যাওয়া করায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আছে কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘অবশ্যই করোনার ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু কী করব? পারিবারিক ঝামেলা, বাধ্য হয়ে আসা–যাওয়া করতে হচ্ছে।’

ঢাকার এক আড়তদার করোনার সংক্রমণ এড়াতে ঢাকা থেকে প্রাইভেটকার ভাড়া করে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। পরে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ফেরিতে নদী পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়ায় পৌঁছে অপেক্ষমাণ পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে সাতক্ষীরা যাওয়ার কথা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাড়তি ঝামেলা এড়াতে তিনি বাধ্য হয়ে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত এসেছেন। এখানে গাড়িচালকদের সব বুঝিয়ে দিয়ে পুনরায় ঢাকায় ফিরে যাবেন। তবে এই আসা–যাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. ফিরোজ শেখ বলেন, ‘ফেরির সিরিয়াল আমাদের বিষয় নয়। এটা নিয়ন্ত্রণ বা সিরিয়াল ঠিক করেন ফেরির মাস্টাররা। যে ফেরি প্রথম ঘাটে ভিড়ে অপেক্ষায় থাকে, সিরিয়াল অনুযায়ী সেটিই আগে ছেড়ে যাবে। এরপরও লকডাউনের কারণে তো আমরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। যাত্রীরা যে যেভাবে পারছে, সে সেভাবেই ফেরিতে উঠে পড়ছে। এত মানুষের নির্দেশনা দেওয়া মুশকিল।’

 

  • 21
    Shares
  • 21
    Shares