294 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ধর্ষণ, সমাজের এক দুরারোগ্য ব্যাধি – রাবেয়া জাহান তিন্নি

  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    39
    Shares

আজ রাস্তার অলিতে গলিতে ধর্ষনের প্রতিবাদ। ধর্ষকের মৃত্যুদন্ডের দাবিতে রাজপথ সরব হয়ে উঠেছে। ধর্ষকের সর্বেোচ্চ

শাস্তি মৃত্যুদন্ডের দাবি স্বার্থক তো হয়েছে, কিন্তু এই স্বার্থকতা ধর্ষণ কতোটা কমাবে , তা কি আমরা সুক্ষভাবে ভেবে দেখেছি ? যারা ধর্ষণ করে , তারা বিকৃত রুচি এবং বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী। সচেতন নাগরিকের মধ্যে হয়তো খুব কম সংখ্যক পুরুষই আছে , যারা ধর্ষণের মতো এতো জঘন্য এবং পাশবিক কাজ করে থাকে। তাই ধর্ষণের শাস্তি শুধু মৃত্যুদন্ড করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাছাড়া আমরা সবাই জানি,নানান কারণেই আইনের সঠিক প্রয়োগ হয় না। বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে ,, তিনভাগের একভাগ প্রকৃত ধর্ষিতা নারী, ধর্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।আর অনলাইনে কিছু ধর্ষণ যখন ভাইরাল হয়ে যায়, তখন প্রকৃত ধর্ষক ধরা পরতে বাধ্য হয়।
প্রকৃতপক্ষে , যে ধর্ষিতা , সে অপেক্ষাকৃত দূর্বল এবং লজ্জায় কোনো কিছু প্রকাশ করতে চায় না। দেহের সম্ভ্রম হারালেও আত্মার সম্ভ্রম হারানোর ভয়ে কোর্টে উঠে ধর্ষকের বিচারের দাবিতে এতটা প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারে না। অথচ কোর্টে শত শত ধর্ষণের মামলা প্রতিনিয়তই দায়ের হচ্ছে। তাহলে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে, এসব মামলার বেশিরভাগই মিথ্যে , হয়রানিমূলক মামলা। এসব মিথ্যে মামলায় অভিযুক্ত পুরুষ যে কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত এবং লাঞ্চিত হচ্ছে তা বলে শেষ করার নয়। অন্যদিকে যারা প্রকৃত ধর্ষক, তাদের অনেকেই প্রভাবশালী আর তাদের উশৃঙ্খলতা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনো ধরনের ভয়, নীতিকথা তাদেরকে দমাতে পারে না।

ভাবার বিষয় হচ্ছে, ধর্ষণের মতো এমন অরাজকতা কেন সমাজে এতো ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে?  ধর্ষণ হওয়ার পেছনে কারণগুলো বিশ্লেষন করা প্রয়োজন। যে কোনো অপরাধ হলেই শুধু সরকারকে দূষ দেওয়ার প্রবণতা বাদ দিতে হবে। দেশটা আমাদের সকলের এবং দেশের সমস্যা সমাধানে আমাদেরকে সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করা উচিত।

একটা নিৎকৃষ্ট শ্রেণীর পুরুষের জঘন্য কার্যক্রমের জন্য গোটা পুরুষ জাতির প্রতিচ্ছবিকে শিশু এবং নারী মনে এতো বিভৎস রূপে স্থাপন করার কতটুকু যথার্থতা রয়েছে? পুরুষরা নারীদের থেকে আলাদা নয়, যুগে যুগে পুরুষরাই নারীদেরকে বিভিন্ন কুসংস্কার এবং কুপ্রথা থেকে রক্ষা করেছে। এই পুরুষই কোনো না কোনো নারীর ভাই, বাবা, স্বামী , সন্তান।
শুধু ব্যানার নিয়ে, মিছিল আর আন্দোলন করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যেখানে আন্দোলন করা প্রয়োজন, সেখানে আমরা নিরব থাকি, আর যেখানে নিজেদের হাইলাইট করার সুযোগ দেখি , সেখানে কোনো কিছু বিচার বিবেচনা না করেই আন্দোলন শুরু করি।
বর্তমানে নিজেদের প্রচার প্রচারণার কাজে আমরা সবাই অনেক বেশি সচেষ্ট। অথচ, একবার ও ভাবি না, দেশের ইজ্জত সমুন্নত রাখাও আমাদের দায়িত্ব। কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে যতোটুকু প্রচারণা আমরা করি , তার কিছুটা যদি অপরাধ নিয়ন্ত্রনে কাজ করে যেতাম , তাহলে অপরাধপ্রবণতা অনেকটাই কমে যেতো।
সর্বোপরি ,পুরুষ যেনো ধর্ষকে পরিণত না হয় সেই লক্ষ্যে সমাজকে  কাজ করে যেতে হবে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে ।

  • 39
    Shares
  • 39
    Shares