474 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ধূমপান সাস্থব্যাধী, প্রশান্তি নয়; প্রশান্তি একমাত্র আল্লাহ ইবাদতে।।তোফায়েল আহমেদ রায়হান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ কলাম: শব্দগত ব্যাখ্যায়🚭: ‘ধূম’ এবং ‘পান’ শব্দ দ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত ধূমপান শব্দটি। ধূম হলো ‘ধোঁয়া’। যেহেতু তামাক জাতীয় পদার্থের ধোঁয়া গ্রহণ করা হয় বা পান করা হয় সে হিসেবে ধূমপান শব্দটি গঠিত।‌

ধূমপানের ইতিহাস🚭:ইউরোপিয়ান বিখ্যাত নাবিক ও আবিস্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাস প্রথম তামাক গাছ দেখেন। ১৪৪২সালে কলম্বাস যখন সান সাললভাদরে গিয়ে পৌঁছান তখন সেখানকার অধিবাসীরা মনে করেছিল কলম্বাস ঈশ্বর প্রেরিত জীব। তাই তারা কলম্বাস কে উপহার স্বরূপ অনেক কিছু দেন এর মধ্যে শুকনো তামাক পাতা ছিল। অন্য উপহারগুলো নিলেও কলম্বাস তামাক পাতা গুলো ফেলে দিয়েছিল। ঠিক ঐ বছরই আরেকজন ইউরোপিয়ান ‘রদ্রিগো ডি যেরেয’ কিউবায় পৌঁছানো এবং তিনি প্রথম ইউরোপিয়ান হিসেবে প্রথম ধূমপান করেন। রড্রিগো নিজ দেশ স্পেনে গিয়ে জনসম্মুখে ধূমপান করলেন। মূলত তিনি মানুষকে চমকে দেয়ার জন্য ধূমপান করতেন। সে যখন ধূমপান করে নাক এবং মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের করত, তখন মানুষ ভাবতে লাগলো একটা মানুষ এটা কিভাবে করতে পারে। সকলে চিন্তা করলো তাকে হয়তো শয়তানে ভর করেছে। তাই রড্রিগো কে ৭ বছরের জেল দেয়া হলো। কারাগারে রড্রিগোর সাথে থেকে অনেক কয়েদি ধূমপান শুরু করে। এখান থেকেই মূলত তামাকের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর এর থেকে জন্ম হয় সিগারেটের। ১৮১৫ সালে সিগারেট অনেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

আমাদের যুব সমাজের ধূমপান করার কারণ🚭:বেশিরভাগ কিশোর ও যুবক সিগারেট খায় হতাশা, দুঃখ, কষ্ট ভোলার জন্য। অধিকাংশের অভিমত এটাই। কিন্তু কথা হচ্ছে আদৌ কি হতাশা, দুঃখ, কষ্ট লাঘব হয় ধূমপান করার ফলে। যদিও অনেক বুজুর্গ এবং সালাফগণ বলে গেছেন মানুষের মনে প্রশান্তি শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদতের মধ্যেই নিহিত। অনেক কিশোর যুবক ধূমপান করে থাকে শখের বসে। আবার কেউ কেউ মনে করে থাকে সিগারেট না খেলে স্মার্ট হওয়া যায়না। যদিও পৃথিবীর বুকে নবীর সুন্নত গুলোই হচ্ছে প্রকৃত স্মার্টনেসের পরিচায়ক। যাই হোক যারা সিগারেট খান তারা একদিন ঠিকই আফসোস করবেন। আফসোসের কারণটা অল্পস্বল্প আমরা অনেকেই জানি। তা সত্ত্বেও কিছুক্ষণ পর আফসোসের কারণ গুলো উল্লেখ করছি।তার আগে বলতে চাই হতাশা, দুঃখ, কষ্ট মানুষের জীবনে থাকবেই। এগুলো উপশম করার জন্য আমরা বই পড়তে পারি, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতে পারি, নবীর সুন্নত অনুসরণ করতে পারি, সর্বোপরি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদতে মগ্ন থাকতে পারি। তাহলে দেখবেন আল্লাহ অবশ্যই সাহায্য করবেন। কারণ আল্লাহই উত্তম সাহায্যকারী।

রাসায়নিক উপাদান💉🧪🌡️: ১৮২৮ সালের দিকে বিজ্ঞানীরা নিকোটিন আবিষ্কার করেন।এর আবিষ্কারের ফলে আমরা জানতে পারি নিকোটিন একটি মারাত্মক বিষ। আর সিগারেটের মধ্যে ৫৭ টি মারাত্মক রাসায়নিক উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে নিকোটিন একটি।প্রতি দুটি সিগারেটের মধ্যে যে পরিমান নিকোটিন থাকে তা যদি একটি সুস্থ মানুষের দেহে একবারে ইনজেক্ট করা হয় তাহলে সে মানুষ তখনই মারা যাবে।

আফসোস এর কারণ🎯☠️: ধূমপানের ফলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস। সাথে আরো সম্ভাবনা থাকে ক্যান্সার, যৌন অক্ষমতা, মানসিক চাপ, নিমোনিয়া, হৃদ-রোগ ইত্যাদি। গবেষণা থেকে জানা যায় যে ধূমপায়ীরা অপেক্ষাকৃত বেশি মানসিক চাপে ভোগেন। ধূমপানে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রোগের সম্ভাবনার সাথে সাথে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। অধূমপায়ীর তুলনায় ধূমপায়ীদের যৌন অক্ষমতা ভোগান্তির হার ৮৫ শতাংশ বেশি। উপরোক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি গুলোর মধ্যে যখন ধূমপায়ীরা পতিত হয় তখন তারা ঠিকই আফসোস করেন। কিন্তু ততক্ষণে হয়তোবা অনেকের ক্ষেত্রে অনেক দেরি হয়ে যায়। ধূমপানে কোন উপকার নেই কিন্তু বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি অবশ্যই আছে। তাই আসুন আফসোস এর আগে সচেতন হই। অহেতুক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ধূমপান ত্যাগ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ধূমপান থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন।
আমিন।

লেখক : তোফায়েল আহমেদ রায়হান