224 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

নওগাঁয় প্রথম দিনে ঢিলেঢালা লকডাউন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হওয়ার প্রেক্ষিতে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ঘোষিত লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ঢিলেঢালাভাবে শেষ হয়েছে । সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সকাল থেকে শতশত মানুষের পাশাপাশি শহরের বেশ কিছু মোটসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। পথচারীদের অনেককেই মাস্ক ছাড়াই চলাচল করেছেন।

গতকাল বুধবার (২ জুন) নওগাঁ জেলা প্রশাসন থেকে ১ সপ্তাহের জন্য সদর পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন, শ্রমিক সংগঠন থেকে লকডাউনের বিধি নিষেধ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা করা হয়েছে।

নওগাঁর সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ জানান, ঈদের আগে যেখানে শনাক্তের হার ছিল গড়ে ১৮ ভাগ। বর্তমানে সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ ভাগ শনাক্ত হচ্ছে। চলতি ৩ জুন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নওগাঁয় গত ২৪ঘন্টায় ১০৫ জনের পাওয়া করোনা নমুনার পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ২৩ জন । এ মাসে জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ১০১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ২৩৩৯ এবং মোট মৃত্য হয়েছে ৪৩ জনের। তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত সর্বমোট সুস্থ্য হয়েছেন ২০৩৫ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেনটাইনে রয়েছেন ১০৪ জন আর আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন ১৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১ জন।

লকডাউনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দোকানপাট ও হোটেল বন্ধ ছিল । তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত জনবল নিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

লকডাউনের সময় সব রকমের গণপরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশনা কার্যকর হলেও রিক্সা, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল চলাচল করেছে। তবে শহরের তাজের মোড়, মুক্তির মোড়, বালুডাঙ্গাসহ একাধিক স্থানে জেলা পুলিশের পক্ষে বসানো চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদের মূখে পরে অনেককেই পরতে হয়েছে । মোটরসাইকেল আরোহীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মামলাও দেওয়ায় হয়েছে । জেলা শহরের অধিকাংশ রিক্সা, অটোরিক্সা বন্ধ রাখায় লোকজনকে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে দেখা গেছে।

অপরদিকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত সকাল থেকে শহরের বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালালেও অধিকাংশ এলাকাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম দেখা যায়নি । ফলে শহরের অলিগলিতে মানুষের ভিড়, বিভিন্ন অজুহাতে বাড়ির বাহিরে মাস্ক ছাড়াই মানুষের যাতায়াত, অফিস ও জরুরী প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে চলাফেরাসহ ইত্যাদি কারণে লকডাউন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে ।

সচেতন মহল মনে করছেন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন কার্যত কার্যকর করতে কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এর সুফল পাওয়া যাবে না। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পরবে।

নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, প্রথম দিনে প্রশাসন কঠোর থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে অনেক লোকজন ঘরের বাহির হয়েছে। তবে প্রশাসনিক তৎপরতায় আগামীকাল শুক্রবার থেকে রাস্তাঘাটে লোকজন থাকবেন না বলে দাবি করেন।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম ) কেএম মামুন খান চিশতী জানান, লকডাউন ঘোষনার পর থেকেই সরকারের দির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া যারা যারা বাহিরে বে হচ্ছেন তাদের কঠোর ভাবে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য বলা অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়া যারা প্রয়োজন ব্যতিত যানবাহনে যাতায়াত করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি যাতা কেউ প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে বের না হয়। নিত্য প্রযোজনীয় দোকানপাট ছাড়া যেন অন্য কোন দোকানপাট না খুলে রাখে সেদিকেও বিশেষ নজরদারী রাখা হচ্ছে।

জানা গেছে, জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার পাশেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা । সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় নিমামতপুরে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। এ ছাড়াও নওগাঁ শহরে করোনা শনাক্তের হার বেশি হওয়ায় এই দুই এলাকায় লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ জানান, জেলা শহরের সঙ্গে বাকি ১০টি উপজেলার যোগাযোগ থাকায় নওগাঁ পৌরসভাতেও সংক্রমণ বেড়েছে যার কারনে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ৭দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। লকডাউন কার্যকর করতে তিনিসহ (ডিসি) প্রশাসন মাঠে আছে। বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে । শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গতবারের চেয়ে বর্তমানে খুব ভালো ভাবে লকডাউন কার্যকর ভাবে চলছে বলে এমনটি দাবি করেন জেলা প্রশাসক।