322 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

নরসিংদীর আলোকবালীতে দুপক্ষের সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধ।

মোঃ ফারদিন হাসান দিপ্তঃ নরসিংদীর চরাঞ্চলের আলোকবালীতে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (১৬ মে) সকালে আলোকবালী ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ আলী ও অন্যটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী। স্থানীয়রা জানান, এই দুইটি পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান।

সংঘর্ষের সময় দুপক্ষের গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন, আসাদ আলী পক্ষের আনিছ মোল্লা (৫০), সাদেক মোল্লা (২৮), আমির মোল্লা (২৫), মো. হিমেল (২৮) ও মো. তপন (২০)। অন্যদিকে আইয়ুব আলী পক্ষের আমির হোসেন (৩৫), মনির মিয়া (২৯), মো. আসাদ (২৫) ও সজল মিয়া (৪৫)। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত এই ৯ ব্যক্তিকে নরসিংদী শহর ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ আলী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীর বিরোধ দীর্ঘদিনের। গত এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় বাজারের একটি দোকানের দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরেই ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জের ধরে আজ সকালে দুই গ্রুপই আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া কিছু বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজী সরকার জানান, গুলিবিদ্ধ দুজন ব্যক্তিকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের একজনের শরীরে পাঁচটি ছিটাগুলি ও একটি বুলেট পাওয়া গেছে। আমরা তাদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ আলী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীর বক্তব্য জানতে তাদের মুঠোফোনে অন্তত ১০ বার করে কল দিয়ে প্রতিবারই তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী জানান, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঠিক কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে তাৎক্ষনিকভাবে তা জানাতে পারেননি তিনি।

[Sassy_Social_Share total_shares="ON"]