পুনঃভর্তি ফি নিষিদ্ধ, আর্থিক স্বচ্ছতায় নতুন নীতিমালা জারি

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে
পুনঃভর্তি ফি নিষিদ্ধ, আর্থিক স্বচ্ছতায় নতুন নীতিমালা জারি

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক অনিয়ম রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ শিরোনামের এ নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ভর্তি হওয়া কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না।

সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নীতিমালাটি জারি করে। এতে বলা হয়েছে, বেসরকারি স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কেবল নির্ধারিত ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী ফি নেওয়া যাবে। এর বাইরে নতুন কোনো খাত তৈরি করে অর্থ আদায় নিষিদ্ধ।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ বাধ্যতামূলক। প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হবে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে। আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর।

পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর্থিক অনিয়মের দায়ে সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান যৌথভাবে দায়ী থাকবেন—এ কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে।

আয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলতে হলে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংককে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ফি, দান-অনুদান বা সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত সব আয় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব অথবা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (SPG) কিংবা সরকারি মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।

জরুরি প্রয়োজনে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নগদ অর্থ নেওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থ দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত খাতে আদায়কৃত অর্থ যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ পদক্ষেপকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা জোরদারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, মাঠপর্যায়ে এই নীতিমালার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়।