152 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

পৃথিবীকে বাঁচাতে ১১ বছর বয়সী বালকের দুঃসাহসিক অভিযান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পথিক রিপোর্ট: জুড ওয়াকার, ১১ বছর বয়সী ব্রিটিশ বালক। পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ মোকাবেলায় ‘কার্বন ট্যাক্স’ প্রবর্তনের পক্ষে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য উত্তর ইংল্যান্ড থেকে লন্ডনে ওয়াকিং অভিযানে (হেঁটে পথ পাড়ি দেওয়া) নেমে পড়েছেন।

এর আগে আরও কয়েকটি দুঃসাহসিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ থেকে অনু্প্রেরণা নিয়ে এই সচেতনতামূলক কাজে নেমে পড়েছেন ব্রিটিশ এই বালক। ওয়াকার ইয়র্কশায়ারের হেবডেন থেকে হাঁটা শুরু করেছেন। দুর্গম পাহাড়, বৃষ্টি এবং কঠিন পথ অতিক্রম করে ২১০ মাইল পাড়ি দিয়ে তিনি সেন্ট্রাল লন্ডনের ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পৌঁছাতে চান।

চলতি মাসে জাতিসংঘের একটি ক্লাইমেট প্যানেল থেকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব জলবায়ুর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হজম করছে।

বিশ্বেনেতারা কিংবা বিনিয়োগকারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ওপর আস্থা রাখেন। কিন্তু কে অর্থ দেবে, কারা সেই অর্থ ব্যয় করবে ইত্যাদি নিয়ে নানা বিভাজন ও বিভ্রান্তি রয়েছে তাদের মধ্যে।

জুড ওয়াকার পরিষ্কার ধারণা দিতে চান যে, ‘কার্বন ট্যাক্স’ আরোপই পারে কার্বন নির্গমণ কমিয়ে বিশ্বকে মানুষের নিরাপদ বাসস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে। বর্তমান বিশ্বকে তিনি বিপর্যয় ও বৈষম্যের বিশ্ব বলে অভিহিত করেছেন।

লন্ডনের ৫০ মাইল উত্তরে ওবান স্যান্ডসের ওপর দিয়ে চলার সময় ওয়াকার রয়টার্সকে বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে এখন সবাই জানি। আমি মনে করি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার সমাধান করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর ‘কার্বন ট্যাক্স’ আরোপ একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।

কার্বন নির্গমণকারী দেশগুলোর ওপর এই ট্যাক্স আরোপ করা হবে। তিনি কার্বন ট্যাক্সের আবেদনে জনগণের স্বাক্ষর গ্রহণ করছেন। বর্তমানে ৫৭ হাজার মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাক্ষর দিয়েছেন। এক লাখ স্বাক্ষর সম্পন্ন হলে তবেই বিষয়টি পার্লামেন্টে তর্কের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে।

এক প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেন জানায়, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে দুষণকারী দেশগুলো প্রতিশ্রতি দিয়েছিল। তারা অঙ্গীকার করেছিল কার্বন নির্গমণের জন্য অর্থ পরিশোধ করবে।

ওয়াকার বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি ইতোমধ্যে বিশ্ববাসীর সামনে দৃশ্যমান। আগামীতে বিশ্ব যাতে আরও বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে না পড়ে, সেজন্য কিভাবে অবস্থার পরিবর্তন করা যায় তা নিয়ে বিশেষভাবে ভাবতে হবে।

ওয়াকার প্রতিদিন ১০ মাইল হাঁটছেন। প্রতিদিনের ভ্রমণে তার সঙ্গে তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা থাকছেন। শনিবার সেন্ট জেমস পার্কে তিনি তার পদচারণা অভিযান শেষ করতে চান।

আগামী নভেম্বরে স্কটল্যান্ডে হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ-২৬’। এই সম্মেলন সামনে রেখে ওয়াকার দেশগুলোকে কার্বন নির্গমণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ওয়াকার মনে করেন, সম্মেলনে যদি এবারও কোনো কার্যকর পরিকল্পনা হাতে না নেওয়া হয়, তাহলে মানুষের জন্য বিশ্ব হবে একটি বিপর্যয়কর স্থান।

এইচ.কে.জে