656 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

প্রজন্মের ভাবনায় “বঙ্গবন্ধু” —- শাহনেওয়াজ উজ্জ্বল শিশির

  • 214
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    214
    Shares

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বয়স এখন ঊনপঞ্চাশ । এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। আর এই এগিয়ে যাবার পেছনে অন্যতম প্রধান শক্তি হচ্ছে তরুণ সমাজ। তরুণদের উজ্জীবিত করার মাধ্যমে ঈর্ষণীয় এই অগ্রগতির মূলমন্ত্র শিখিয়ে গেছেন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান”।

তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মিশে আছেন। বর্তমান প্রজন্ম “বঙ্গবন্ধুর” অসীম সাহসিকতা, অসাধারণ নেতৃত্বের গুণাবলি, প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতায় দীক্ষিত। “বঙ্গবন্ধুর” আদর্শে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। এই এগিয়ে চলায় বাংলা ও বাঙালিকে উদ্দীপিত করছে তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। আর “বঙ্গবন্ধুর” আদর্শ, “বঙ্গবন্ধুর” স্বপ্ন।

তরুণ কবি ও লেখক,
শাহনেওয়াজ উজ্জ্বল শিশির এর কবিতায় বলেছেন,
তুমি “বঙ্গবন্ধু” তুমি শ্রেষ্ঠ!
তুমি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধার রক্ত ঝরা প্রাণ ”’
তুমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুমিষ্ট – ঘ্রাণ।
তোমার কথা রইবে সকল মানুষের মুখে মুখে হাঁক।
কারণ, তুমি দিয়েছিলে স্বাধীনতার ডাক।

“বঙ্গবন্ধু” যে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বারবার বলে গিয়েছিলেন, আমরা সেই মুক্তি অর্জনের পথে। “বঙ্গবন্ধু” প্রায় বক্তব্যে বলতেন, ‘দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে বেকার সমস্যা দূর করতে হবে। একটি দেশের সমস্যা এবং সম্ভাবনা দুটিই তরুণ সমাজের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে।

তরুণরা বেকার থাকলে তারা বিপদগ্রস্ত হয়, দেশের জন্য ক্ষতিকর বেকারত্বে পরিণত হয়। আর কোনো দেশের তরুণ সমাজ যদি কর্মঠ হয় এবং কাজের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ পায়, তাহলে ওই দেশের দ্রুত উন্নতি কেউ আটকাতে পারে না। তরুণদের দীপ্ত মেধা এবং সতেজ জ্ঞানের গতি এই সবুজ-শ্যামল বাংলাকে প্রকৃত সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করতে পারে।

তরুণ কবি ও লেখক শাহনেওয়াজ উজ্জ্বল শিশির এর ভাষায়,
“তোমার জন্য ফিরে পেলাম সবুজ শ্যামল দেশ,
গর্ব করে বলতে পারি আমরা স্বাধীন বেশ!

তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে নতুন পরিচয়ে পরিচিত। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশ হওয়ার পথে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি খাদ্য রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। পোশাক ও জনসংখ্যা রপ্তানিতে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে মডেল।

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানব উন্নয়ন সূচকের ক্রম অগ্রগতি, গড় আয়ু বৃদ্ধি বাংলাদেশকে নতুন রূপে পরিচিতি দিয়েছে। “বঙ্গবন্ধুর” সোনার বাংলা আজ আর শুধু সঙ্গীতে নয়, বাস্তবে রূপান্তরিত হচ্ছে।

“বঙ্গবন্ধু” শেখ মুজিবুর রহমান এক মহান মানবের প্রতিচ্ছবি। তিনি সৃষ্টিশীলতার আলো ছড়িয়েছেন সব ক্ষেত্রে। পৃথিবীতে খুব কম রাজনীতিবিদেরই এমন বিরল কৃতিত্ব রয়েছে। তিনি একটি দেশের স্থপতি। একজন মহান জননেতা। এর চেয়ে মহৎ কৃতি আর হতে পারে না।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু দেশের যে বড় বড় সমস্যার সমাধান শুরু করেছিলেন, তরুণদের কর্ম সমস্যা তার একটি। তরুণদের নিয়ে তার অনেক ভাবনা ছিল। তার সৃষ্টিশীল মেধা তরুণদের অল্প পুঁজি থেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছিল। তা যদি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতো, তাহলে আজ হয়তো বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতো।

যদি ১৫ আগস্টের ওই নির্মম হৃদয় বিদারক ঘটনার জন্ম না হতো।তবে আমরা বুঝতে পারতাম না রাজাকার বা দেশদ্রোহী কি? একজন নিষ্ঠাবান নেতার শত্রু হয় কারা?আমি মন থেকে আজ উচ্চ স্বরে বলবো, ইতিহাস থেকে কখনো “বঙ্গবন্ধুকে” সরানো সম্ভব নয়। ১৯৭৫ পরবর্তী সময় থেকে” বঙ্গবন্ধুকে” সরানোর নানা চেষ্টা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু নির্বাসনের পরিকল্পনা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এমন একজন ব্যক্তিত্ব, পাঠ্যপুস্তক কিংবা টিভির পর্দা থেকে সরিয়ে দিলেও, বাঙালির মানস জগত থেকে তাকে সরানো কখনো যাবে না। কথা গুলোর সহিত সকল বিশ্ব বাসী মনে প্রাণে একমত।

তরুণ প্রজন্ম “বঙ্গবন্ধুকে” শুধু ভালোবাসে-তাই নয়, তার জীবনের আদর্শকে অনুসরণ করে, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলার জন্য বিদেশি,ও প্রবাসী তরুন প্রজন্মের যুবকরাও নানা ভাবে “বঙ্গবন্ধুর” আদর্শ বুকে ধারণ করছে।

তরুন কবি ও লেখক, শাহনেওয়াজ উজ্জ্বল শিশির এর ভাষায়,
“তোমার কথা মনে হলে অশ্রু ঝরে চোখে,
তোমার দেখতে ইচ্ছা হয় বলে সর্ব লোকে। ”

ইতিমধ্যেই এ ধরনের অনেক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বাংলার তরুণরা। “বঙ্গবন্ধু” কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ অগ্রসৈনিক আজকের তরুণরা। লাল-সবুজের নিশানা নিয়ে “বঙ্গবন্ধুর” সোনার বাংলা বিনির্মাণে আমরা বদ্ধপরিকর।

১৯৭৫ সালের পর থেকে আগস্ট মাস এলেই আমরা শোকার্ত হই। সর্ব জাতি ভেঙে পড়ে বেদনায়। যেন আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। রক্তাক্ত ১৫ আগস্টের শোককে, আমরা তরুণরাই শক্তিতে পরিণত করবো। শাণিত করবো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল থেকে ‘গড়ে তুলব বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ’।

কবির ভাষায়,
ভয়াবহ ১৫ আগষ্টের কথা,
মনে পড়লে হৃদয়ে গাঁথে ব্যাথা
এ যেন বিশ্ব বাসীর কথা।”

শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আজকের তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশকে তথ্য-প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করে সামগ্রিকভাবে উন্নত দেশগুলোর সমান কাতারে পৌঁছে দিয়েছেন। তার মধ্যে আমি “বঙ্গবন্ধুর” তরুণ বয়সের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধু যেমন বেকার সমস্যা নিয়ে ভেবেছেন, দেশ থেকে বেকার সমস্যা দূর করতে হবে। তেমনি করে এখন সজীব ওয়াজেদ জয়ও দেশের বেকারত্ব গোছাতে কাজ করছেন।

“বঙ্গবন্ধু” এমন একজন নেতা ছিলেন যিনি মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিলেন। এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে শিখিয়েছেন জাতিকে। তার আত্মার শান্তির জন্য তার স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে হবে। তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে হবে। আর এভাবেই জাতির জনকের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করে যাব, তার স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে।

পরিশেষে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা ব্যক্ত করছি। আজকের তরুণ যুবকের সহযোগিতায় সমাজ থেকে মাদক, জঙ্গি, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বিরোধী অপরাধ দিন দিন বিলুপ্তির পথে প্রায়।
সমাজে সকল নোংরামি সংস্কৃতি আজ বিনষ্ট করছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আলোর মিছিলের তরুন সমাজ। তাছাড়া, বাল্যবিবাহ,যৌতুক প্রথা প্রভৃতি সমাজ খেকো অন্ধ আইন প্রতিরোধ করতে তরুণ সমাজের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ রূপ ধারণ করেছে।

“আজকের যুবক সমাজ উচ্চ স্বরে
আর্তনাদ করে বলে, হৃদয় বিদারক চলিত সুর!
যদি রাত পোহালে শোনা যেত “বঙ্গবন্ধু”
মরে নাই।
তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা। “

  • 116
    Shares
  • 214
    Shares