146 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

প্রিয় নবী (সা.)-এর স্নেহপরশে হুসাইন (রা.)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পথিক রিপোর্ট: হুসাইন (রা.) হলেন প্রিয় নবীজি (সা.)-এর দৌহিত্র। তাঁর মা হলেন ফাতিমাতুজ জাহরা (রা.)। আর আব্বাজান হলেন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)। বড় ভাই হলেন হাসান (রা.)। পবিত্র কোরআনে যাঁদের ‘আহলে বাইত’ বলা হয়েছে হুসাইন (রা.) তাঁদের অন্যতম। কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ শুধু চান যে হে আহলে বাইত, তোমাদের থেকে সব নাপাকি দূর করতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পূতপবিত্র করতে।’ (সুরা আহজাব, আয়াত ২৩)

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) একদিন এমন অবস্থায় প্রত্যুষে বের হলেন যে তাঁর শরীর মোবারক নকশাবিশিষ্ট চাদর দ্বারা আবৃত ছিল। তখন হাসান (রা.) এলে নবীজি (সা.) তাঁকে নিজের চাদরের মধ্যে শামিল করে নেন। এর পর হুসাইন (রা.) এলে তাঁকেও নবীজি (সা.) চাদর মোবারকে জড়িয়ে নেন। অতঃপর  ফাতেমা (রা.) এলে রাসুল (সা.) তাঁকে চাদরের মধ্যে শামিল করে নেন। সর্বশেষে আলী (রা.) এলে তাঁকে চাদরের ভেতর প্রবেশ করিয়ে নেন। অতঃপর পবিত্র কোরআন কারিমের সুরা আহজাবের ৩৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন। (মুসলিম, হাদিস : ২৪২৪, মুস্তাদরাক হাকেম, হাদিস : ৪৭০৯)

হুসাইন (রা.)-এর সঙ্গে প্রিয় নবীজি (সা.)-এর ঘনিষ্ঠতা এমনভাবে ছিল যেন উভয়ই এক ও অভিন্ন সত্তা। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, হাসান রাসুল (সা.)-এর বক্ষ থেকে মাথা পর্যন্ত অংশের সঙ্গে সাদৃশ্য ছিল, আর হোসাইন রাসুল (সা.)-এর শরীর মোবারকের অবশিষ্ট নিচের অংশের সঙ্গে সাদৃশ্য ছিল। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৭৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৭৪, ৫৭৭৯)।

হুসাইন (রা.) চতুর্থ হিজরির ৩ শাবান মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রিয় নবীজি (সা.) তাঁকে অত্যধিক ভালোবাসতেন। প্রিয় নবীর ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) একবার হাসান ও হোসাইনের হাত ধরে বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে ও এই দুজনকে ভালোবাসল এবং এদের মাতা-পিতাকে ভালোবাসল সে কিয়ামত দিবসে আমার সঙ্গে আমার ঠিকানায় থাকবে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৩৩) নবী (সা.) হুসাইন (রা.)-কে কতটা ভালোবাসতেন, তা নিচের হাদিস থেকে উপলব্ধি করা যায়। একদিন হুসাইন (রা.) গলির মধ্যে খেলছিলেন। নবীজি (সা.) ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি লোকদের সামনে এগিয়ে গিয়ে তাঁর দুই হাত প্রসারিত করে বাড়িয়ে দেন। বালকটি এদিক-ওদিক ছুটতে লাগল। কিন্তু নবী (সা.) তাঁকে হাসতে হাসতে ধরে ফেলেন। এরপর তিনি তাঁর এক হাত ছেলেটির চোয়ালের নিচে রাখেন, অন্য হাত তার মাথার ওপর রাখেন। তিনি তাঁকে চুমু দিলেন এবং বলেন, হোসাইন আমার থেকে এবং আমি হোসাইন থেকে। যে হোসাইনকে ভালোবাসবে আল্লাহ তাআলা তাকে ভালোবাসবেন। হুসাইন আমার নাতিদের একজন। (তিরমিজি : ২/১৭১০, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৪)।

দুনিয়াতে মানুষ ফুলকে খুব পছন্দ করে। ফুল সুগন্ধ ছড়ায়। যেখানেই ফুল থাকে সেই স্থান সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়। প্রিয় নবী (সা.) হাসান ও হোসাইনকে সুগন্ধময় ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাসান ও হোসাইন দুজন এই পৃথিবীতে আমার দুটি সুগন্ধি ফুল। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৭০)

প্রিয় নবী (সা.)-এর সাহাবা ও খোলাফায়ে রাশেদিন হাসান ও হুসাইন (রা.)-কে ভালোবাসতেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেন, আমি হাসান ও হোসাইন (রা.) উভয়কে নবী (সা.)-এর কাঁধের ওপর আরোহী অবস্থায় দেখে বললাম, আপনাদের নিচে কত উত্তম সওয়ারি! এটি শুনে নবী (সা.) বলেন, এটাও তো দেখবে যে আরোহীরাও কত উত্তম! (মুসনাদে বাজ্জার : ১/৪১৮, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৯/১৮১)

এইচ.কে.জে