504 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ফারুকী হত্যার বিচার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবসেনার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।

  • 388
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    388
    Shares

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শহীদ আল্লামা নুরুল ইসলাম ফারুকী (রহঃ)’র ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাস্তবায়নে যুবসেনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদান করেন যুবসেনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আহবায়ক মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও যুবসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

স্মারকলিপিতে বলা হয় পাক-ভারত উপমহাদেশে ইসলামের মর্মবাণী নিয়ে এসে এতদঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বয়ে দিয়েছিলেন আল্লাহর প্রিয় বান্দা আউলিয়ায়ে কেরাম ও সূফি-দরবেশগণ। তাঁদের অনুসারি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত তথা সুন্নী মুসলমানরা অতীতের ধারাবাহিকতায় অদ্যাবধি সব ধরনের সন্ত্রাস, রক্তপাত এবং উগ্রতা বিহীন শান্তিপূর্ন উপায়ে দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞাতার্থে স্মারকলিপিতে যুবসেনার পক্ষ থেকে আহলে সুন্নাতের সব কর্মসূচি ও অর্জন ক্ষুদ্র পরিসরে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৩ সালে একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে দেশে উগ্র জঙ্গিবাদ মাথাছড়া দিয়ে উঠলে এবং আপনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ওপেন ঘোষণা দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে ২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত এর ব্যানারে লাখো লাখো সুন্নী জনতার উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সুন্নী জনতার অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। এই মহাসমাবেশের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন সুন্নী মতাদর্শ তথা সূফিবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের অন্যতম নিবেদিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শহীদ আল্লামা শায়েখ নুরুল ইসলাম ফারুকী ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সম্মানিত প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি টেলিভিশন চ্যানেল সমূহে কাফেলা, হক্ব কথা ও সত্যের সন্ধানে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামের মূল ভাবধারা, ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধেও গঠনমূলক আলোচনা করতেন। সম্ভবত তারই ফলশ্রুতিতে রাজধানীর রাজা বাজারস্থ নিজ বাসায় ২০১৪ সালে ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় দূর্বৃত্তরা তাঁকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বিশ্ব নন্দিত এই আলেমের শাহাদাতের ঘটনা মূহুর্তেই দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবাদ বিক্ষোভের ঝড় উঠে। হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা ও সহযোগি সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত শান্তিপূর্ণ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে।

তন্মধ্যে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ন ও স্বতস্ফূর্ত অর্ধ-দিবস হরতাল, বিক্ষোভ মিছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, কালো পতাকা মিছিল, কাফন মিছিল, মৌন মিছিল, বিভাগীয় মহাসমাবেশ, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া জঙ্গিবাদ বিরোধী রোডমার্চ ইত্যাদি। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আসামী করে রাজধানীতে একটি মামলাও করা হয় (সিআর মামলা নং-৩৮)। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল বিগত ৬ বছরেও বরেণ্য এই ব্যক্তিত্ব তথা খুনিদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়ার কোন পদক্ষেপ ও অগ্রগতি চোখে পড়ছেনা। এমন যদি হয় অপরাধীরা আগামীতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার সাহস পাবে। আর অন্যান্য আলেমগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগবেন, দেশের আইন ও বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে নিঃসন্দেহে।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনায় স্মারকলিপির শেষাংশে যুবসেনার নেতৃবৃন্দ বলেন, আপনি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কণ্যা, দেশের বারবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। ৭১ এর মানবতা বিরোধী হত্যাকান্ড, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডসহ বহু চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের বিচার কার্য আপনার আমলে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল্লামা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার বিচারও আপনার মাধ্যমে এ দেশের লক্ষ কুটি সুন্নীজনতা খুব দ্রুতই দেখতে পাবে।

  • 388
    Shares
  • 388
    Shares