ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা: শহরের ৯০ ভাগ এলাকা পানিবন্দী, ভেঙেছে ১০টি বাঁধ

লেখক: মোঃশরিফ মিয়া
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার:

ফেনী জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ ৪২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একইসাথে পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩৯ মিলিমিটার, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ভারী বর্ষণ। এই অতিবৃষ্টির ফলে পুরো জেলা কার্যত জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, ফেনী শহরের ৯০ ভাগ এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। তিনটি নদীর অন্তত ১৫টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যার ফলে ফেনী সদরসহ অন্তত দুইটি উপজেলা ও ফেনী শহর পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে শহরের দোকানপাট, রাস্তা, পুকুরসহ ঘরবাড়ি। ভেঙে গেছে অন্তত ১০টি বাঁধ, যার ফলে একাধিক গ্রামের বাড়িঘর ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। পাঠাননগর ইউনিয়নেও প্লাবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে বেড়েছে বল্লামুখা সীমান্তবর্তী এলাকা ও আশপাশের এলাকার ঝুঁকি। বল্লামুখা বেড়িবাঁধ রয়েছে মারাত্মক হুমকির মুখে।

এ পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞরা মূলত দায়ী করছেন অপরিকল্পিত নগরায়ন, পলিথিন ব্যবহারের অবাধ প্রবণতা এবং নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে। শহরের অধিকাংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা পলিথিন ও ময়লা আবর্জনায় আটকে থাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। ফলে একটানা বৃষ্টিতে শহরজুড়ে পানি জমে গেছে।

করণীয়:

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শহরের নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণে লাগাম টানা, আধুনিক ও কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন, প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায়। তবে প্রয়োজন দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, না হলে এরকম দুর্যোগ আরও ঘন ঘন হানাদার হবে ফেনীজুড়ে।