773 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বইপ্রেমী হারুন একজন আলোর ফেরিওয়ালা

  • 121
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    121
    Shares

আসিফ ইকবাল খোকনঃ বইপ্রেমী হারুন-অর-রশীদ একজন আলোর ফেরিওয়ালা। সমাজকে বইয়ের আলোয় আলোকিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন দিন রাত। গত এক যুগ ধরে তিনি ফেরি করে বই পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের বাড়ি বাড়ি। গ্রাম থেকে গ্রামে, শহরে বন্দরে যখন যেখানে যেভাবে পারছেন পৌঁছে দিচ্ছেন বই। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারসহ সবখানে সমানে তালে সভ্যতার আলো হাতে ছুটে চলেছেন অবিরত।

বইপ্রেমী এই মানুষটির জন্ম কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া গ্রামে। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। বর্তমানে ঢাকার নবাবগঞ্জে কর্মরত আছেন গ্রামীণ ব্যাংকে। পেশায় ব্যাংকার হলেও নেশায় আপাদমস্তক একজন বইপ্রেমী মানুষ তিনি।

বই নিয়ে এই মানুষটির পাগলামির যেন শেষ নেই। ছোটবেলয় বইয়ের পাতার ঘ্রাণে যেমন শৈশব খুঁজে পেতেন, এখন এ বেলায় এসেও তিনি বইয়ের পাতায় যেনো তার সে হারানো শৈশবই খুঁজে পান। অফলাইন কিংবা ডিজিটাল মাধ্যম, বই নিয়ে তার কাজের শেষ নেই। এ পর্যন্ত কয়েকশো বইয়ের রিভিউ দিয়ে যেমন সারা দেশের বইয়ের পাঠকের মাঝে একপ্রকার আলোড়ন তৈরি করেছেন, তেমনি বইয়ের প্রচার নিয়ে, বইয়ের কথা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টায় এ উদ্যমী মানুষটির যেন চিন্তা আর বিকাশের অন্ত নেই। ডিজিটাল মাধ্যমেই শুধু থেমে নেই, অফলাইনে এই বইপ্রেমী মানুষটির কাজ যেন আরো চমৎকার। বাড়ি বাড়ি গিয়ে, শহরে বাসায় গিয়ে মানুষের কাছে বই পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন একেবারে নিজ উদ্যোগে। যে কাজটি এই মহামারী করোনার সময়েও থেমে নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলের বাসায় এ প্রচেষ্টা তিনি অব্যাহত রেখেছেন। এ যেন আরেক পলান সরকার।

ইউটিউব, ফেইসবুক আর অন্যান্য অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দাপটে শিশু কিশোর, তরুণ তরুণী থেকে শুরু করে আবাল বৃদ্ধা বনিতারা যখন বুঁদ হয়ে থাকেন ভার্চুয়াল দুনিয়ার নেশায়, একজন বইপ্রেমী হারুন তখন বই হাতে ছুটে চলেছেন পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামের পর গ্রাম। সকল শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে সবার হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন বই। আপাতঃ দৃষ্টিতে শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবিক অর্থে সত্যিই এটি অভিনব উপায়ে বইয়ের কথা ছড়িয়ে দিতে ব্যস্ত একজন বইপ্রেমীর সত্যিকারের গল্প।

তরুণ সমাজকে বদলে দিতে তিনি অবিরত কাজ করে যাচ্ছেন বই নিয়ে। মাদকাসক্ত তরুণদের হাতে মাদকের বদলে তুলে দিচ্ছেন বই। অভিনব পন্থায় মাদকাসক্ত তরণদের বইয়ের দিকে ফিরিয়ে আনছেন। সমাজের সকল শ্রেণীর সকল পেশার মানুষের দ্বারে দ্বারে এভাবেই তিনি সভ্যতার আলো বিলিয়ে দিচ্ছেন নিরলসভাবে। অনলাইনের আসক্তি কমিয়ে বিশাল এই তরুণদের আসক্ত করছেন বইয়ের প্রতি। নিরন্তর ছুটে চলা এই বইপ্রেমীর অগ্রযাত্রা যেন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে সংস্কারের মশাল হাতে নিয়ে।

গত ১০ বছর যাবৎ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন বইয়ের প্রচারণা। দেশী বিদেশী বিভিন্ন বইয়ের রিভিউ করে ইতোমধ্যে অনলাইনে তিনি ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। তার লেখা রিভিউ পড়ে অনেকেই আসক্ত হচ্ছেন বই পড়ার দিকে। তিনি স্বপ্ন দেখেন, একটা সভ্য-শিক্ষিত তরুণ সমাজের। সভ্যতা বিনির্মাণে এই বইপ্রেমীর অগ্রযাত্রা বর্তমান সময়ে নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এছাড়াও গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে তিনি বই দিয়ে লাইব্রেরি তৈরীতেও ভূমিকা রেখেছেন। একই কাজ করেছেন বিভিন্ন সেলুনে, চায়ের দোকানে বই দিয়েও।

কথায় আছে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। শুধু বই পৌঁছে দিয়ে থেমে নেই এ মানুষটি। গত বইমেলায় লিখে ফেলেছেন একটি মৌলিক থ্রিলার বইও। যে বইটি আবার পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়াও ফেলে দেয়। সামনে আরো বেশ কয়েকটি বই তার প্রকাশের অপেক্ষায়। এ নিয়ে তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি আমাদের জানান, বই নিয়ে এসব পরিকল্পনা, চিন্তা ও প্রচারে তিনি কাজ করতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত এবং সারা জীবন তিনি বইয়ের পিছনে কাজ করতে চান। বইবিমুখ এ প্রজন্মকেও তিনি আবার ফেরাতে চান বইয়ের পাতায়, বইয়ের ঘ্রাণে।

  • 68
    Shares
  • 121
    Shares