52 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বহিরাগতদের উৎপাত বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পথিক রিপোর্ট: করোনা ভাইরাসের প্রকোপের শুরুতেই বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তারপর থেকে দীর্ঘ কয়েক মাস এই ক্যাম্পাস ছিল সুনসান, নীরব, নিস্তব্ধ। সর্বশেষ গত আগস্ট মাস থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারেই নেই, অছাত্র ও বহিরাগতরাই এসে ভিড় করছে ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রক্টরিয়াল টিম প্রতিদিন তাড়িয়েও বের করতে পারছেন না এদের।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত ঘটছে অপ্রীতিকর সব ঘটনা। গণমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, গত তিন মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০টিরও অধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ঘটনাগুলোর অধিকাংশের সঙ্গে বহিরাগত লোকজন জড়িত। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে মাদক কেনাবেচা, ছিনতাই, মানব পাচারের মতো ঘটনা। এর মধ্যে বহিরাগতদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম। টিএসসি থেকে অপহরণ হয় ফুলবিক্রেতা জিনিয়া। সাভার থেকে মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে পাচার করা হয় এখানেই। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের বাসায় অপরিচিত তিন লোক প্রবেশ করতে চায়। প্রাণনাশের আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা অফিসার থানায় জিডিও করেন। প্রশাসনের শক্ত পদক্ষেপের পরও বন্ধ হচ্ছে না এমন আনাগোনা।

প্রক্টরিয়াল টিমের একাধিক সদস্য জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাইক বাজিয়ে বহিরাগতদের তাড়াতে হয়। কিন্তু তাড়ানোর কিছুক্ষণ পরই আবার ক্যাম্পাসে ভিড় করে এসব লোক। কয়বার তাড়ানো যায়? তাড়াতে গেলে কিছু লোক তেড়েও আসে। আবার এরাই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে বন্ধ করতে পারে এমন অবাধ চলাচল। কিন্তু কিছু দায়সারা কাজ ছাড়া তারা প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজই করে না। তারা চাইলে প্রক্টরিয়াল টিম দিয়ে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাস বহিরাগতমুক্ত রাখতে পারে। কিন্তু প্রক্টরিয়াল টিম শুধু সন্ধ্যায় ঘোষণা দিয়ে দায়সারা দায়িত্ব পালন করে।

https://www.facebook.com/watch/?v=651068618906303

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ’ ফটক ও ফুলার রোড এলাকা দিয়ে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। এর কারণে ক্যাম্পাসের কলা ভবন, ফুলার রোড, কার্জন হল এলাকায় মানুষের জমায়েত নেই একেবারেই। তবে শহিদ মিনার, টিএসসি, এনেক্স ভবন এলাকা বিকেল হতে না হতেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।

চলতি সময়েও বহিরাগত ও ক্যাম্পাসের বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে চলছে মাদক ব্যবসা। এসব ব্যবসায়ের মধ্যে রয়েছে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিল। এদের বেশ কয়েক জনকে থানায়ও সোপর্দ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম এসব মাদক ব্যবসা বন্ধের জোর উদ্যোগ নিলেও পারছে না বন্ধ করতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে বহিরাগত লোকজন বিনোদনকেন্দ্র বানিয়ে ফেলেছে। যে কোনো বিশেষ দিবস ও বন্ধের দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ে থাকে। বন্ধ ক্যাম্পাসও রেহাই পায়নি বহিরাগতদের হাত থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের জন্য চলা দায় হয়ে ওঠে। কিন্তু ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পরও একই অবস্থা বিরাজ করছে। লকডাউনের সময় ক্যাম্পাস নীরব থাকলেও বর্তমান সময়ে সেখানে আবারও বহিরাগতদের উত্পাত বেড়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু এটি বিনোদনকেন্দ্র নয়। বিষয়টিও সবাইকে মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা কমিয়ে আনতে। কিন্তু সবার সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।’