ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি.
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ সাদেকপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে মসজিদ ভিত্তিক মক্তব প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় মুফতি ইসহাক আল হুসাইন এর সঞ্চালনায় ও হাফেজ মাওলানা আল মামুন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি শুরু হলে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের এমপি প্রার্থী মুফতি মুহসিনুল হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মাঈনুল ইসলাম খন্দকার, মাওলানা তাজুল ইসলাম কাসেমীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে মক্তব বিলীন হওয়ার পথে। তাই হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর আহ্বানে ৪৮ হাজার গ্রামে ৪৮ হাজার মক্তব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আমরা হাতে নিয়েছি। কারণ, কুরআনী মক্তবের শিক্ষার্থীরাই একদিন হবে এ দেশের ইসলামি আন্দোলনের সৈনিক।
তাঁরা আরও বলেন, মক্তবগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া একটি গভীর ষড়যন্ত্র। শিশুদের যদি ছোটবেলা থেকেই কুরআনের বুনিয়াদি শিক্ষা দেওয়া যায়, তবে তারা বড় হয়ে কখনো নাস্তিক,মুরতাদ হবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি মুহসিনুল হাসান বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা যে সুযোগ পেয়েছি, সেটিকে কাজে লাগাতে চাই। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে—তার আগেই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই আমরা। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা এতে টালবাহানা করবে, তারাই জাতির শত্রু ও ফ্যাসিবাদের দোসর।
তিনি আরও বলেন, স্কুলে নাচ-গানের শিক্ষক নেওয়া হচ্ছে, অথচ আমাদের প্রয়োজন ছিল প্রতিটি স্কুলে একজন দাওরায়ে হাদীস পাশ আলেম শিক্ষক। ৯২% মুসলমানের দেশে স্কুলগুলো হওয়া উচিত ছিল কুরআনের সূতিকাগার।
এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, যদি সুযোগ পাই, তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের প্রতিটি স্কুলে একজন করে আলেম নিয়োগ দেব ইনশাআল্লাহ। আর যদি ভয় দেখানো হয়, তাহলে প্রতিটি গ্রামে একটি করে মক্তব প্রতিষ্ঠা করে তার শিক্ষকদের জাতীয়করণের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ।
অত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইসহাক আল হুসাইন জানান, সাদেকপুর ইউনিয়নের প্রায় সকল মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ জন ছাত্রছাত্রী এ মক্তব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১০ জনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয় এবং সকল অংশগ্রহণকারীকেও অংশগ্রহণমূলক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
তিনি বলেন, আমরা প্রতি বছরই এমন আয়োজন অব্যাহত রাখতে পারবো বলে আশাবাদী। এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের হৃদয়ে কুরআনের নূর জাগ্রত করা, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের মাটিতে কুরআনী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।