346 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ, ঘাতক মামা গ্রেফতার

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ, ঘাতক মামা গ্রেফতার

  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    22
    Shares

পথিক রিপোর্ট: বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ, ঘাতক মামা গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৪/০৮/২০২০খ্রিঃ ২০.৩০ ঘটিকায় বাঞ্ছারামপুর থানাধীন সাহেবনগর গ্রামের জনৈকা হাসিনা আক্তার (৪৫), স্বামী-কামাল উদ্দিন বাঞ্ছারামপুর থানায় হাজির হয়ে জানায়, তার ছেলে কামরুল ইসলাম (১০) ও মেয়ে সিফা আক্তার (১৪) কে ১৫.৩০ ঘটিকা হতে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দ্যেশে রওয়ানা করার পর জানতে পারে নিখোঁজ উল্লেখিত ছেলে ও মেয়ে নিজ ঘরে পৃথক পৃথক কক্ষে খাটের নীচে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, বাদল মিয়া (২৯), পিতা-মৃত আব্দুর রব, সাং-খোদে দাউদপুর, থানা-হোমনা, জেলা-কুমিল্লা ভিকটিমদ্বয়ের আপন মামা। বাদল মিয়া বাইরাইন প্রবাসী। গত মার্চ মাসে বাদল মিয়া বাহরাইন থেকে দেশে আসার পর করোনা মহামারীর কারণে আর বিদেশ যেতে পারেনি। বাদল মিয়া এলাকায় গোষ্ঠিগত দাঙ্গার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হলে গত ৩০/০৬/২০২০খ্রিঃ ভগ্নিপতির বাড়িতে চলে আসে এবং ভগ্নিপতির বসত ঘরের এক পাশে একটি কক্ষে বসবাস করে। সে বাহরাইন থাকাকালে দোকান করার জন্য তার ভগ্নিপতি কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা ধার নেয়। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা ফেরত দেয়। বাকি ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেয়ায় কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল তার। এজন্য সপ্তাহখানেক আগে বাদল মিয়াকে থাপ্পড়ও মারেন কামাল উদ্দিন। সেই রাগে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে বাদল।

২৪ তারিখ বাদল মিয়া তার রুমে উচ্চস্বরে গান শুনতে থাকে। ঐ দিন বেলা ০২.৩০ ঘটিকায় দুপুরের খাবারের পর ভিকটিম মেহেদী হাসান কামরুল (১০) তার মায়ের নিকট হতে মজা খাওয়ার কথা বলে ৫০ টাকা নিয়ে মামা বাদল মিয়ার রুমে যায়। তখন বাদল মিয়া তার ভাগ্নে কামরুলের হাত-পা বেঁধে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

পরে লাশ খাটের নিচে রেখে দেয়। ভাগ্নি শিপা ঝাড়ু দিতে গিয়ে তা দেখে ফেললে তাকেও মারতে জোরাজুরি করে বাদল। পরে এক ধাক্কা মেরে ওয়াশরুমে নিয়ে তাকেও গলা কেটে হত্যা করে লাশ খাটের নিচে রেখে দেয়।

মাগরিবের আযান হওয়ার পরও মেহেদী হাসান কামরুলকে না পেয়ে সকলে আশপাশে খোঁজাখুজি করার জন্য বাহির হয়ে যায়। কিছুক্ষন পর ভিকটিম শিফা আক্তার (১৪) কেও না দেখতে পেয়ে এলাকায় মাইকিং করে খোঁজাখুজি করতে থাকে। ইত্যবশরে কামাল উদ্দিন তার শ্যালক বাদল মিয়াকে সাথে নিয়ে বাঞ্ছারামপুর থানাধীন ফেরীঘাট এলাকায় ভিকটিমদের খোঁজার জন্য যাওয়ার পর তথা হতে বাদল মিয়া কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে ভিকটিমদ্বয়ের পিতা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে বাদল মিয়ার বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার মামলা নং-১১/১১১, তাং-২৬/০৮/২০২০খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১ পেনাল কোড রুজু হয়। এজাহার নামীয় আসামী বাদল মিয়াকে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ ঢাকাস্থ সবুজবাগ থানা এলাকা হতে অদ্য ২৬/০৮/২০২০খ্রিঃ গ্রেফতার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে বাদল মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। মামলার তদন্ত ভার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু আহমেদের উপর অর্পন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

  • 22
    Shares
  • 22
    Shares