বাহরাইনে মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘ধ্বংস’—ইরানের দাবি, নীরব ওয়াশিংটন
বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে এ সংক্রান্ত খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পস (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে একঝাঁক রকেট দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে এবং বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা যায়। আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনের শেখ ঈসা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন কমান্ড ও স্টাফ বিল্ডিং ধ্বংস হয়েছে এবং জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত একটি নৌঘাঁটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জরুরি বার্তায় বাহরাইনে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও এক ডজন দেশ থেকে নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে শেখ ঈসা বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বাহরাইন সরকারও হামলার বিস্তৃতি বা হতাহতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইরানি গণমাধ্যমগুলো এ হামলাকে তাদের শীর্ষ নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে তুলে ধরছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, নিখুঁত নিশানায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।
এদিকে পুরো বাহরাইনজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন ঘাঁটিগুলোর চারপাশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি সত্য হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার দিকে।
সূত্র: দৈনিক ইওেফাক
