বিজয়নগরে বিএনপি নেতা সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে হামলা ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগে মামলা

লেখক: অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

মোশাররফ হোসেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের সাটিরপাড়া গ্রামে বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা, সরকারি জায়গা দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহতদের স্বজনরা বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ অক্টোবর (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাটিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে সিরাজ মাস্টারের নেতৃত্বে তার ছেলে রায়হান, নজরুল ইসলাম রতন ও স্বপন পূর্বপরিকল্পিতভাবে শফিকুল ইসলামের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। হামলার সময় শফিকুলের ভাই রফিকুল ইসলাম ও স্ত্রী শারমিন আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদেরও রক্তাক্ত জখম করা হয়।
আহতদের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় আহত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী আয়েশা বেগম বাদী হয়ে সিরাজ মাস্টার, তার ছেলে রায়হান, নজরুল ইসলাম রতন ও স্বপনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বাদীপক্ষের সঙ্গে আসামিদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে উৎপেতে থাকা আসামিরা দা, বল্লম, টেটা ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়


এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিরাজুল ইসলাম মাস্টার একসময় আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে ২৪ শে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর বিএনপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও শারীরিক নির্যাতনসহ নানা অপরাধে জড়িত।
এছাড়া, তার ভাতিজা নজরুল ইসলাম রতন পুলিশের চাকরিতে কর্মরত থাকায় তিনি প্রভাব খাটিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখান এবং মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানোর হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ গ্রামবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বিষয়টি জানতে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ঘটনার পর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।