422 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বিজয় দিবসের আবেশে দুর্নীতিকে ‘না’ বলতে শিখি

  • 29
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    29
    Shares
শেখ সায়মন পারভেজ হিমেল  :আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৯ বছর শেষে এখনও আমরা দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছি। আমাদের সকল অর্জন দুর্নীতি নামক দানবটি খেয়ে ফেলেছে। তাই সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু স্তর পর্যন্ত দুর্নীতিকে ‘না’ বলতে হবে। দুর্নীতি নামক বস্তু সম্পর্কে আমাদের সকলের সমস্বরে না বলতে হবে। বিজয় দিবসে আমাদের শিক্ষা এখন হতে হবে দুর্নীতিকে ‘না’ বলা। আমরা কি সকলে দুর্নীতিকে ‘না’ বলার সৎসাহস দেখাতে পারব! আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন রয়েছে। এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৩ বছর অতিক্রম করলো।
দুর্নীতি দমন কমিশন কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে, তারা সঠিকভাবে দুর্নীতি দমন করতে কাজ করতে পারছে বা করছে! রাষ্ট্রকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন করে দিতে হবে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যত দিন দুর্নীতি দমন কমিশন থাকবে তত দিন দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন বা বলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ কমিশন বলতে পারেন। সরকার ইচ্ছা করলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করতে পারেন। কন্ট্রোল করতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে স্বাধীনভাবেও কাজ করাতে পারেন। এই প্রতিষ্ঠানকে সকল রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বে রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে। তা না হলে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করা যাবে না। দুর্নীতিকে সহনশীল পর্যায়েও রাখা যাবে না। পৃথিবীর সকল দেশে দুর্নীতি রয়েছে। কোথাও কোথাও অসহনশীল পর্যায়ে, কোথাও বা সহনশীল পর্যায়ে দুর্নীতি রয়েছে।
আমাদের সংগ্রাম হচ্ছে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশের জন্য। কিন্তু আজ আমাদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছে। সমাজের সকল স্তর থেকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের দারুণ অভাব। ১৯৭১ সালে আমরা সকল অন্যায়, অবিচার, মূল্যহীন জীবনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করি। তা পরবর্তীতে মুক্তি সংগ্রামে রূপ নেয়। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেও আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারি নাই। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের অনেক পরিবর্তন এসেছে। অকে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় দেশে স্থাপিত হয়েছে। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাসের হারও বেশ সম্প্রসারিত হয়েছে। পাসের হারও বেশ ভাল। কিন্তু নৈতিক শিক্ষা, মূল্যবোধের শিক্ষা, মনুষ্যত্বের শিক্ষা আমরা দিতে এখনও সক্ষম হয় নাই। বিজয় দিবসে আমাদের মনে এই সকল চিন্তা নানাভাবে ঘোরপাক খাচ্ছে। এই দিনে আমাদেরকে এই সকল বিষয়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার দৃঢ়তা শিক্ষা দেয়।
আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে কারিকুলামে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনতে হবে যাতে করে শিশুকাল থেকে ছাত্রছাত্রীগণ নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হয়ে নিজকে গড়ে তুলতে পারে। শিক্ষা ছাড়া তথা সুশিক্ষা ছাড়া কোনক্রমেই নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা হবে না। মানুষ সত্যিকার মানুষ হতে পারবে না। সার্টিফিকেট সম্পন্ন কিছু যুবক-যুবতী তৈরি করলে দেশ কখনও মৌলিক শিক্ষা লাভ করতে পারবে না। শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা নিজেদের মধ্যে করতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষকম-লী ছাড়া নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন ছাত্রছাত্রী তৈরি হবে না। তাই প্রথমে শিক্ষককে সুশিক্ষক হতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষকম-লী তৈরির জন্য কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিজয় দিবস আমাদেরকে তা শিক্ষা দেয় তা দাবি করে।
পথিকনিউজ/এইচ কে
  • 9
    Shares
  • 29
    Shares