650 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বিজয় দিবস ও প্রবাস

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares
এম এ  আবির , মালয়েশিয়াঃ   ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বিংশশতাব্দীর ৪র্থ প্রজন্ম অনেকেই জানেনা সেই ভয়াল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। অকাতরে জীবন বিলিয়ে  দিয়েছেন দেশকে স্বাধীন করতে। আমরা আজ বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ।  আজ বিশ্বের দরবারে লাল সবুজের পাসপোর্ট নিয়ে মাথা উঁচু করে বলছি আমি বাংলাদেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি বসবাস করছে। কেউ কাজ করছে, কেউ ব্যবসা করছে, কেউ সরকারি দাফতরিক কাজ করছে, কেউ কোম্পানি খুলে শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছে। পরিচয় একটাই আমি লাল সবুজের বাংলাদেশ।

আমি আবির সৌভাগ্যবান কারণ আমার পিতা একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা। বাবার কাছে শুনেছি সেই ভয়ার্ত সম্মুখের যুদ্ধে বিজয় কথা।বাবা আজও অশ্রু ঝরাই দুই নয়নে সেই শহীদ বন্ধু কথা মনে করে যিনি ১ মিনিটের ব্যবধানে শহীদ হয়েছেন সম্মুখ যুদ্ধে আর বাবা বেঁচে রইলেন।    আর মা ছোট্ট ছোট্ট সন্তান নিয়ে পথ চেয়ে বসেছিল কখন বাবা আসবে বিজয়ের  সুখবর নিয়ে। দীর্ঘ নয় মাস পর যুদ্ধ শেষে  বাবা বাড়ি ফিরলেন   বীবের বেশে বিজয়ের হাসি মুখে।

বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় মহান বিজয় দিবস। কিন্তুু আমার প্রবাসীদের ভাগ্য জুটেনা সেই বিজয় দিবস উৎযাপন করার। প্রবাসে  দূতাবাস সে একটুকরো বাংলাদেশ। দূতাবাসে বিজয় দিবস উৎযাপন হলেও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়েই পালিত হয়। সাধারণ প্রবাসীরা এই বিজয় দিবস উৎযাপনের কল্পনা করতে পারেনা।

যদি মানবাধিকার সমঅধিকার বলি তাহলে সাধারণ প্রবাসীদের  জন্য উম্মুক্ত রেখে  অংশ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে বিশেষ দিনটি উৎযাপনের দাবী রাখে।তাহলেই মানবাধিকার বাস্তবায়ন হবে সকল ক্ষেত্রে ।

দক্ষিন এশিয়ার শ্রমিকবান্দব দেশ মালয়েশিয়া বললেও  কর্মক্ষেত্রে খাদ্য    বস্র বাসস্থান কতটুকু নিরাপদ ও প্রাপ্য   মজুরি  পেয়ে থাকে সেটা একমাত্র ভুক্তভোগী প্রবাসীরাই  বলতে পারবে। এই সবটুকুই দূতাবাসের পরিসেবা আওতাধীন। আইনের ঘেড়াকলে বিজয়ের মাসে  খুত দূতাবাসেই নির্যাতিত হচ্ছে  বিপদগ্রস্ত প্রবাসীরা। প্রশ্ন থেকে যায় রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করার পরও প্রবাসে আমরা পরাধীন বিজয়ের মাসে।

১৯০০ শতাব্দীর শেষের দিকে  প্রবাসীরা শুধু এসএমএসের মাধ্যমে বিজয় দিবস উৎযাপনের খবর পেত গুটিকয়েকজন।তখন  মালয়েশিয়ায় প্রবাসী সাংবাদিকতা ছিল কদাচিৎ ।   ১৬ ই ডিসেম্বর  বিজয় দিবসের পরবর্তী রবিবারে অপেক্ষা ছিল অনেক আনন্দের। কারণ বাংলাদেশ থেকে আসা কয়েকটি জাতীয় পএিকায় বিজয় দিবস উৎযাপনের খবরাখবর পাওয়া যেত। ৪ গুণ বেশি টাকা দিয়ে খবরের কাগজ কিনতে কার্পণ্য  বোধ করতনা প্রবাসীরা।

আজ ২০২০ সাল প্রযুক্তির উৎকর্ষে সবার হাতেই স্মার্ট ফোন। বিজয় দিবসে সাধারণ প্রবাসীদের দূতাবাসে প্রবেশধীকার বাঁধা থাকলেও ঘরে বসে পেয়ে যাবে মহান বিজয় দিবস উৎযাপনের খবরাখবর ও স্বাধীনতা যুদ্ধের নির্মম ইতিহাস  সবই সম্ভব আজ একঝাক প্রাণবন্ত তরুণ সাংবাদিকতার কারণে। প্রবাসীদের সুখ দুঃখের গল্প গাঁথা, দুঃখ দুর্দশা ও দূতাবাস থেকে প্রকাশিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি গুলো নিয়ে নিয়মিত লিখে যাচ্ছে মালয়েশিয়া অবস্থানরন প্রবাসী সাংবাদিকরা । আর এই প্রবাসী সাংবাদিকরা একটি প্লাটফর্মে থেকে কাজ  করছে  ” বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়া ” কৃতিত্বের দাবিদার। আজ এই প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সংখ্যা বিশের কোটা ছাড়িয়ে। এই প্রেসক্লাব টি ১৬ই ডিসেম্বর ( বিজয় দিবস )   ২১শে ফেব্রুয়ারি ( ভাষা দিবস ) ২৬ শে মার্চ ( স্বাধীনতা দিবস )  সহ গুরুত্বপূর্ণ  দিবস গুলো উৎযাপন করে থাকে। প্রবাসীদের অভাব পূরণে  গুরুত্বপূর্ণ দিবস, কৃষ্টি কালচার, ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃতিত্ব নিয়ে নিয়মিত লিখে যাচ্ছে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।

বিজয়ে মাসে বিজয়ের উল্লাসে ভুলে গিয়েছি আমরা, বিজয়ের জানান দিতে লিখে যাচ্ছি আমরা। বীর শহীদের রক্তে ভেজা বাংলাদেশ, গভীর শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করি শহীদ বীর মুক্তিযুদ্ধাদের অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছে যিনি একটি বাংলাদেশ।

এম এ  আবির

সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
  • 2
    Shares