252 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বিপদে ধৈর্যধারণ ৩য় পর্ব।

  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ-

সবরের ফযীলত:

সবরের কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহর বান্দা মাত্রই সবর করতে হবে। কেননা কখনো আল্লাহর আদেশ মানতে হবে, তাঁর নির্দেশিত কাজ করতে হবে। আবার কখনো তাঁর নিষেধ মেনে চলতে হবে, বিরত থাকতে হবে তা করা থেকে। আবার কখনো অকস্মাৎ তাকদীরের কোনো ফয়সালা এসে পড়বে। নিয়ামত দেয়া হবে, তখন শুকরিয়া আদায় করতে হবে। এভাবে নানা অবস্থার মধ্য দিয়ে মুমিনের জীবন অতিবাহিত হয়। সুতরাং মৃত্যু পর্যন্ত এই সবরকে সাথে নিয়েই চলতে হবে। এজন্যই সবরের অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে।

হযরত উম্মে সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি,

” مَا مِنْ عَبْدٍ تُصِيبُهُ مُصِيبَةٌ فَيَقُولُ : إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ، اللَّهُمَّ أَجِرْنِي فِي مُصِيبَتِي ، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا ، إِلَّا أَجَرَهُ اللَّهُ فِي مُصِيبَتِهِ ، وَأَخْلَفَ لَهُ خَيْرًا مِنْهَا ” (صحيح مسلم গ্ধ كِتَاب الْجَنَائِزِ গ্ধ بَاب مَا يُقَالُ عِنْدَ الْمُصِيبَةِ. رقم الحديث: ১৫৩২)

“যে ব্যক্তি কোনো বিপদে পড়ে আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন ‘ইন্নাল্ল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন’ (আমরা আল্লাহর জন্যই আর তাঁর নিকটই ফিরে যাব। [সূরা বাকারাঃ ১৫৬] ) পড়বে এবং বলবে ”হে আল্লাহ, আমাকে আমার বিপদের প্রতিদান দিন এবং আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন”। আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন।”(মুসলিম-১৫৩২)

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ“সবর হল জ্যোতি।” (মুসলিম১২৩-)

হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন,

وَجَدْنَا خَيْرَ عَيْشِنَا بِالصَّبْرِ “সবরকে আমরা আমাদের জীবন-জীবিকার সর্বোত্তম মাধ্যম হিসেবে পেয়েছি।” (দুররে মানসূর-১/১৬৩)

হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন,

أَلَا إِنَّ الصَّبْرَ مِنَ الْإِيمَانِ بِمَنْزِلَةِ الرَّأْسِ مِنَ الْجَسَدِ، فَإِذَا قُطِعَ الرَّأْسُ بَادَ الْجَسَدُ، ثُمَّ رَفَعَ صَوْتَهُ فَقَالَ: أَلَا إِنَّهُ لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا صَبْرَ لَهُ (بصائر ذوي التمييز (৩/৩৭৬. الصبر والثواب عليه لابن أبي الدنيا. رقم الحديث-০৮) ”

“ঈমানের ক্ষেত্রে সবরের উদাহরণ হল দেহের মধ্যে মাথার মত।” এর পর আওয়াজ উঁচু করে বললেন, “যার ধৈর্য নাই তার ঈমান নাই।”(ইবনু আবীদ্দুনয়া: আস সাবর, হা-০৮)

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:

وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنْ الصَّبْرِ

“আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যের চেয়ে উৎকৃষ্ট এবং ব্যাপকতর দান কাউকে দেন নি।” (বুখারী, হা-১৪৬৯, মুসলিম, হা-১০৫৩)

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করনে:

مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ ۚ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

“আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন বিপদ আসে না। আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তিনি তাঁর অন্তরকে সঠিক পথের সন্ধান দেন।” [সূরা তাগাবুনঃ ১১]

হযরক আলকামা বলেন,

هو الرجل تصيبه المصيبة فيعلم أنها من عند الله فيرض ويسلم“আল্লাহ তায়ালা ‘যার অন্তরকে সঠিক পথের সন্ধান দেন’ সে হল ঐ ব্যক্তি যে বিপদে পড়লে বিশ্বাস করে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। ফলে বিপদে  পড়েও সে খুশি থাকে এবং সহজভাবে তা গ্রহণ কওে নেয়। (তাফসীরে ইবনু কাসীর-৪/৩৭৫)

মুমিনের ধৈর্যের প্রয়োজন জীবনের নানান বিপদ-মুসিবত, কষ্ট ও জটিলতার সামনে। সে বিশ্বাস করে যত সংকটই আসুক না কেন সব আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। ফলে সে তা হালকা ভাবে মেনে নেয়। বিপদে পড়েও খুশি থাকে। এ ক্ষেত্রে ক্ষোভ, হতাশা ও অস্থিরতা প্রকাশ করে না। নিজের ভাষা ও আচরণকে সংযত রাখে। কারণ, সে আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী। সে তকদীরকে বিশ্বাস করে। তকদীরকে বিশ্বাস করা ঈমানের সাতটি রোকনের একটি। সুতরাং কোন ব্যক্তি বিপদে সবর না করলে তার অর্থ হল, তার কাছে ঈমানের এই গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিটি অনুপস্থিত। অথবা থাকলেও তা খুব নড়বড়।

 

বিপদ-আপদের মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মোচন হয়:

আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে বিভিন্ন বালা-মুসিবত দেন এক মহান উদ্দেশ্যে। তা হল এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মোচন করে থাকেন। যেমন হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বর্ণিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الخَيْرَ عَجَّلَ لَهُ العُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا، وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الشَّرَّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِهِ حَتَّى يُوَافِيَ بِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ

“আল্লাহ যখন কোন বান্দার কল্যাণ চান তখন দুনিয়াতেই তাকে শাস্তি দেন। কিন্তু বান্দার অকল্যাণ চাইলে তিনি তার গুনাহের শাস্তি থেকে বিরত রেখে কিয়ামতের দিন তার যথার্থ প্রাপ্য শাস্তি প্রদান করেন।”(তিরমিযী, ৪/৬০১, হা-২৩৯৬)

হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,

مَا يُصِيبُ المُسْلِمَ، مِنْ نَصَبٍ وَلاَ وَصَبٍ، وَلاَ هَمٍّ وَلاَ حُزْنٍ وَلاَ أَذًى وَلاَ غَمٍّ، حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا، إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ

গ্ধ صحيح البخاري – الأدب (৫৬৪১) صحيح مسلم – البر والصلة والآداب (২৫৫৪) مسند أحمد – باقي مسند المكثرين (২/৩৩০) مسند أحمد – باقي مسند المكثرين (২/৩৮৩) مسند أحمد – باقي مسند المكثرين (২/৪০৬) مسند أحمد – باقي مسند المكثرين (২/৪৫৫)

“মুমিনকে যেকোনো বিপদই স্পর্শ করুক না কেন আল্লাহ তার বিনিময়ে তার গুনাহ মাফ করে দেন। এমনকি (চলতি পথে) পায়ে যে কাঁটা বিদ্ধ হয় (তার বিনিময়েও গুনাহ মাফ করা হয়) (বুখারী, হা-৫৬৪১ ও মুসলিম, হা-২৫৫৪ )।

হযরত আবূ মূসা আশআরী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,

إِذَا مرِضَ الْعبْدُ أَوْ سافَر كُتِب لَهُ ما كانَ يعْملُ مُقِيماً صحيِحاً যখন কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয় অথবা সফর করে, তার জন্য সে সুস্থাবস্থায় এবং ঘরে থাকতে যেরূপ নেকি কামাই করতো অনুরূপ নেকি লেখা হয়। (বুখারী, হা-২৯৯৬)।

 

লেখক

———

সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আয্হারী

খতিব, মুসাফিরখানা জামে মসজিদ, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম।

সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

মোবাইলঃ- ০১৬১৯-১৯৭৯৭৮

  • 10
    Shares