466 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বিভিন্ন লোকদের হাশরে গমনের বিভিন্ন রূপ হবে।

  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    26
    Shares

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ- 

১) মৌলিক নীতিমালাঃ প্রত্যেক বান্দা তার দুনিয়াবী আমল অনুযায়ী হাশরে উঠবে
عن جابر بن عبدا للّٰہؓ قال سمعت رسول اللّٰہﷺ یقول : یبعث کل عبد علی مامات علیہ رواہ مسلم

অর্থঃ হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন- আমি রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) কে এরূপ এরশাদ করতে শুনেছি- “প্রত্যেক বান্দা তার দুনিয়াবী আমল অনুযায়ী হাশরে উঠবে” (মুসলিম)।

(২) শহীদগণ উঠবেন রক্তমাখা শরীর ও জামাকাপড় নিয়েঃ
عن ابی ھریرۃؓ ان النبی ﷺ قال والذی نفسی بیدہ لا یکلم اھد فی سبیل اللّٰہ۔ واللّٰہ اعلم بمن یکلم فی سبییلہ ۔ الاجاء یوم القیامۃ وجرحہ یثعب دما۔ اللون لنون الدم ولاعرف عرف المسک (بخاری ومسلم)

অর্থঃ হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত- নবী করিম (ﷺ) এরশাদ করেছেন- “যার হাতে আমার প্রাণ- তাঁর শপথ করে বলছি- যারা আল্লাহর রাস্তায় আঘাত খেয়েছে- আল্লাহ্-ই ভাল জানেন কে তাঁর রাস্তায় আঘাত খেয়েছে- তাঁরা হাশরের দিনে এভাবে উঠবে যে, ক্ষতস্থান দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকবে। রং হবে রক্তের- কিন্তু তার সুগন্ধ হবে মেশক -এর মত” (বুখারী ও মুসলিম)।

(৩) মাতালরা মাতাল অবস্থায় উঠবেঃ

عن انس بن مالک قال : ال رسول اللّٰہ ﷺ من مات سکران فانہ یعاین ملک الموت سکران ، ویعاین منکرا ونکیرا سکرانی ویبعث یوم القیامۃ سکران الی خندق فی وسط جھنم یسمی السکران۔ فیہ عین یجری ماؤھا دما۔ لا یکون لہ طعام ولا شراب الامنہ رواہ ابو ھدبۃ ابرھیم بن ھدبۃ ۔

অর্থঃ হযরত আনাছ ইবনে মালেক (রাঃ) বর্ণনা করেন- রাসুলে করিম (ﷺ) এরশাদ করেছেন- “যে ব্যক্তি মাতাল অবস্থায় মারা যাবে- সে ব্যক্তি নিজের মাতাল অবস্থায়ই মালাকুল মাউত এবং মুনকার নকীরকে দেখতে পাবে এবং কিয়ামতের দিনে মাতাল অবস্থায়ই জাহান্নামের মধ্যবর্তী “মাতাল” নামক গর্তে নিক্ষিপ্ত হবে। সেখানে তার জন্য একটি নহর প্রবাহিত হবে- যার পানীয় হবে রক্ত। তার খাদ্য ও পানীয় উক্ত নহর থেকেই সরবরাহ করা হবে” (আবু হাদ্বা ইব্রাহীম)।

(৪) মুয়াযিযন ও হাজীগণ যথাক্রমে আযান ও তাল্বিয়া পাঠরত অবস্থায় হাশরে উঠবেঃ

روی عباد بن کثیر عن الزبیر عن جابر قال: ان المؤذنین والملبین یخرجون یوم القیامۃ من قبورھم یؤزن المؤذن ویلبی الملبی ۔ ذکرہ الحلیمی الحافظ ۔

অর্থঃ হযরত জাবের (রাঃ) থেকে মউকুফ হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, “হাশরের দিনে মুয়াযিযন ও তাল্বিয়া পাঠকারী হাজীগণ কবর থেকে এভাবে বের হবে যে, মোয়াযিযন আযান দিতে থাকবে- আর তালবিয়া পাঠকারী হাজী তালবিয়া পাঠ করতে থাকবে। ” (হাফিযুল হাদীস হালিমী)।

(৫) যিকিরকারীগণ মাথা ঝুলিয়ে যিকির অবস্থায় কবর থেকে উঠবেঃ

عن ابن عباس وعلی بن حسین ان رسول اللّٰہ ﷺ قال : اخبرنی جبرئیل علیہ السلام ان :لا الہ الا اللّٰہ انس للمسلم عند موتہ وفی قبرہ وحین یخرج من قبرہ ۔ یا محمد لو ترھم حین یمرقون من قبورھم ینفضون رؤوسھم ھذا یقول لا الہ الا اللّٰہ والحمد للّٰہ فیبیض وجھہ ۔ وھذا ینادی یا حسرتا علی ما فرطت فی جنب اللّٰہ مسودتہ وجوھھم ۔ وعن ابن عمر قال : قال رسول اللّٰہ ﷺ لیس علی اھل لا الہ الا اللّٰہ وحشۃ عند الموت ولا فی قبورھم ۔ ذکرہ ابو القاسم بن ابرھیم ۔

অর্থঃ হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং আলী ইবনে হোসাইন (জয়নুল আবেদীন) থেকে হাদীস বর্ণিত- নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন- “আমাকে জিবরাঈল এসে গায়েবী সংবাদ দিয়ে গেলো যে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” কলেমাটি মুসলমানের নিকট তাঁদের মউতের সময়, কবরের মধ্যে এবং কবর থেকে হাশরে যাবার পথে খুবই শান্তিদায়ক হবে। হে মুহাম্মদ (ﷺ)! আপনি যদি তাঁদেরকে কবর থেকে উঠে হাশরে যাবার সময় তাঁদের মাথা ঝুলানী দেখতেন! এরা তখন বলবে- ”লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ওয়াল হামদুলিল্লাহি”। তাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল।

আর অন্যরা (বদকার) বলবে- হায় আফসোস! আমি আল্লাহর আয়ত্তে থেকেও সীমা লংঘন করেছি। তাদের চেহারা হবে কালো। হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণনাটি এভাবে এসেছে-“রাসুল করিম (ﷺ) এরশাদ করেছেন-“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু যিকিরকারীর কোন ভয় থাকবেনা- মউতের সময় এবং কবরের মধ্যেও”। (আবুল কাছেম ইবনে ইব্রাহীম)।

(৬) বিলাপ কারিনীর হাশর হবে বিলাপরত অবস্থায়ঃ

روی النسائی عن النبی ﷺ انہ قال : تخرج النائحۃ من قبرھا یوم القیامۃ شعثاء غبراء ۔ علیھا جلباب من لعنۃ اللّٰہ ودرع من نار ۔ یدھا علی رأسھا تقول : یا ویلاہ وروی ابن ماجۃ عن ابی مالک الاشعری قال : قال رسول اللّٰہ ﷺ الیناحۃ من امر الجاھلیۃ ۔ وان النائحۃ اذا ما تت قطع اللّٰہ لھا ثیابا من نار ودرعا من لھب النار۔

অর্থঃ ইমাম নাছায়ী নবী করীম (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন- রাসুল পাক (ﷺ) এরশাদ করেছেন- “বিলাপ করে চিৎকার করে চুল ছিঁড়ে রোদন কারিনী মহিলারা কবর থেকে বের হবে ধূলামলিন অবস্থায়- আর তাঁদের মাথায় থাকবে লা’নতের নিকাব। তাদের ওড়না হবে আগুনের। আর হাত বাধা থাকবে মাথার উপরে। সে বলতে থাকবে- হায়! হায়! (নাছায়ী)

ইবনে মাজাহ্ আবু মালেক আশ্আরী থেকে রেওয়ায়াত করেছেন- রাসুল করিম(ﷺ)এরশাদ করেছেন “চিৎকার করে বিলাপ করা জাহেলিয়াতের হারাম প্রথা এবং বিলাপকারিনী যখন মারা যাবে আল্লাহ্পাক তার কাপড় আগুনের দ্বারা তৈরী করবেন এবং ওড়না তৈরী করবেন আগুনের শিখা দ্বারা” (ইবনে মাজাহ্)।

(৭) সুদখোররা উঠবে বড় ও ভারী পেট নিয়েঃ

قال اللّٰہ تعالی : الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لاَ يَقُومُونَ إِلاَّ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ

অর্থঃ আল্লাহ্পাক এরশাদ করেন- “যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতের দিন ঐ লোকের মত দণ্ডায়মান হবে- যাকে শয়তান আছর করে মোহাবিষ্ট করে ফেলেছে” (সুরা বাক্বারাহ্ ২৭৫ আয়াত)।

অর্থাৎ তারা কবর থেকে উঠে হাশরে যাওয়ার সময় তাদের পেট ভারী ও বড় হওয়ার কারনে তারা দাঁড়াতে পারবেনা- বরং আছাড় খেয়ে পড়ে যাবে।

(৮) মর্যাদাবান মুমিনদের হাশর হবে মর্যাদাপূর্ণঃ

روی عن النبی ﷺ من مات علی مرتبۃ من المراتب بعث علیھا یوم القیامۃ ذکرہ صاحب القوت وھو صحیح ۔

অর্থঃ “নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন- দুনিয়াতে মর্তবাধারী লোকদের হাশর হবে তাঁদের মর্তবা অনুযায়ী”। (ছাহেবুল কুত কর্তৃক বর্ণিত সহীহ হাদীস) (তাযকিরাহ্ গ্রন্থ অবলম্বনে)।

 

লেখক
*****
সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আযহারী
সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ. খতীব, মুসাফির খানা জামে মসজিদ, নন্দন কানন, চট্টগ্রাম। 01719-197978

  • 26
    Shares
  • 26
    Shares