398 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বিশ্বের ষষ্ঠ সামরিক শক্তি দক্ষিণ কোরিয়া

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ   সামরিক শক্তির দিক দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান বিশ্বে ষষ্ঠ। সমরাস্ত্র শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়া শক্তিশালী একটি দেশ। যুদ্ধবিমান ছাড়া নেভি এবং স্থলবাহিনীর প্রায় যাবতীয় সমরাস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়া তৈরি করে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার রয়েছে নিজস্ব উদ্ভাবিত ব্যালিস্টিক মিসাইল, অ্যান্টি শিপ ও অ্যান্টি এয়ারক্রাফট মিসাইল। সাবমেরিন, ডেস্ট্রয়ার, করভেট থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া তার যাবতীয় রণতরী নিজেরা তৈরি করে।

 

 

দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জাহাজ নির্মাণ শিল্পের দেশ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ জাহাজ শিল্প দক্ষিণ কোরিয়ার। এর নাম হাইউন্দাই। কোনো কোনো সংস্থার মতে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাণ শিল্প। যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ কোরিয়া উদ্ভাবন করেছে ফোর প্লাস জেনারেশন ফাইটার জেট। দক্ষিণ কোরিয়া নির্মাণ করছে হেলিকপ্টারসহ শক্তিশালী ড্রোন বিমান।

দক্ষিণ কোরিয়ার মোট সৈন্যসংখ্যা ৬৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় সৈন্য সংখ্যা ৬ লাখ। রিজার্ভ সৈন্য ৩১ লাখ এবং প্যারামিলিটারি ৩০ লাখ ১০ হাজার। দক্ষিণ কোরিয়ায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি সামরিক ঘাঁটি। এসব ঘাঁটিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ হাজারের বেশি সৈন্য। ১৯৫৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য অবস্থান করে আসছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বিমানের সংখ্যা ১ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে ফাইটার জেট ৪০২টি। ডেডিকেটেড এটাক জেট ৭৪টি। সামরিক পরিবহন বিমান ৪১টি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশিক্ষন বিমান রয়েছে ২৯৬টি। স্পেশাল মিশন ৩০টি এবং ট্যাঙ্কার ফ্লিটে রয়েছে ৪টি বিমান। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক হেলিকপ্টারের সংখ্যা ৭৩৪টি। এর মধ্যে এটাক হেলিকপ্টর রয়েছে ১১২টি।

দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রণতরীর সংখ্যা ২৩৪টি। এর মধ্যে হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার ১টি, ডেস্ট্রয়ার ১২টি, ফ্রিগেট ১৪টি এবং করভেট ১২টি। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবমেরিন সংখ্যা ২২টি, টহল জাহাজ ২৬টি এবং মাইন ওয়ারফেয়ার ১১টি।

দক্ষিণ কোরিয়ার ২২টি সাবমেরিনের একটি জার্মানির তৈরি। বাকি ২১টি দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব তৈরি। এসব সামমেরিন তৈরি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার দায়েউ শিপ বিল্ডিং এন্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী এবং হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সমস্ত ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, করভেটসহ অন্যান্য যাবতীয় রণতরী মূলত এ দ্ইু প্রতিষ্ঠানের তৈরি। হানজিন হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ, এটিএস অফশোর এন্ড শিপ বিল্ডিং টহল জাহাজ এবং এমফিভিয়াস শিপ বিল্ডিংয়ে নিয়োজিত। কাংনাম যুক্ত মাইন ওয়ারফেয়ার নির্মাণে।

মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক থেকে শুরু করে স্থল বাহিনীর যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্র ও সমর যান দক্ষিণ কোরিয়া তৈরি করে। দক্ষিণ কোরিয়ার ট্যাঙ্ক রয়েছে ২ হাজার ৬০০টি। সাঁজোয়া যান ১৪ হাজার ১০০। সেলফ প্রপেল্ড আর্টিলারি ৩ হাজার ৪০টি। টাউড আর্টিলারি ৩ হাজার ৮৮৫টি এবং রকেট প্রজেক্টর ৫৭৪টি। আসুন জেনে আসি দক্ষিণ কোরিয়ার সমরাস্ত্র শিল্পের নানা দিক।

সাবমেরিনসহ বিভিন্ন ধরনের রণতরী, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইঞ্জিন এন্ড মেশিনারি, ইলেট্রিক এন্ড এনার্জি সিস্টেম, অফশোর এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট, রোবটিকস, গ্রিন এনার্জি, মটর কোম্পানী, গ্লোবাল সার্ভিস প্রভৃতির সাথে যুক্ত হাইউন্দাই। সাবমেরিন, বিভিন্ন ধরনের রণতরীর পাশপাশি দক্ষিণ কোরিয়া আর্মির জন্য হাইউন্দাই নির্মাণ করে কে ১ এবং কে২ মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক।

হাইউন্দাই এর আগে নাম ছিল হুন্দাই। ১৯৭২ সালে এ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন চাং জু ইয়াং। তবে এর প্রকৃত যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৭ সালে।

দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক বিখ্যাত জাহাজ নির্মাণ শিল্প স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রি। । স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাহাজ নির্মাতা শিল্প। সারা বিশ্বে ইলেকট্রনিক পন্যের জন্য বিখ্যাত স্যামসাং সমুদ্রগামী দৈত্যাকার বানিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ করে থাকে।

  • 2
    Shares