154 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকাকরণের প্রক্রিয়া চলছে ভারতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

টিকা নিয়ে হয়রানি পশ্চিমবঙ্গে। কাঠফাটা গরমে লম্বা লাইন দিয়েও অনেকে ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না। কেউ প্রথম ডোজ পেয়েছেন বটে, তবে দ্বিতীয়টির জন্য একই ভোগান্তি। পয়লা মে থেকে এই সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা।

লম্বা লাইনে জনতা, কবে মিলবে টিকা?এপ্রিলের শুরুতেও প্রতিদিন গড়ে ৩৭ লাখ ডোজ দেওয়া হচ্ছিল দেশে। এখন তা নেমে এসেছে ২৫ লক্ষে। ফলে টিকা নিয়ে হাহাকার। কেন্দ্রের আশ্বাস, এই সপ্তাহের মধ্যে আরও ৫৭ লাখ ডোজ পাঠানো হচ্ছে রাজ্যগুলিতে। এর মধ্যে বুধবারই কোভিশিল্ডের চার লাখ ডোজ পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু তাতে কি চাহিদা মিটবে? স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিনের জোগান কম। তাই জেলা থেকে শহর— সর্বত্র ভ্যাকসিন নিয়ে হাহাকার।

লাইনে ভিড়ে ঠাসা দীর্ঘ অপেক্ষায় ভ্যাকসিনের বদলে জুটছে শুধু ভোগান্তি। খাস কলকাতার বেসরকারি থেকে সরকারি হাসপাতাল— টিকাকরণ ঘিরে ক্ষোভ-হতাশার ছবিটা কমবেশি একই। সূত্র বলছে, কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল আমরি হোক কিংবা ক্যালকাটা হার্ট রিসার্চ ক্লিনিক, কারো হাতে পর্যাপ্ত ডোজ নেই। জোগান যত, চাহিদা তার থেকে ঢের বেশি। একই হাল এসএসকেএমের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানেও। বহু জায়গাতেই তাই বন্ধ টিকাকরণ। কোথাও বা শুধু দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে। টিকা নিতে গিয়ে তুমুল হয়রানি প্রবীণদের।

এর সঙ্গে থাকছে একই হাসপাতালে কোভিড টেস্টের ভিড়। বাড়ছে সংক্রমণের ভয়ও। অব্যবস্থার অভিযোগে বিক্ষোভের সঙ্গে পথ অবরোধও করছে সাধারণ মানুষ। ভ্যাকসিন নিয়ে এই সঙ্কট কেন? চিকিৎসকদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস্ ফোরামের তরফে চিকিৎসক রাজীব পান্ডে বলেন, “গোড়ায় ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে একটা অনীহা কাজ করেছে। মাসখানেক আগেও আমরা অনেককে বুঝিয়েও ভ্যাকসিন নিতে রাজি করাতে পারিনি। হঠাৎ সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সে কারণেই এত লাইন, হয়রানি।”

শহরের সঙ্গে সংক্রমণ বাড়ছে জেলাতেও। পাল্লা দিয়ে হাহাকার ভ্যাকসিনের। প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়েও টিকা না মেলায় ক্ষোভ জেলায় জেলায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে ভ্যাকসিনের দীর্ঘ লাইন। কোভিড বিধি ভেঙেই জটলা একাধিক টিকাকরণ কেন্দ্রে। ভ্যাকসিনের অভাবে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালেও বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বিধি না মেনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন শয়ে শয়ে প্রবীণ। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও এক জায়গায় অনেক মানুষের জটলা। কোলাঘাটের ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শ্রীরামপুর পুরসভার মাহেশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও একই অবস্থা। সার্ভিস ডক্টরস্ ফোরামের সদস্য, চিকিৎসক সজল বিশ্বাস বলেন, “ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি চলছে। এটা এক ধরনের বিজনেস পলিসি। মানুষকে বেশি দাম দিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে টিকা নিতে হবে। তাতে সাধারণ মানুষের পকেটই খসবে।” স্বাভাবিকভাবে বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ভোটকর্মীদের সকলের টিকাকরণ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তারা ভোট নিচ্ছেন বুথে বুথে। বুধবার সব জায়গায় ভোটযন্ত্র বিতরণ উপলক্ষে মেলা বসে গিয়েছিল। দূরত্ব বিধির বালাই ছিল না!

টিকাকরণ নিয়ে রাজ্য সরকারের নয়া বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতেই মাথায় হাত বেসরকারি হাসপাতালের। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণের জন্য রাজ্য সরকার ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করবে না। টিকা কিনে নিতে হবে প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে। এই মুহূর্তে যে সংখ্যক ভায়াল রয়েছে বেসরকারি হাসপাতালের হাতে, ৩০ এপ্রিলের পর তা-ও ফিরিয়ে দিতে হবে। তাহলে কী ভাবে চলবে ৪৫-ঊর্ধ্বদের টিকাকরণ? কী ভাবেই বা দেওয়া হবে দ্বিতীয় ডোজ?

পয়লা মে থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলেই টিকা নিতে পারেন। এর মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে টিকাকরণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে বিপাকে পড়বে আমজনতা। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে শুধু বলা হয়েছে, হয়রানি এড়াতে আগে থেকে জানাতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের একাধিক সংগঠন। চিকিৎসক পুণ্যব্রত গুণ ডয়চে ভেলেকে বলেন, “আমাদের দাবি ছিল, সর্বজনীন টিকাকরণের। এটা মূল্যের বিনিময়ে হতে পারে না। সবাই তো ভ্যাকসিন কিনতে পারবেন না। তাহলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে না। রোগটাকে ঠেকানো যাবে না।”