ব্যক্তিগত স্তুতি নয়, কাজই হোক পরিচয়: ডিজিটাল বিলবোর্ড অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

লেখক: Sanjida
প্রকাশ: ৭ দিন আগে
ব্যক্তিগত স্তুতি নয়, কাজই হোক পরিচয়: ডিজিটাল বিলবোর্ড অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানিয়ে টানানো সব ধরনের ডিজিটাল বিলবোর্ড, ব্যানার ও বিজ্ঞাপনী প্রদর্শনী দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি এ নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় নিজের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার দেখে তাৎক্ষণিক অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই সেটি অপসারণের নির্দেশ দেন এবং তা দ্রুত কার্যকর করা হয়। এর আগেও কয়েক দিন আগে বিজয় সরণি এলাকায় একটি এলইডি স্ক্রিনে অভিনন্দন বার্তা প্রদর্শিত হতে দেখে তিনি তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন তার ছবি ব্যবহার করে বিলবোর্ড বা ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিনন্দন বার্তা প্রচার না করে। সরকারি কাজের প্রচারই অগ্রাধিকার পাবে, ব্যক্তিগত স্তুতি নয়—এমন অবস্থান থেকেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সচিবালয়-এ নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন। সেখানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগর-এ নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে জলদস্যুতা, মানবপাচার ও অবৈধ চোরাচালান রোধে নিয়মিত টহল বৃদ্ধির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের মৎস্য সম্পদ সুরক্ষা ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ডকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। সামুদ্রিক সীমানায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়েও একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিআইপি প্রটোকল বা সড়ক বন্ধ না করে সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলায় যানবাহনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৪ দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগে রাজধানীর গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার, যা বর্তমানে বেড়ে ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করায় রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীরাও একই নিয়ম অনুসরণ করছেন বলে জানানো হয়।

বাজার পরিস্থিতি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী সজাগ রয়েছেন। সম্প্রতি প্রান্তিক মানুষের প্রধান খাদ্য ‘মোটা চাল’-এর দাম বৃদ্ধির সংবাদ তার নজরে এলে তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার এ কঠোর অবস্থানের ফলে খুচরা বাজারে চালের দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ব্যক্তিগত প্রচারণা পরিহার করে জনস্বার্থমূলক কার্যক্রমে মনোযোগী থাকার এই বার্তা সরকারের নীতিগত অবস্থানকেই স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • কাজই হোক পরিচয়: ডিজিটাল বিলবোর্ড অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
  • ব্যক্তিগত স্তুতি নয়