120 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ভ্যাট ১০ শতাংশ কমলেও গ্রাহক পর্যায়ে দাম কমছে না

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন ভ্যাটের হার কার্যকর হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) মাধ্যমে প্রদত্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবায় ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ভ্যাটের হার কমলেও গ্রাহকরা কোনো সুফল পাবেন না।

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন ভ্যাটের হার কার্যকর হবে।

ভ্যাট ১০ শতাংশ কমলেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য কমছে না বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠন আইএসপিএবি’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম হাকিম।

তিনি জানান, ভ্যাটের হার না কমানো হলে আগামী মাস থেকেই ইন্টারনেটের দাম ৩০ শতাংশ বাড়ত, এখন আর সেটা বাড়বে না, এটাই গ্রাহকদের জন্য সুখবর। এ দিকে আইএসপি’র মাধ্যম প্রদত্ত ইন্টারনেট সেবায় ভ্যাটের হার কমানো হলেও মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ভ্যাট বা কর হার কোনটিই কমানো হয়নি। বর্তমানে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ভ্যাট, সম্পুরক শুল্ক এবং সারচার্জ মিলিয়ে মোট ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে, টেলিযোগাযোগ সেবায় এই কর হার এশিয়ায় সর্বোচ্চ। বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী দেশে ৯২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এ কারণে প্রকৃত অর্থে দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এনবিআরের সিদ্ধান্তে কোনো সুফলই পাচ্ছেন না।

আইএসপিএবি সভাপতি জানান, বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের বেশি ভ্যাট আদায়ের নিয়ম থাকলেও আইএসপিগুলোকে ৩৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হত। এটা আইন বিরোধী।

কিভাবে ৩৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে তিনটি স্তরের মধ্যে দু’টি স্তরে অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী আইআইজি এবং ট্রান্সমিশন সেবা দেওয়া এনটিটিএন কোম্পানিরা কেউই ভ্যাট দিচ্ছে না। তিনটি স্তরে ভ্যাট দিতে হচ্ছে শুধু আইএসপিগুলোকে। ফলে তিন স্তরে মোট ৩৫ শতাংশ ভ্যাটের বিশাল বোঝা আইএসপিগুলোর ঘাড়ে এসে পড়েছিল এবং এটা দেশের আইন বিরোধী। এ কারনেই আইএসপিএবি’র পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কয়েক দফা বৈঠকের পর সরকার তিনটি স্তরেই ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে। ফলে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে আইএসপিগুলোকে ১৫ শতাংশ ভ্যাটই দিতে হবে।

এর ফলে গ্রাহকরা কোনো সুফল পাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আইএসপিগুলো নিজেদের ব্যবসায়িক হিসেব অনুযায়ী মাসিক প্যাকেজ মূল্য নেয় গ্রাহকের কাছ থেকে। এই প্যাকেজমূল্য সুনির্দিষ্ট নয়। কেউ ৫০০ টাকা প্যাকেজ মূল্য রাখে, আবার কেউ এক হাজার টাকা রাখে। কেউ হয়ত আরও বেশি রাখে। এ কারণে ভ্যাটের হার কমানোর কোনো প্রভাব এই প্যাকেজ মূল্যের উপর পড়বে না। তবে ভ্যাটের হার না কমানো হলে যার যে প্যাকেজ মূল্য আছে তা উপর ৩০ শতাংশ বাড়তি যোগ হতো আগামী মাস থেকে, এখন সেটা যোগ হচ্ছে না। এটাই গ্রাহকদের জন্য সুখবর।