ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে এম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি: অসুস্থদের উপর বাড়তি ভাড়ার চাপ

লেখক: লিটন হোসাইন জিহাদ
প্রকাশ: ৩ মাস আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে এম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মেইন গেইটে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও এম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সামনে এম্বুলেন্সের সিরিয়াল ও ভাড়া নির্ধারণে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্র, যারা অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া ও সিরিয়াল বাবদ ঘুষ।

হাসপাতালের গেটের সামনে থাকা এম্বুলেন্সগুলোর সিরিয়াল পেতে দিতে হয় ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ। যে এম্বুলেন্সটি সিরিয়ালে থাকে, রোগী বা স্বজনদের তাকে ভাড়া করতেই হয়—অন্য কোনো এম্বুলেন্স নেওয়ার সুযোগ নেই। রোগীর পরিবার অন্য এম্বুলেন্স নিতে চাইলে বাধার মুখে পড়তে হয় সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছে।

রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, ঢাকাসহ দূরবর্তী এলাকায় রোগী নেওয়ার সময় এক হাসপাতাল থেকে পাশের অন্য হাসপাতালে গেলেও চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন, না দিলে খারাপ আচরণ করেন। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্নবিত্ত ও অসহায় রোগীর পরিবারগুলো।

এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুমীর চক্রবর্তী।
তিনি লিখেছেন—

“ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মেইন গেইটে এম্বুলেন্সের সিরিয়াল এবং ভাড়া বাণিজ্য চলছে। ৫০০ টাকায় দেওয়া হয় সিরিয়াল, যে এম্বুলেন্স থাকবে সিরিয়ালে তাকে ভাড়া নিতে হয় বাধ্য হয়ে। অন্য কোনো এম্বুলেন্স যেতে পারে না। প্রকাশ্যে এ কেমন চাঁদাবাজি চলছে সদর হাসপাতালের এম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের? তারপর ঢাকা গিয়ে এক হাসপাতাল থেকে পাশাপাশি আরেক হাসপাতালে গেলেই ভাড়া বাড়িয়ে দেয়, না দিলে ড্রাইভারের খারাপ ব্যবহার। খবর নিয়ে জানতে পারলাম, টাকার ভাগাভাগি হয় হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার মধ্যে।”

তিনি আরও দাবি করেন—

“সদর হাসপাতালের ভিতরে এম্বুলেন্স সিরিয়াল পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি এম্বুলেন্সের ড্রাইভার ও মালিকের নাম্বার হাসপাতালের ভিতরে বিলবোর্ডে ঝুলিয়ে দিতে হবে, যাতে রোগীর পরিবার যার সেবা পছন্দ করবে, সেই এম্বুলেন্স ভাড়া নিতে পারে।”

এ বিষয়ে এম্বুলেন্স মালিক মানিক মিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে জুম্মান, টাঙ্গাইল্লা রফিক আর ইসাক সিন্ডিকেট করে টাকা নিতো। এখন তারা নেই। তবে বর্তমানে রামুদা, জহির, বাবু ও আবুল দায়িত্বে আছে—তারাই এখন সব কিছু পরিচালনা করে।”

এম্বুলেন্সের সিরিয়াল পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মানিক মিয়া আরও বলেন,

“সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মিলে এই সিরিয়াল ব্যবস্থা চালু করেছে যাতে ঝামেলা না হয়। যদিও হাসপাতাল থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তবুও বাস্তবে ৫ হাজার টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।”

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন  ডা. মো. নোমান মিয়া জানান, “এম্বুলেন্সের সিরিয়াল বিষয়ে আমার সঙ্গে কারো কোনো কথা হয়নি। কেউ যদি সিরিয়ালের নামে টাকা নেয়, তা অন্যায়। তবে চাইলে হাসপাতাল সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলে সব এম্বুলেন্স ড্রাইভারের নাম ও মোবাইল নম্বর বোর্ডে টানিয়ে দেওয়া যেতে পারে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি হাসপাতালের সামনে এই ধরনের প্রকাশ্য বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি মানবিক মূল্যবোধ প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের পরিপন্থী। তারা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের এই অনিয়ম বন্ধ করে রোগী তাদের স্বজনদের জন্য ন্যায্য স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা হয়।