768 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনোর মধ্যেও ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল, দায় স্বীকার কর্তৃপক্ষের

  • 217
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    217
    Shares
আদিত্ব্য কামাল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনার মধ্যেও ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক। তবে অভিযোগের বিষয়টি শিকার করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরন বিভাগ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকরা কয়েক মাসের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। গত কয়েক মাসের তুলনায় গত মে মাসের বিদ্যুৎ বিলে টাকার পরিমাণ অনেক বেশি বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার জুবিলী রোড হালদার পাড়া এলাকার সৈয়দা তাসনিম নিলা অভিযোগ করে বলেন, এবার বিদ্যুৎ বিলের মিটার রিডিং না দেখেই বিল করা হয়েছে। আমার যেখানে ৪৫০০/ টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল আসার কথা সেখানে এসেছে ১৫,০০৩০/ টাকা।
পৌরসভার ভাদুঘর এলহামপাড়ার রমজান মিয়া অভিযোগ করে জানান আমাদের বিল প্রতিমাসে ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা আসার কথা সেখানে তিন এসেছে ৭০০০,টাকা।
মেড্ডা এলাকার এস,কে মাহবুব রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমি বিল দিয়ে দিয়েছি কিন্তু এখন দেখি ১৫৬ ইউনিটে ৫৮৭৭ টাকা, এত টাকা কিভাবে এত কম ইউনিটে এতবেশি টাকা হলো বুঝতে পাছিনা।
পৌরসভার ভাদুঘর এলাকার নাদিম হোসেন বলেন আমাদের ৩ মাসে ৭০০০ টাকা আসছে, বুঝলাম না আর। একই এলাকার এম,এ ছালেখ আহাম্মেদ বলেন আমাদের বিল প্রতিমাসে আসত ৮০০ বা ১০০০ টাকা ৩ মাসে দিয়েছে ৪৫০০ টাকা, আমি ভাদুঘর গালস স্কুলে চাকরী করি ৪ মাস যাবত বেতন পাইনা অনেক কষ্ট করে বিল পরিশোধ করেছি।
বাবুল আহাম্মেদ নামক এক গ্রাহক বলেন আমি আমার প্রতি মাসে বিল ৭০০-৮০০ টাকা আসিত প্রথম দুই মাস বিল কম ছিল তিন মাসের মাথায় সব মিলিয়ে ৪৩১০ টাকা বিল করে আমার মিটারে এত রিডিং নাই আমি এখন কি করব।
সুমন আহাম্মেদ নামক এক গ্রাহক জানান, আমার তো যেখানে বিল ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যেই ছিল, এখন তিন মাসের বিল আসছে ৪২৭৯ টাকা।
অপর গ্রাহক আহসান হাবিব মুন্না বলেন আমার তিন মাসে ৯০০০ টাকা আসার কথা, আমি দিয়েছি ১৭০০০ টাকা।
মেড্ডা এলাকার আরেকজন গ্রাহক প্রবির দেব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, কারেন্ট বিল এপ্রিল মাস ৫৪২ এবং মার্চ ৩১৭ টাকা। মে মাসের সহ এখন তিন মাসের বিল ১০৩৬৫ টাকা। করোনাতে মনে হয় বিদ্যুৎ বিভাগ পজিটিভ আসছে।
মধ্যপাড়ার আনোয়ার হোসেন জানান, আমার নতুন বাড়ির জন্য বিদ্যুৎ বিলের সংযোগ এনে রেখেছিলাম কিন্তু বাড়ি প্রস্তুত না হওয়ায় মিটার লাগানো হয় নাই। তবু আমার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২২হাজার টাকা।যা পরে ৬হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে কুমিল্লা থেকে কমিয়ে এনেছি।

পাইকপাড়ার শামসুন্নাহার অভিযোগ করে বলেন, গত মার্চ মাসে ৩৭০ টাকা,এপ্রিল মাসে ৪৪০ কিন্তু মে মাস সহ তিন মাসের বিল এসেছে ৪৬০০টাকা।করোনার কারণে যেখানে খাবার সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হচ্ছে সেখানে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেয়া কিভাবে সম্ভব। এইটাতো আমাদের মতো মধ্যভিত্তদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে।

আশুগঞ্জ উপজেলার সাথী আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, আমার বাড়িতে প্রতি মাসে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে।কিন্তু এইবার গত মে মাসের বিল সহ একত্রে ৩মাসের বিদ্যুৎ বিল ৪২০০ টাকা এসেছে। শুধু আমার ই না আমাদের আশেপাশের সবার ই মোটামুটি একি অবস্থা। এই ভৌতিক বিল পেয়ে আমরা অভাক।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী হেফজুল বারী জানান, করোনাভাইরাসের কারণে এবার এমনটা হতে পারে। আগামী জুন মাসে বিল স্বাভাবিক আসবে। যে মাসের বিল বেশি আসছে সেই মাসের বিল পরের মাসের সাথে সামঞ্জপূর্ণ করে সমান করা হবে। এতে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সব আগের মতই চলবে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আঃহান্নান
বলেন, আমাদের সিষ্টেম অনলাইন ভিত্তিক করা হয়েছে। এ ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেউ যদি মিটার না দেখে বিল করে থাকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।তবে করোনার কারনে গত ৩মাসের বিল একসাথে হওয়ায় কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। যাদের মিটার এর সাথে বিদ্যুৎ বিলের সামঞ্জস্যতা নেই তারা সরাসরি অফিসে চলে এলে সমস্যার সমাধান করে দেয়া হবে।
  • 217
    Shares
  • 217
    Shares