270 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে সদর হাসপাতালের তিন টেকনোলজিস্ট

  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    23
    Shares
মোঃ আজহার উদ্দিন: জীবন এবং পেশা এই দুইয়ের মধ্যে মানবতা আর দায়িত্বকেই বেছে নিয়েছেন সেবাখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপদ থাকতে সবাই যেখানে বাসায় অবস্থান করছেন, সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রশাসন, সামরিক বাহিনী, স্বাস্থ্যখাতের সংশ্লিষ্টরা। বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করছে ২৫০শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ও বহিঃবিভাগে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। সংক্রমণের বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করছেন প্যাথলজি বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাও। জেলায় করোনা সংকটের শুরু থেকেই পরিবারের কথা না ভেবে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন এই তিন টেকনোলজিস্ট ।
করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তারা ছুটে যাচ্ছেন হাসপাতালে। সংগ্রহ করছেন প্রতিদিন ৬০-৭০টি পিসিআর নমুনা। আবার অনেক সময় করোনা পজিটিভ আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসছেন তারা। একই সঙ্গে হাসপাতালে আসা উপসর্গের রোগীদের নমুনা দেওয়ার নামের তালিকাও করছেন তারা৷ তারপর রোগীদের থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা ল্যাবে পাঠানোর দায়িত্বও পালন করছেন তারা। তবে তাদেরকে কয়েকজন সেচ্ছাসেবী করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের নামের তালিকা সংগ্রহ করে দিচ্ছে। এমনই তিনজন টেকনোলজিস্ট কৃষ্ণ দাস, মিঠুন কর্মকার ও বিদুৎ রায়৷ তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদে কাজ করে যাচ্ছে৷ তারা বিরামহীন দিন-রাত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনার নমুনা সংগ্রহ ও আক্রান্তদের নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারকে ভুলে গিয়ে, নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকা টেকনোলজিস্টরা জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন স্যারের নির্দেশনায় সতর্কতা অবলম্বন করে আমরা নমুনা সংগ্রহ করে যাচ্ছি। মহামারীর এই সময়ে দায়িত্ব পালনে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও, মানুষদের সেবা দিতে পেরে আমরা গর্বিত।
মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) কৃষ্ণ দাস বলেন, এ রকম মহৎ কাজে জড়িত হয়ে মানুষের সেবা দিয়ে যেতে পারছি বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। সতর্কতা অবলম্বন করে আমরা নমুনা সংগ্রহ করে যাচ্ছি। সরকারি চাকরির পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে আমাদের। এ কারণে আমরা যত্ন সহকারে উপসর্গের রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করি। আমরা পরিবার থেকে আলাদা থাকি। তবে এজন্য বন্ধু-বান্ধব প্রতিবেশী কেউই আমাদের কাছে আসতে চায় না। তাদের ধারণা আমরা যেন করোনাভাইরাস নিয়ে বসে আছি, তখন কষ্ট পাই। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন বলেন, করোনা যোদ্ধা হয়ে সবচেয়ে বেশি সাহসী ভূমিকা রাখছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসি কোভিড বুথে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। করোনা রোগী সনাক্তে, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার মূল কাজটা করে থাকেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। সবার আগে করোনা উপসর্গের রোগীদের কাছেও যাচ্ছেন তারা, তাই বেশি ঝুঁকিও আছে তাদের৷ এখন পর্যন্ত ১৫৯০টি নমুনা সংগ্রহ করেছে তারা৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান সমন্বয়ক ডাঃ একরামুল রেজা টিপু বলেন, এই তিনজন সার্বক্ষণিক নমুনা সংগ্রহের কাজ করছেন। এছাড়া তিনজন পর্যায়ক্রমে সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়েও তারা সদর হাসপাতালের পিসিআর কালেকশন বুথে প্রতিদিন রোগীদের থেকে ৬০-৭০টি নমুনা সংগ্রহ করছেন। উল্লেখ্য, ২৫ই জুন পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে ১০৯ জন সুস্থ হয়েছেন, মারা গেছেন ৭জন। আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৩৫ জন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন পর্যন্ত ৮৭১৯ জনের করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ হয়েছে৷ যার মধ্যে পাওয়া ৬৯৬১ জনের রিপোর্টে- ৬৭৪ জন আক্রান্ত হয়েছে৷
  • 23
    Shares