212 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নাসিরনগরে গুনিজনের স্মৃতি উপেক্ষিত—-এডঃমোঃমোজাম্মেল হক

  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    22
    Shares
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মনবাড়িয়ার ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়, সবুজ শ্যামলে ঘেরা,পাখির কলকালীতে মুখরিত,উর্বর পলিবিধৌত নাসিরনগরের অতীত ইতিহাস আমাদের প্রেরনার উৎস হিসাবে কাজ করবে অনাদিকাল।বঙ্গ বিজেতা মুকুট বিহীন সম্রাট হযরত শাহজালাল (রাঃ) এর অন্যতম সহচর দিল্লী সালতানাতের উত্তরসূরি হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন সিপাহশালার নামানুসারে নাসিরনগরের নামকরন করা হয়েছে বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়।ব্রাহ্মনবাড়িয়ার এক সময়কার শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র মহকুমা সদর ছিল এই নাসিরনগরেই।তাছাড়া তৎকালীন সময়ে বৃহত্তর কুমিল্লার দুটি নৌ থানা ছিল, যার একটি হচ্ছে সর্ব উত্তরের এই নাসিরনগর অপরটি দক্ষিনাঞ্চলের বর্তমান চাদঁপুর জেলা।অতীত ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ভরপুর এই নাসিরনগরেই জন্ম নিয়েছে উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কয়েকজন বীর সেনানী।সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা, পরবর্তীতে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের সাধারন সম্পাদক,উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম ব্যারিষ্টার আবদুর রসুলের জন্ম এই নাসিরনগরে।
বাঙ্গালী মুসলমানদের শিক্ষা-দীক্ষা ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আরেক সূর্য সন্তান, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি উপমহাদেশের ব্ল্যাকজুয়েল খ্যাত স্যার সৈয়দ শামছূল হুদার জন্ম নাসিরনগরে।ইতিহাস খ্যাত এই উর্বর ভূমি জন্ম দিয়েছে উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ফখরে বাঙ্গাল মাওলানা তাজুল ইসলাম,বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত কবি মতিউল ইসলাম,কালোমানিক খ্যাত মাওলানা আশরাফ আলী ধরমন্ডলী,ব্রাহ্মনবাড়িয়ার প্রথম জজ শামছূর রহমান মোল্লা সহ বহু কীর্তি মানকে।সময়ের প্রয়োজনে তাদের আবির্ভাব বাঙ্গালী জাতিকে করেছে গর্বিত,বাংলার মাটিকে করেছে পবিত্র।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো,জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জন্মভূমি নাসিরনগরে আজ অবধি তাদের নামে কোন স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরন করা হয়নি।প্রবাদ আছে যেখানে গুনিজনের কদর নেই সেখানে গুনিজন জন্ম নেয় না।আমরা বেমালুম ভুলে যেতে বসেছি ক্ষনজন্মা এই কীর্তিমানদের।অধিকাংশ লোকই তাদের গৌরবোজ্জল ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞাত নানা কিংবা তাদের ঐতিহ্য সংরক্ষন করতে নেই কোন উদ্দিপনা।কথায় আছে যে জাতি তার অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানেনা, সে জাতি তার ভবিষৎ বিনির্মান করতে পারেনা।শিক্ষা-দীক্ষা,সাহিত্য-সংস্কৃতি কিংবা জ্ঞান গরিমায় এদেশের তরুন প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলতে খ্যাতনামা এসব সূর্য সন্তানদের ইতিহাস সংরক্ষন করে জাতির সামনে তুলে ধরা এখন সময়ের চাওয়া।স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত অবহেলিত ও উপেক্ষিত কীর্তিমান পুরুষদের সুনাম সুখ্যাতিকে জাতির সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে আমাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।এসব আলোকিত মানুষদের সু-স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মান সম্ভব।।
  • 22
    Shares