1113 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ভাদুঘরে কিশোর শিহাবের রহস্যজনক মৃত্যু; পরিবারের দাবি হত্যা (ভিডিও)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পথিক রিপোর্ট:   ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পৌর ভাদুঘর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনারের বাড়িতে মোবাইল চুরির অপরাধে আটক কিশোর শিহাবের গত ১০জুলাই (শনিবার) রাতে টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে মৃত্যু হয়েছে।
নিহত কিশোরের নাম শিহাব (১৬)। পিতার নাম ফারুক মিয়া। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানার ভাদুঘর ভূঁইয়া পাড়ায়।
কিন্তু কি কারণে তরতাজা এক কিশোর মারা গেল তা প্রশাসনের কেউ বলতে পারছে না। যদিও নিহতের পরিবারের অভিযোগ তার গায়ে অতিরিক্ত ক্ষত রয়েছে,পরিবারের দাবি শিহাব স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু বরণ করেনি,তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় নিহত শিহাবের মৃত দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে । খুজ নিয়ে জানা যায়, গত মে মাসের ৩ তারিখ রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘরের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ডাবলু মিয়ার বাড়িতে মোবাইল চুরি হওয়ার ঘটনায় কিশোর শিহাবকে আটক করে সারা রাত তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন সকালে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। তারপর পুলিশও তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালালে শিহাব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তাকে পুলিশের হেফাজতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ডাবলু মিয়ার করা চুরির মামলায় মে মাসের ৫ তারিখ শিহাবকে টঙ্গীতে পাঠানো হয়। টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে যাওয়ার পর থেকে সে অসুস্থ ছিল এবং ১০ জুলাই উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোর হাজতিদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় সে আবার আহত হয়ে মারা যায় ।
এ ব্যাপারে শিহাবের পরিবার এবং এলাকাবাসী জানান, শিহাবকে মোবাইল চুরির সন্দেহে ডাবলু কমিশনারের ছেলে এবং তার বন্ধুরা মিলে তাদের বাড়িতে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে শিহাবের হাতের আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলা সহ সারারাত অমানবিক নির্যাতন চালায়। মারধর শেষে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে থানায় খবর দেয়। সকালে থানা থেকে এস আই মোতালেব এসে সবার সামনেই শিহাবকে আবার মারধর করে। এতে শিহাব মারাত্মক আহত হলে পুলিশ’ই তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেয়ার পর মামলা দিয়ে টঙ্গী পাঠিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভাদুঘরের সাবেক কমিশনার ডাবলু মিয়া বলেন, শিহাব আমার বাসা থেকে মোবাইল চুরি করেছে জানতে পেরে তাকে আটক করা হয়েছিল। আটকের পর সে নিজেই স্বীকার করেছিল যে সে মোবাইল চুরি করেছে। মোবাইল চুরি করে কোথায় রেখেছে তা জানতে তাকে সারারাত আটকে রেখে মোবাইল খোঁজ করা হয়। কিন্তু তাকে কেউ মারধর করেনি, উল্টো আমি তাকে খেতে দিয়েছি এবং আদর করে জিজ্ঞাসা করেছি মোবাইল এর ব্যাপারে।
রাত ১২ টা থেকে সকাল পর্যন্ত খোঁজা-খোঁজি করেও মোবাইল উদ্ধার না হওয়ায় আমি থানায় খবর দেয়। তখন এস আই মোতালেব এসে তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং আমাকে মামলা দিতে জোর করে। যদিও আমি মামলা দিতে চাইনি, শুধু মোবাইল গুলো উদ্ধার করে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু এস আই মোতালেব এর জোড়াজুড়িতে মামলা করি। কিন্তু মামলা করার পর এই ব্যাপারে আর কোন খোঁজ খবর আমি নেই নাই। গতকাল ১১জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা থেকে আমাকে ফোন করে জানানো হয় শিহাব মারা গেছে কিন্তু কিভাবে মারা গেছে সেটা জানাইনি। আমাকে বলেছিল শিহাবের বাড়িতে এই খবর পৌঁছে দিতে। কিন্তু আমি না করে দিয়েছি, বলেছি আমি পারবোনা এই খবর নিয়ে যেতে, অন্য কোন মাধ্যমে খবর পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, বাদী হাতে নাতে ধরে আসামিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এবং তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা করে। এস আই মোতালেব এর তদন্ত শেষে গত মে মাসের ৫ তারিখে পেনাল কোডের ৪৫৭/৩৮০ ধারায় আসামিকে টঙ্গীতে পাঠানো হয়। গত ১০ জুলাই সে অসুস্থ হয়ে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে মারা যায়। তার পরিবার লাশ নিয়ে এসে দাফন কাজ সম্পন্ন করেছে। তাছাড়া এই ব্যাপারে আর কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের কম্পাউন্ডার হেলাল উদ্দিন জানান, শিহাব এখানে আসার পর থেকে প্রায় অসুস্থ থাকত। গত ১০জুলাই কিশোর হাজতিদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে, এতে শিহাব আহত হয়ে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিহাবকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি পোষ্টমর্টেম রিপোর্টে শিহাবের গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়নি অথচ প্রত্যক্ষদর্শীরা ওর গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানায়।
পরিবারের দাবি ডাবলূ মেম্বার ও পুলিশ নিযার্তনেই তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।