32 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ভ্যাকসিন ছাড়া হার্ড ইমিউনিটি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পথিক রিপোর্ট:  কভিড-১৯ ভাইরাসের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি ধারণাটি কয়েক মাস ধরে চাপা পড়ে থাকলেও যুক্তরাজ্যে এটা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রথম দিকে এটাকে মহামারী থামিয়ে দেয়ার উপায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। যুক্তি দেয়া হয়েছিল, পর্যাপ্তসংখ্যক সংক্রমণ ঘটতে দেয়া হলে এটা ভাইরাসটির প্রতিরোধক্ষমতাহীন হোস্টের সংখ্যা হ্রাস করবে।

তবে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের আগে সংক্রমণের কারণে যুক্তরাজ্যে মৃতের সংখ্যা দীর্ঘ হবে—গবেষকরা এমনটা জানানোর পর ধারণাটি চাপা পড়ে যায়। যদিও এখন আবার ধারণাটি খবরের শিরোনাম হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত গ্রেট ব্যারিংটন ডিক্লারেশন অনুসারে, বেশির ভাগ সম্প্রদায়ের জন্য লকডাউন নিষেধাজ্ঞাগুলো সরিয়ে নেয়ার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও বৃদ্ধদের সুরক্ষা দিয়ে জনগণকে তাদের জীবনযাত্রা চালিয়ে নিতে সুযোগ দেয়ার সময় এসেছে। এর ফলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে এবং শিগগিরই কভিড-১৯ অদৃশ্য হয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যের অনেক বিজ্ঞানী সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দেখিয়েছেন, ব্রিটিশ জনসংখ্যার মাত্র ৮ শতাংশ কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের সভাপতি স্যার রবার্ট লেচলার বলেন, হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য আমাদের ৭০ শতাংশ মানুষ সংক্রমিত হওয়ার প্রয়োজন হবে। আমরা কেবল এটা থেকে অনেক পিছিয়ে আছি তা নয়, এখন আমরা জানি যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দেহে কভিড-১৯-এর প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস পায় এবং লোকেরা ভাইরাসটিতে পুনরায় আক্রান্ত হতে পারে।

https://www.facebook.com/watch/?v=390633341966874

বিজ্ঞানীরা যুক্তি দিয়েছেন, ভ্যাকসিন বা নিয়মিত পুনরায় সংক্রমণ ছাড়া হার্ড ইমিউনিটি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আরো লক্ষণীয় বিষয় হলো লকডাউনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে যদি হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের চেষ্টা করা হয়, তবে প্রধানত বৃদ্ধ ও দুর্বলদের মধ্যে ব্যাপক আকারে অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটবে। বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানীরা ব্রাজিলের মানাউসের উদাহরণও দিয়েছেন। শহরটি কভিড-১৯ সংক্রমণের উচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল, যার কারণে এ বছরের শুরুর দিকে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ভাইরাসটির সংক্রমণ হ্রাস পায় এবং দাবি করা হয়েছিল যে শহরটি হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করেছে। তবে মানাউসে পুনরায় সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এর অর্থ হলো শহরটিতে বিস্তৃত সংক্রমণ সত্ত্বেও হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল হেলথের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মাইকেল হেড বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রায় তিন মাস ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ ও জাতীয় লকডাউন ছিল। এ সময়েও সংক্রমিত হয়ে হাজার হাজার দুর্বল মানুষ মারা গিয়েছিল। আর জনসংখ্যার মাত্র ৮ শতাংশ মানুষের মধ্যে কিছু স্তরের ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের লক্ষ্যে এ স্তরটি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার ফলে ভয়াবহ পরিণতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

দ্য গার্ডিয়ান