740 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

মনসুর আহমেদ একজন জনবান্ধব জননন্দিত চেয়ারম্যান

  • 238
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    238
    Shares

জাকির হোসাইন জিকু : সরাইল উপজেলার একজন প্রথিতযশা সালিশকারক হলেন নোয়াগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেযারম্যান মনসুর আহমেদ। তিনি বারিউড়া গ্রামের প্রসিদ্ধ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। উনার পূর্বপুরুষগণও বিচার-সালিশের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। পারিবারিক ভাবে দেখে আসা এই সব সামাজিক কর্মকান্ড তাঁকে ছোট বেলা থেকেই উদ্বুদ্ধ করে মানুষের জন্য, সমাজের জন্য কাজ করতে।

ছাত্রাবস্থায় তিনি জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে তিনি ছিলেন উচ্চকন্ঠ। ছাত্র কল্যাণে তাঁর ভূমিকার জন্য শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তিনি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন স্কুল ছাত্রসংসদের জিএস।

এছাড়া ছাত্রাবস্থায় এলাকার বিচার সালিশেও জড়িয়ে পড়েন। সাধারণ মানুষের পক্ষে হক ও ন্যায় কথা বলতে কখনো পিছপা হননি। ফলে অল্প সময়ে ছোট বেলায়ই এলাকায় অনেক জনপ্রিয় ও মানুষের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। নিজ গ্রাম বারিউড়ার মানুষ তাই মনসুর আহেমদকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেন তিনি বারিউড়া গ্রাম থেকে নোয়াগাঁও ইউনিয়নকে নেতৃত্ব দিবেন।

বারিউড়ার সর্বস্তরের মানুষের ইচ্ছা ও প্রচেষ্ঠায় তিনি নোয়াগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং শুরু থেকেই তিনি একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হন।

 

 

তৎকালীন নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী নুরুল হক ভবিষ্যৎবাণী করে বলেছিলেন, “আমার পরে ৩নং ওয়ার্ডে (তখন প্রতিটি ইউপিতে ০৩টি ওয়ার্ড ছিল) চেয়ারম্যান হওয়ার মত উপযুক্ত ছেলে আছে বারিউড়ার মনসুর এবং একমাত্র তার দ্বারাই সম্ভব ০৩নং ওয়ার্ডে চেয়ারম্যান পদটি ধরে রাখা। বাস্তবে হয়েছিলও তাই। ১৯৯২ সালের ০৩ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রথম বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি মানুষের পারিবারিক-সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে মনোযোগ দেন। প্রথমেই তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেন সমগ্র ইউনিয়নকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে। উনার একান্ত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় তিনি নোয়াগাঁও ইউনিয়নকে পল্লী বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে সক্ষম হন। চেয়ারম্যান হিসেবে এটা ছিল উনার একটি যুগান্তকারী সাফল্য।

এক সময় নোয়াগাঁও ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খুবই নাজুক। খাল দ্বারা বিভাজিত অধিকাংশ গ্রামের খালগুলোর উপর কোন সেতু-কালভার্ট না থাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হত। এলাকাবাসীর এইসব দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তৎপর হন।

বারিউড়া হতে আখিঁতারা পর্যন্ত গ্রামের মানুষদের যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র বারিউড়ায় জাফর খালের উপর প্রথমেই তিনি একটি বেইলী ব্রিজ নির্মাণ করেন। পর্যায়ক্রমে বুড্ডায় দিদির খালের উপর এবং ইসলামাবাদে জাফর খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ করেন। এছাড়া আখিঁতারা-চাঁনপুর রাস্তা নির্মাণ এবং বারিউড়া হতে আখিঁতারা-নোয়াগাঁও হয়ে কালিকচ্ছ পর্যন্ত রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু করেন।

এর ফলে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের মৃতদেহ সৎকারের জন্য বুড্ডায় একটি শ্মশান নির্মাণ করেন, শ্মশান সংলগ্ন একটি ঘর ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করেন এবং বিভিষণ দাশগুপ্তের বাড়ির মন্দির পুণঃনির্মান করেন।

চাঁনপুরে একটি উৎসবের মাঠ নির্মাণ করেন। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন। এরমধ্যে ইসলামাবাদ-তেরকান্দা রাস্তা পাকাকরন, শাহবাজপুর-বুড্ডা রাস্তার কুচনী পর্যন্ত অংশ পাকাকরন, কানিউচ্চে ০৩ টি ব্রীজ নির্মাণ, বারিউড়া পুলের পাড়ে এবং স্কুল সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ০২ টি ব্রীজ নির্মাণ, কুচনীতে ০১ টি ব্রীজ নির্মাণ, নোয়াগাঁও পাঠানবাড়ি ব্রীজ নির্মাণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

মনসুর আহমেদকে নোয়াগাঁও ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকার মানুষজনও একজন যোগ্য ও দক্ষ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকার করেন। মানুষের প্রয়োজনে দিনে-রাতে সার্বক্ষণিকই তাঁকে সবাই পাশে পায়। তাই এবারও তাঁকে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করতে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ।

  • 238
    Shares