186 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

মনোহরগঞ্জে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৬টি পোষ্টঅফিস নিয়ে দু’জেলার টানাটান

  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসামঃ কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চলের জলাখ্যাত মনোহরগঞ্জ উপজেলা সৃষ্টির প্রায় ১ যুগ পার হলেও ১৬টি পোষ্ট অফিস নিয়ে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার টানাটানিতে দূর্ভোগ কমছে না এ এলাকার কয়েক লাখ গ্রাহকের। এতে সরকারও হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব ও পোষ্টাল ঐতিহ্য।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী নব গঠিত মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে শুরু হয়। এর মধ্যে ১৬টি পোষ্ট অফিসও রয়েছে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকরনের নামে মনোহরগঞ্জ, নরহরিপুর, হাসনাবাদ, বাইশগাঁও, দাদঘর, নোয়াগাঁও, পোমগাঁও, কাশিপুর ও আমতলী নামে ৯টি পোষ্ট অফিস চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী সাব পোষ্ট অফিসের অধীনে যার পোষ্টাল কোর্ড নং- ৩৬২৩। অন্যদিকে লাল চাঁদপুর, ইকবালনগর, লক্ষনপুর, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার ও ভোগই নামে ৭টি পোষ্ট অফিস কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলা পোষ্টাল বিভাগের আওতায় যার পোষ্টাল কোর্ড নং- ৩৫৭০।
সুত্রগুলো আরও জানায়, মনোহরগঞ্জ উপজেলা সৃষ্টির প্রায় এক যুগ পার হলেও ১৬টি পোষ্ট অফিসের পৃথক কোর্ড ও উপজেলা কোর্ড নিতে পারেনি এ উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ফলে ১৬ টি পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা পোষ্টাল কোর্ডের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ওইসব পোষ্টাল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বর্তমান সরকার বেতনভাতা বৃদ্ধিসহ অন্যাণ্য সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এ দুই জেলায় টানাটানিতে উপজেলার ১৬টি পোষ্ট অফিস চলছে আগের মতো কর্তৃপক্ষের খেয়াল খুশিতে। ফলে দূর্ভোগের সীমা নেই এ অঞ্চলের কয়েক লাখ পোষ্টাল গ্রাহকদের। মনোহরগঞ্জে ১৬টি পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলার ডাক বিভাগের নিয়ন্ত্রনে থাকায় এ উপজেলার জরুরী চিঠিপত্র, পেপারস ডুকুমেন্ট, ব্যাংক ড্রাফটসহ সরকারী বে-সরকারী ডাক বিলি বন্টনে গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে প্রায় ১৫/২০দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। আবার অনেক চাকুরী প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পৌঁছতে ইন্টারভিউ পরীক্ষার ৫/৬ দিন পর গ্রাহকের হাতে আসে। এছাড়া বিপর্যয় হচ্ছে ডাক বিভাগের সকল কার্যক্রমও।
মনোহরগঞ্জের এক পোষ্ট অফিসে কর্মরত জনৈক পোষ্টাল কর্মকর্তা জানায়, উপজেলার ১৬টি পোষ্ট অফিস দ’ুজেলার পোষ্টাল খপ্পরে পড়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। ডাক বিভাগের কোন কার্যক্রমই সঠিক ভাবে পালন করা যাচ্ছে না। মারাত্মক জনবল সংকট, পরিবহন ব্যয় বেশি, কোন অফিসে মূল্যবান কাগজপত্র রাখার সরঞ্জাম নেই এবং অনেক পোষ্ট অফিসে পোষ্ট মাষ্টার ছাড়া কোন কর্মচারী নেই। বিশেষ করে বিলিকারক, পোষ্টম্যান, রানার, পেকারসহ অন্যান্য পদে কোন কর্মচারী না থাকায় ১৬টি পোষ্ট অফিসে পোষ্টাল কার্যক্রম মারাত্মক অন্তরায় সৃষ্টি করে চলেছে।
পোষ্টাল বিলিকারক আব্দুল মালেক জানায়, এ উপজেলার প্রত্যেকটি পোষ্ট অফিসে নানাহ সমস্যা বিদ্যমান। বেশি মালামাল নিয়ে পরিবহন ছাড়া কোথাও যাওয়া যায় না। আর ডাক বিভাগ কর্তৃপক্ষ পরিবহন খরচ দেন না। ফলে বিভিন্ন ডাক নিজ খরচে আনা নেয়া করা কিংবা গ্রাহকদের মাঝে বিলি করতে হয়। উপজেলা কোন পোষ্ট অফিসে সরকারী স্কেলভূক্ত কোন পোষ্টমাষ্টার নেই বললেই চলে। যারা আছেন ২/১ জন ছাড়া অন্যরা মাসিক সম্মানী ভাতা হিসাবে সরকারি নির্ধারিত টাকা পান। দেশব্যাপী ভাতা বৃদ্ধি, সরকারী স্কেলসহ বিভিন্ন দাবী-দাওয়া নিয়ে পোষ্টাল কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলা ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকের কাছে জানতে চাইলে কোন সন্তোষজনক জবাব কিংবা তথ্য পাওয়া যায়নি। এ অঞ্চলে পোষ্ট অফিসের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। নাম বলতে অনিচ্ছুক জনৈক কর্মকর্তা জানায়, আমি এ উপজেলায় যোগদানের পরপরই বিভিন্ন মহলের দাবীর প্রেক্ষিতে স্থানীয় এমপি- মন্ত্রীসহ কুমিল্লা পোষ্টাল বিভাগ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি এবং চিঠি দিয়েছি। এছাড়া বর্তমান মনোহরগঞ্জ পোষ্টাল কোর্ড ৩৬২৩/৩৫৭০ এর পরিবর্তে কুমিল্লা জেলা ডাকবিভাগ কোর্ড ৩৫০০ এর অধীনে নতুন ভাবে উপজেলা কোর্ড স্থাপনের জন্য অনুরোধ করেছি।

 

  • 11
    Shares
  • 11
    Shares