মাইমুনার আর্তনাদে কাঁপলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া: অপরাধির বিচারের দাবিতে উত্তাল বিশ্বরোড

লেখক:
প্রকাশ: ৬ মাস আগে
মাইমুনার আর্তনাদে কাঁপলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া: অপরাধির বিচারের দাবিতে উত্তাল বিশ্বরোড

৯ বছরের শিশু মাইমুনা আক্তার ময়নার নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পর যেন পুরো জেলাজুড়ে নেমে এসেছে এক শোকের ছায়া, আর সেই ছায়া আজ ক্রমশ রূপ নিচ্ছে প্রতিবাদী আগুনে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ৮ জুলাই মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড মোড়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় হাজারো সাধারণ মানুষ এবং বিক্ষিপ্ত ছাত্রসমাজ। শিশু হত্যার এই নারকীয় ঘটনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তাঁরা জানান, দোষীদের যদি দ্রুত বিচার না করা হয়, তবে জনগণ নিজেরাই প্রকাশ্যে তাদের বিচার করবে।

সরাইল কলেজের এক ছাত্রীর জ্বালাময়ী বক্তব্যে ফুটে ওঠে পুরো জাতির অসহায়তা ও ক্ষোভ:

“এই দেশে এখন শিশুদেরও নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও নারী-শিশু ধর্ষণ হচ্ছে। আর কত সহ্য করবো?”

মানববন্ধনে এক প্রবীণ আন্দোলনকারী জানালেন,

“যে দেশে মসজিদের মত পবিত্র স্থানে একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রাণ হারায়, সে দেশে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ। যদি এ ঘটনার দ্রুত বিচার না হয়, তবে আমাদের আর বসে থাকার উপায় নেই। আমরা রাজপথে থাকবো, আন্দোলনে থাকবো, প্রয়োজনে সর্বাত্মক বিদ্রোহ গড়ে তুলবো।”

এক আন্দোলনকারী জানান আমরা চাই—এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার। আমরা চাই—ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যাতে আর কোনো মাইমুনাকে অকালে পৃথিবী ছাড়তে না হয়। এই ঘটনায় জড়িত কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে না পালাতে পারে।

মানববন্ধনে আসা সিহাব উদ্দিন জানান, মাইমুনা আমাদের কন্যা, আমাদের বোন, আমাদের ভবিষ্যৎ। তাকে হারিয়ে আমরা আর নিশ্চুপ নই। এই নৃশংসতার বিচার না হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শুরু হবে নতুন এক জনতার অভ্যুত্থান—ন্যায়, মানবতা ও নিরাপত্তার দাবিতে!

গত ৬ জুলাই, সরাইল উপজেলার হাভলী পাড়া মসজিদের দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে উদ্ধার হয় শিশু মাইমুনার নিথর দেহ। তার গলায় পেঁচানো ছিল ওড়না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই নিষ্পাপ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। যেই স্থানে মানুষ নিরাপত্তা ও প্রশান্তি খোঁজে—সেই পবিত্র মসজিদই হয়ে উঠলো মাইমুনার জীবনের শেষ গন্তব্য!

এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড শুধু মাইমুনার পরিবারের নয়—পুরো জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। যে সমাজ শিশুদের রক্ষা করতে পারে না, যে রাষ্ট্র ধর্ষকের বিচারে কালক্ষেপণ করে, সেই রাষ্ট্রের নাগরিকদের মুখে সভ্যতার ভাষা আর মানায় না।