244 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

মেয়ে মানুষ: আদিব হোসাইন

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

ব্যথা পাচ্ছি। ব্যথার কথা কাউকে বলতেও পারি না। যদিও বলি কাউকে, তখন হাসতে হাসতে বলে এগুলো সবার জীবনেই হয়। এতো চিন্তা করার কি আছে? মেয়ে মানুষ তুমি। একটু আকটু সহ্য ক্ষমতা রাখতে হয়। সহ্য ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করি। অসহ্য হয়ে উঠি দিন দিন।

রাত জাগি। চোখের কোনো কালো দাগ কাজল দিয়ে ঢেকে দিই। বেড়ে উঠি ধীরে ধীরে। গোবরের পদ্ম ফুল থাকার কথা থাকলেও গুয়ের মাছি হয়ে জীবনযাপন করি। দিব্যি চার পাশের মানুষ গুলোকে যন্ত্রণা মনে হয়। ডাক্তার দেখাই কাজ হয় না। ঘুম পারানোই যেন সবার একটা মহৎ কাজ। ঘুমাই শান্তিতে। ভেতরে অশান্তি থাকে। বই পড়েও ক্লান্তি চলে আসে। মুভি দেখি কাঁদি। মানুষের ভেতরে ঘৃনার চোখ দেখি। প্রতিবাদ করতে পারি না। বাবা মাকে বুঝাতে পারি না আমি মারা যাচ্ছি, আমাকে বাঁচাও। কারণ তারা তো কখনোই বুঝে না।

প্রিয় মানুষ খুঁজি। খোঁজে পেলে নিজেকে তার মধ্যে সম্পূর্ন দেওয়া চেষ্টা করতে গিয়ে আবারো একা হয়ে উঠি। দেয়ালে দেয়াল অন্ধকার চলে আসে। নিজের ভেতরে বিষাক্ত যন্ত্রণা কেউ বুঝতে চায় না। কাউকে বুঝাতে পারি না আমার মধ্যে অনেক কিছু ছিলো কিন্তু তোমরা সব ধ্বংস করে ফেলেছো। নিশ্বাস বন্ধ করতে চাই। বুকে ব্যথা হয়। চোখের জল শুকিয়ে যায়। নেশা না করেও তখন গাঁজাখোর হয়ে উঠি সবার চোখে। বেশ্যা নাম তো ছোট কাল থেকে মা বলা শুরু করে।

একদিন খুব কাছে যারা সুসময় নিয়ে এসেছিলো তারাই যেন আমার জীবনটা তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলেছে। কাউকে বুঝাতে পারি না। নিজেও তখন বুঝিনি কি হচ্ছে। যখন বুঝতে পারি তখন সামলাতে পারি না। পোশাক বিলাসিতা না থাকলেও একটু স্বাধীনতা চাই। পারি না পরিবারের জন্য। আমাকে তারা বাঁচতে দেয়। আমাকে তারা খেতে দেয়। আমাকে তারা পোশাক দেয়। টাকা দেয়। পড়া শোনা করায়৷ কিন্তু আমাকে ভালো রাখার জন্য ধীরে ধীরে লাশ বানিয়ে ফেলে।

যখনই সব ফেলে প্রতিবাদ করতে যাই। সব ফেলে নিজেকে শান্তি দিতে চাই। খুব পাশ থেকে আপন রক্তের মা এসে বলে, মেয়ে মানুষের এতো কথা কিসের? চুপ থাকো! মুখে তালা দাও। লজ্জা সরম সব খেয়ে ফেলছো না কি? ছিঃ ছিঃ। আমি চিল্লাতে পারি না তখন। কাঁদতে চাইলে চোখে রক্ত জমে যায়। গলায় আটকে থাকে সকল কথা। সকল মানুষের মধ্যে দেখতে পাই বিষাক্ত সাপের আচরণ। সেটাও বলতে পারি না।

বলতে দেওয়ার মত সুযোগ যারা দেয় তারাও একদিন ছোবল মারে। প্রার্থনা করবো তাও হয় না ভয়ে। ছোট কালে তো প্রথম শারিরীক এবিউজের স্বীকার হই আরবির শিক্ষক থেকেই। আমাকে মেয়ে মানুষ বলে আটকে রাখে। আমি মেয়ে হয়ে উঠি ধীরে ধীরে। মানুষের আচরণ ভুলে যেতে থাকি। ভুলতে ভুলতে একদিন পাথর হই। আমার পড়া শোনা, সব জায়গায় মেয়ে মানুষ দেখি। চাকরির ক্ষেত্রেও মেয়ে মানুষ হয়ে যেতে হয়। শত লাঞ্চনায়ও আমি মেয়ে মানুষ হয়ে থাকি। কিছুই করার থাকে না আমার। একদম না।

অথচ, আমার ভেতরে সমুদ্র জয়ের শখ ছিলো। পাহাড়ে যাওয়ার সখ ছিলো। দেবতার মত বাবা মা দেখার শখ ছিলো। সৎ এবং বন্ধু সুলভ আত্মীয়স্বজন থাকার কথা ছিলো। আদর্শবান শিক্ষক থাকার কথা ছিলো। ভালো বন্ধু থাকার কথা ছিলো। সুন্দর মনের একটা প্রেমিক থাকার কথা ছিলো। কিন্তু সবই ছিলো ছিলো করে আমিই ছিলাম তাদের কাছে মেয়ে মানুষ হয়ে। তারা ছিলো কাল সাপ। সেই কাল সাপ আমার নয় হয়তো হাজারো মেয়ের জীবনে আছে। আমার মনে হয় মেয়ে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা মানে একটা মৃত মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা। আজ থেকে আমি মেয়ে মানুষ নয়, মৃত মানুষ। তোমরা যে যার মত করে ব্যবহার করো কিছু বলবো না। কারণ আমি যে মেয়ে মানুষ নামক মৃত মানুষ।

  • 1
    Share