ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একাধিক ঘটনায় গণহত্যার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ফাঁসির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।
(০৪ আগস্ট) হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার পক্ষ থেকে
হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মাওলানা বেলাল হুসাইন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৬ সালে হাফেজ মাসুদ হত্যাকাণ্ড এবং ২০২১ সালে মোদী বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৩ জন শহীদের হত্যার মূলহোতা হিসেবে ভূমি রেজিস্ট্রার অফিসের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি মোকতাদির চৌধুরীর দ্রুত বিচার ও ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
বিবৃতিতে জেলা হেফাজতের আমির মুফতি মুবারকুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম কাসেমী বলেন,
২০২১ সালের মোদী বিরোধী আন্দোলনের সময় দলীয় ক্যাডার ও সরকারি পুলিশ বাহিনী মিলে যৌথভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্তত ১৩ জন তৌহিদি জনতাকে শহীদ করেন।
তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিত গণহত্যা চালিয়ে সে সময় জেলা শহরের রেলস্টেশন, আদালত ভবন, জেলা পরিষদ, প্রেসক্লাব, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সাজিদুর রহমানের বাসভবনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার এবং দলীয় ক্যাডারদের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের উপরই এর দায়ভার বর্তায়।
তারা বলেন, “দেশের শান্তিপ্রিয় জনতা রক্তের বদলা রক্ত চায় না, শান্তি চায়। তবে দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে এমন হত্যাকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।”
এতে তারা পাঁচ দফা দাবি জানায় :
১. মোকতাদির চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
২. শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
৩. মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৫. সরকারকে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতির মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে অবিলম্বে ন্যায়বিচার কার্যকর করার আহ্বান জানান।