391 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

যিলহজ্ব মাসের ফযীলত, ৪র্থ জুমার খুতবা।

  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    22
    Shares

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ- 

————————————————
بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين, أما بعد!
আমাদের মাঝে যিলহজ্ব মাস সমাগত। এ মাস হজ্বের মাস, কুরবানীর মাস। এ মাস অতি ফযীলতপূর্ণ, মহিমান্বিত। আল্লাহ তাআলার বিধানানুসারে যে চারটি মাস পবিত্র ও সম্মানিত, তার একটি হল যিলহজ্ব মাস। আর এ মাসের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ সময় হল আশারায়ে যিলহজ্ব বা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশক।
দুটি ইবাদত এ দশকের মর্যাদাকে আরো অধিক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ মাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ্ব এর বিধান রেখেছেন, যাকে হাদীস শরীফে ইসলামের পাঁচ রুকনের একটি বলা হয়েছে। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ্বের আমল মাসটিকে আরো আড়ম্বর ও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আল্লাহ প্রেমিকরা সাদা ইহরামের কাপড় পরিধান করে বায়তুল্লাহ যেয়ারত ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারক এবং তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বরকতময় স্থানগুলো যিয়ারত করে নিজেদের আত্মার পিপাসা নিবারণ করেন।
হজ্বের সাদা ইহরাম, তালবিয়া পাঠ করা, পবিত্র কাবা তওয়াফ করা, হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) চুমু খাওয়া, সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয় প্রদক্ষিণ করা, আরাফা, মিনা ও মুযদালিফার ময়দানে অবস্থান করা, মদীনাতুন নববীতে গমন করা , মসজিদে নববীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারক যেয়ারত করা, রওদ্বাতুম মিন রিয়াদ্বিল জান্নাত (জান্নাতের বাগান) এ অবস্থান করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় সাহাবীগণের মাযার যেয়ারত করা, বদর, উহুদ, খন্দকের মত বিশ্ব বিখ্যাত জিহাদ প্রান্তর পরিদর্শনসহ আরো কত ধরনের কর্মসূচী সম্পৃক্ত হয়ে হজ্বের এ মাসকে করে তুলে আরো বর্ণাঢ্যময়।
এ মাসের দ্বিতীয় বিশেষ ইবাদত কুরবানী, যা শা‘আইরে ইসলাম বা ইসলামের নিদর্শন সমূহের অন্যতম। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের জন্যে এ মাসের নির্ধারণ থেকেও এর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য অনুমান করা যায়। তদুপরি কুরআন-হাদীস থেকেও এ মাসের এবং এ মাসের বিশেষ কিছু দিবস-রজনীর মর্যাদা প্রতীয়মান হয়। কারণ এ মাস চার মহিমান্বিত মাসের অন্যতম, যাকে কুরআন মজীদে ও হাদীসে পাকে “আরবাআ’তুন হুরুম’’ বলা হয়েছে। আল্লাহ তা’লা এরশাদ করেন :
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهورِ عِندَ اللَّـهِ اثنا عَشَرَ شَهرًا في كِتابِ اللَّـهِ يَومَ خَلَقَ السَّماواتِ وَالأَرضَ مِنها أَربَعَةٌ حُرُمٌ ذلِكَ الدّينُ القَيِّمُ فَلا تَظلِموا فيهِنَّ أَنفُسَكُم وَقاتِلُوا المُشرِكينَ كافَّةً كَما يُقاتِلونَكُم كافَّةً وَاعلَموا أَنَّ اللَّـهَ مَعَ المُتَّقينَ ﴿التوبة-৩৬﴾
“নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন। (সূরা আল-তাওবাহঃ ৩৬)
সাহাবি হযরত আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ , عَنْ أَبِيهِ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” أَلَا إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ , السَّنَةَ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا , مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ , ثَلاثٌ مُتَوَالِيَاتٌ ؛ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ ، وَرَجَبٌ شَهْرُ مُضَرَ بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ( ১) ”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বারো মাসে বছর। তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি ধারাবাহিক: যিলক্বদ, যিলহজ্ব, মহররম আর চতুর্থটি হল রজব মুদার, যা জুমাদাল উখরা ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী মাস।’(২ )
আল্লাহ তাআলা যে দশ রজনীর শপথ করেছেন, মুফাসসিরগণের মতে তা এ মাসের প্রথম দশ রাত। সূরাতুল ফাজরে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, وَالْفَجْرِ * وَلَيَالٍ عَشْرٍ“শপথ ফজরের ও দশ রাতের” (সূরা ফজর:১-২)। তেমনি সূরাতুল হজ্বে যে ‘নির্দিষ্ট দিবসগুলোতে’ আল্লাহর নাম স্মরণের প্রসঙ্গ উল্লেখিত হয়েছে, তাও যিলহজ্বের প্রথম দশ দিন। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ )سورة الحج-২৮)
“যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌঁছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ করার সময়। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুঃস্থ-অভাবগ্রস্থকে আহার করাও।[ সূরাতুল হজ্ব, আয়াত-২৮)]
যে দশ দিনের মাধ্যমে হযরত মূসা আলাহিস সালামের ৪০ দিনের রোযা পূর্ণ হয় মুফাসসিরগণ বলেছেন, সেই দশদিনও ছিল যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন । আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
وَواعَدنا موسى ثَلاثينَ لَيلَةً وَأَتمَمناها بِعَشرٍ فَتَمَّ ميقاتُ رَبِّهِ أَربَعينَ لَيلَةً وَقالَ موسى لِأَخيهِ هارونَ اخلُفني في قَومي وَأَصلِح وَلا تَتَّبِع سَبيلَ المُفسِدينَ
“আমি মূসা আলাহিস সালামের সাথে ওয়াদা করেছি ত্রিশ রাত্রির এবং তা পূর্ণ করেছি আরো দশ দ্বারা, বস্তুতঃ এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর ভাই হারুনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক ও তাদের সংশোধন করতে থাক এবং হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না। ”(আ’রাফ-১৪২)
এ দশ দিনের মর্যাদা বুঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এ দশ দিনের কসম করেছেন। তিনি বলেন- “শপথ ফজরের ও দশ রাতের” (সূরা ফজর:১-২)। দশ রাত বলতে এখানে যিলহজ্বের দশ রাতকে বুঝানো হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা বড় কোনো বিষয় ছাড়া কসম করেন না।
ফযিলতপূর্ণ এই মাসের ফযিলত প্রসঙ্গে হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهِنَّ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ اْلأيَّامِ الْعَشْرِ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟! فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، إِلا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ. ( ৩)
“যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে বেশী প্রিয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন জিহাদও নয় কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- জিহাদও নয়। তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতিক্রম যে নিজের জান ও মাল নিয়ে জিহাদে বের হয়েছে এবং কিছু নিয়ে ফিরে আসেনি। অর্থাৎ শহীদ হয়ে গিয়েছে।”(৪ ) হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ ، يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَقِيَامُ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ(৫ )
আল্লাহর ইবাদতের জন্য যিলহজ্বের প্রথম দশ দিনের চেয়ে উত্তম কোন দিন নেই, এর একদিনের রোযা এক বছরের রোযার সমতুল্য এবং এক রাতের ইবাদত ক্বদরের রাত্রের ইবাদতের সমতুল্য।(৬ ) হযরত কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরাফাহর দিনে রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ، وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ.(৭ )
“এর দ্বারা অতীতের এক বছর এবং ভবিষ্যতের এক বছরের গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায় তথা ক্ষমা করে দেয়া হয়”। (৮ )
অন্য বর্ণনায় হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে:
أفضل أيام الدنيا أيام العشر”
যিলহজ্বের দশ দিনের চেয়ে কোনো দিনই আল্লাহর নিকট উত্তম নয়।(৯ )
কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহের আলোকে স্পষ্ট বুঝা যায়, এই দশ দিনের যে কোনো নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। তাই মুমিন বান্দার জন্য অধিক পরিমাণে সওয়াব অর্জন, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত সময় আর কী হতে পারে? এ জন্য পূর্ববর্তীদের জীবনীতে এই দশকের আমল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন এই দশকের দিনগুলোর আগমন ঘটত তখন তাঁরা এত অধিক আমল ও মুজাহাদা করতেন, যা পরিমাপ করাও সম্ভব নয়। আমাদেরও উচিত বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে এই দশকের রাত-দিনগুলোকে জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলা।
এই দশকের বিশেষ কিছু আমল:
তাছাড়া বিভিন্ন হাদীসে এই দশকের বিশেষ কিছু আমলের কথাও বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি না কাটা: যিলহজ্বের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানীর আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, গোঁফ, নাভীর নিচের পশম ইত্যাদি না কাটা। এটা মুস্তাহাব আমল। হযরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ ، فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا (১০ )
তোমরা যদি যিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে তবে সে যেন স্বীয় চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। ( ১১)
যে ব্যক্তি কুরবানী করতে সক্ষম নয় সেও এ আমল পালন করবে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটবে না; বরং তা কুরবানীর দিন কাটবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ . قَالَ الرَّجُلُ : أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا أُضْحِيَّةً أُنْثَى أَفَأُضَحِّي بِهَا ؟ قَالَ : لَا ، وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ وَأَظْفَارِكَ وَتَقُصُّ شَارِبَكَ وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ ، فَتِلْكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ. ( ১২)
আমি কুরবানীর দিন সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি (অর্থাৎ এ দিবসে কুরবানী করার আদেশ করা হয়েছে।) আল্লাহ তাআলা তা এ উম্মতের জন্য ঈদ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানীহা থাকে অর্থাৎ যা শুধু দুধ পানের জন্য দেওয়া হয়েছে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না; বরং সেদিন তুমি তোমার চুল কাটবে (মুন্ডাবে বা ছোট করবে),নখ কাটবে, গোঁফ এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কুরবানী বলে গণ্য হবে। (১৩ )
আল্লাহপাক গরীবদের উপর যে অত্যন্ত ও সীমাহীন দয়া করেছেন তার প্রমাণ আলোচ্য হাদীস। সুতরাং যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তাদের উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত আমলকে গনীমত মনে করা উচিত এবং কুরবানীর চাঁদ অর্থাৎ যিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে কুরবানী পর্যন্ত (১০দিন) নিজের চুল, নখ ইত্যাদিতে হাত না লাগানো উচিত। অর্থাৎ যারা কুরবানী করতে সক্ষম নয় তারাও যেন মুসলমানদের সাথে ঈদের আনন্দ ও খুশি উদযাপনে অংশীদার হয়। তারা এগুলো কর্তন না করেও পরিপূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে। অনুরূপভাবে হাজীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী হবে।
২. ঈদের দিন ছাড়া বাকি নয় দিন রোযা রাখা: আশারায়ে যিলহজ্বের আরেকটি বিশেষ আমল হল, ঈদুল আযহার দিন ছাড়া প্রথম নয় দিন রোযা রাখা। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ وَثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ وَالْخَمِيسَ ‏ ( ১৪)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্ব মাসের প্রথম নয় দিন, আশুরার দিন, প্রতি মাসে তিন দিন (১৩,১৪,১৫) প্রতি মাসের প্রথম সোম ও বৃহস্প্রতি বার রোযা রাখতেন। (১৫ )
অন্য হাদীসে হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বর্ণনা করেন:
أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : صِيَامَ عَاشُورَاءَ ، وَالْعَشْرَ ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ، وَالرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ ( ১৬)
চারটি আমল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ছাড়তেন না। আশুরার রোযা, যিলহজ্বের প্রথম দশকের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা, ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায।(১৭ )
৩. বিশেষভাবে নয় তারিখের রোযা রাখা: যিলহজ্বের প্রথম নয় দিনের মধ্যে নবম তারিখের রোযা সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ। সহীহ হাদীসে এই দিবসের রোযার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ، ( ১৮)
আরাফার দিনের (নয় তারিখের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশাবাদী যে, তিনি এর দ্বারা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। (১৯ )
আরেক হাদীসে এসেছে:
وقال ابن قدامة في”المغني”:”وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أن صيامه ـ يعني يوم عرفة ـ يكفر سنتين” .
ইবনু কুদামা বলেন “যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোযা রাখবে তার লাগাতার দুই বছরের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।” মর্মে হাদীসটি সহীহ সূুত্রে বর্ণিত হয়েছে। (২০ )
যারা যিলহজ্বের নয়টি রোযা রাখতে সক্ষম হবে না তারা যেন অন্তত এই দিনের রোযা রাখা থেকে বঞ্চিত না হয়। আল্লাহ তাআলা আশারায়ে যিলহজ্বের মতো অন্যান্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত দিনগুলোতে ইবাদত-বন্দেগী করার তাওফীক দিন। আমীন।
হাদীস শরীফে আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
نْ ‏‏ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما عَنْ النَّبِيِّ ‏صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏أنَّهُ قَالَ: ্রما مِنْ عَمَلٍ أزْكَى عند الله عَزَّ وجَلَّ، ولا أعْظَمَ أجْراً مِنْ خَيْرٍ يَعْمَلُهُ في عَشْرِ الأضْحَىগ্ধ قِيلَ: “وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟” قَالَ: ্রوَلاَ الْجِهَادُ ‏فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وجَلَّ إلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بنفسه ومَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بشيءগ্ধ” ( )
‘ দুনিয়ার দিনগুলোর শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে সেই দশ দিন। অর্থাৎ যিলহজ্বের প্রথম দশদিন।’’(২১ )
কিন্তু যিলহজ্ব মাস তো চার হারাম মাসের অন্যতম, যার সম্পর্কে কুরআন মজীদের নির্দেশ,
فَلا تَظلِموا فيهِنَّ أَنفُسَكُم
‘তোমরা এ সময়ে নিজেদের উপর জুলুম করো না।’ (তাওবা-৩৬) মুফাসসিরগণের ব্যাখ্যা অনুসারে এ পবিত্র সময়ে গুনাহ থেকে বিরত থাকাও এ আদেশের মধ্যে শামিল। আর ইয়াওমে আরাফা সম্পর্কে তো স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্ল্ল্লাাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ,
هَذَا يَوْمٌ مَنْ مَلَكَ فِيهِ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ وَلِسَانَهُ غُفِرَ لَهُ( ২১)
এ তো এমন দিন, এ দিনে যে নিজের চোখ, কান ও যবানকে নিয়ন্ত্রণে রাখে তাকে মাফ করে দেওয়া হবে। (২২ )
তেমনি দিবস রজনী ফযীলতপূর্ণ হওয়ার আরেক দাবি, সে মুবারক সময়ে ইবাদত-বন্দেগী ও নেক আমলের বিষয়ে অন্য সময়ের চেয়ে বেশী যতœবান হওয়া।
কিন্তু আমরা যাদের হজ্বে যাওয়া হচ্ছে না, তাদেরকে আল্লাহ তাআলা একেবারেই বঞ্চিত করেননি। যিলহজ্ব মাসের ঐদিনগুলোতে আমরা যেন বেশি বেশি করে ইবাদত করি সে জন্য আল্লাহ তাআলা ঐদিনগুলোর ইবাদতে আমাদের জন্য রেখেছেন অফুরন্ত ফযীলত। সেগুলোর গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আল্লাহ তাআলা সূরা আল ফজর এ কসম করে বলেছেন: ‘ওয়া লাইয়ালিন আশর’-দশটি রাতের কসম।
এ দশটি দিনে বেশি বেশি করে নেক আমলের সুযোগ হাত ছাড়া করা নিশ্চয়ই ঠিক হবে না। এ সময় গুলোতে কি কি আমল করা উচিৎ। নফল আমলের মধ্যে সর্বোচ্চ হল নফল সালাত, বিশেষ করে সালাতুত তাহাজ্জুদ। কুরআন তেলাওয়াত, যিকর, ইস্তেগফার, দোয়া ও দরুদ ইত্যাদি। সুনানে নাসায়ী ও মুসনাদে আহমাদসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে রয়েছে,
أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : صِيَامَ عَاشُورَاءَ ، وَالْعَشْرَ ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ، وَالرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ ( ২৩)
আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আমলগুলো ছাড়তেন না তম্মধ্যে আশুরার রোযা (কুরবানীর ঈদের দিন ছাড়া) যিলহজ্বের দশ দিনের রোযা, ফজরের দুই রাকাত সুন্নত এবং আইয়ামে বীযের রোযা অন্যতম। (২৪ )
أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : صِيَامَ عَاشُورَاءَ، وَالْعَشْرَ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَالرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ ( ২৫)
চারটি আমল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ছাড়তেন না। আশুরার রোযা, যিলহজ্বের প্রথম দশকের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা, ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায।(২৬ ) আল্লাহ রাববুল আলমীন আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন!
وصلى الله وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه اجمعين.
======================================
১ – أخرجه البخاري في بدء الخلق (৩১৯৭)، ومسلم في القسامة (১৬৭৯) من حديث أبي بكرة رضي الله عنه.
২- সহীহ বুখারী ২/৬৭২, হা-৩১৯৭, মুসলিম-১৬৭৯।
৩ – [صحيح البخاري، ৯৬৯, , سنن الترمذي، (৭৫৭)؛ سنن أبي داود، (২৪৩৮)؛ سنن ابن ماجه (১৭৫৩). جامع الأصول في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم، (৬৮৬৩)
৪- (বোখারী শরীফ- ৯২৬,৯৬৯ তিরমিযী শরীফ- ৭৫৭, আবু দাউদ-২৪৩৮, ইবনু মাজা-১৭৫৩)
৫- رواه الترمذي (رقم/৭৫৮)، والبزار (رقم/৭৮১৬)، وابن ماجه (رقم/১৭২৮) من طريق أبي بكر بن نافع البصري
৬ – তিরমিযী,হা-৭৫৮, ইবনে মাজা, হা-১৭২৮, বায্যার, হা-১৭২৮
৭- أخرجه مسلمٌ في ্রالصيامগ্ধ (١١٦٢) مِنْ حديثِ أبي قتادة الأنصاريِّ رضي الله عنه.
৮ – মুসলিম শরীফ-২৭৩৯
৯ – (সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ২৮৪২, জামে আস সগীর, হা- ১১৩৩)
১০ – أخرجه مسلم في كتاب الأضاحي، باب نهي من دخل عليه عشر ذي الحجة وهو مريد التضحية أن يأخذ من شعره أو أظفاره شيئاً، برقم ৩৬৫৬.
১১- (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫২৩;সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৯১; সুনানে নাসয়ী, হাদীস : ৪৩৬২; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৫৮৯৭)
১২- وأخرجه أبو داود والنسائي من حديث أبي عبد الرحمن المقرئ به . مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح গ্ধ كتاب الصلاة গ্ধ باب العتيرة الفصل الثالث ১৪৭৯ وأخرجه النسائي.৭/২১২-২১৩ في الضحايا: باب من لم يجد الأضحية والدار قطني ৪/২৮২- والحاكم ৪/২২৩، والبيهقي ৪/২২৩ من طريقين عن ابن وهب وبهذا الإسناد وصححه الحاكم ووفقه الذهبي.
১৩-وأخرجه أحمد: ২/১৬৯، وأبو داود (২৭৮৯) في الأضاحي : باب ما جاء في إيجاب الأضاحي من طريق أبي عبد الرحمن عبد لله بن يزيد، عن سعيد بن أبي أيوب وأخرجه الدار قطني ৪/২৮২ – والحاكم ৪/২২৩، والبيهقي ৪/৪২৬২، من طريقين عن عياش بن عباس.
১৪ – মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৫৭৫; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৭৭৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ২৭৮৯, নাসাঈ, ৭/২১২, হা-২১৩,হাকেম ৪/২২৩, বায়হাক্বী ৪/৪২৬২)
১৫- أخرجه أبو داود (رقم/২৪৩৭)، والنسائي (২৩৭২)، (২৪১৮)، وأحمد (৩৭/২৪)، (৪৪/৬৯)، والبيهقي في ” السنن الكبرى ” (৪/২৮৪)، والطحاوي في ” شرح معاني الآثار ” (২/৭৬) ولفظه عند أبي داود :
১৬ – (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২২২৩৪;সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ২৪১৬)
১৭- النسائي في ” السنن ” (২৪১৬)، وأحمد في ” المسند ” (৪৪/৫৯)، والطبراني في ” المعجم الكبير ” (২৩/২০৫)، وابن حبان في صحيحه (১৪/৩৩২)، وأبو يعلى في ” المسند ” (১২/৪৬৯)” إرواء الغليل ” (৪/১১১) .
১৮- (সুনানে নাসায়ী, হাদীস :২৪১৫; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৬৪২২; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ৭০৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২৬৩৩৯)
أخرجه مسلمٌ في ্রالصيامগ্ধ (١١٦٢) مِنْ حديثِ أبي قتادة الأنصاريِّ رضي الله عنه.
১৯- (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৬২; সুনানে আবু দাউদ,হাদীস : ২৪২৫; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৭৪৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৩০)
২০- (মুসনাদে আব ুইয়ালা, হাদীস : ৭৫৪৮; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৫১৪১)
২১- البزار عن جابر…وابن حبا
২২ – (সুনানে নাসায়ী, হাদীস :২৪১৫; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৬৪২২; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ৭০৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২৬৩৩৯)
২৩ – فضل يوم عرفة لابن عساكر গ্ধ هذا يوم من ملك فيه سمعه وبصره ولسانه غفر له رقم الحديث: ১৬حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَالْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ رَدِيفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عَرَفَةَ ، قَالَ : فَجَعَلَ الْفَتَى يُلاحِظُ النِّسَاءَ وَيَنْظُرُ إِلَيْهِنَّ ، وَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُغَطِّي وَجْهَهُ مِرَارًا وَيَسْتُرُ وَجْهَهُ بِيَدِهِ ، وَجَعَلَ الْفَتَى يُلاحِظُ النِّسَاءَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” يَابْنَ أَخٍ هَذَا يَوْمٌ مَنْ مَلَكَ فِيهِ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ وَلِسَانَهُ غُفِرَ لَهُ ” . صحيح ابن خزيمة গ্ধ كتاب المناسك গ্ধ باب استحباب ركوب من بالناس إليه الحاجة والمسألة عن أمر دينهم গ্ধ باب فضل حفظ البصر والسمع واللسان يوم عرفة
২৪ – মুসনাদে আহমদ, ১/ ৩২৯, ইবনু খুযায়মা, কিতাবুল মানাসিক।
২৫- النسائي في ” السنن ” (২৪১৬)، وأحمد في ” المسند ” (৪৪/৫৯)، والطبراني في ” المعجم الكبير ” (২৩/২০৫)، وابن حبان في صحيحه (১৪/৩৩২)، وأبو يعلى في ” المسند ” (১২/৪৬৯) ولفظه : إرواء الغليل ” (৪/১১১) .
২৬ – (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ২৪১৫; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস ২৬৩৩৯)
২৭ – النسائي في ” السنن ” (২৪১৬)، وأحمد في ” المسند ” (৪৪/৫৯)، والطبراني في ” المعجم الكبير ” (২৩/২০৫)، وابن حبان في صحيحه (১৪/৩৩২)، وأبو يعلى في ” المسند ” (১২/৪৬৯)” إرواء الغليل ” (৪/১১১) .
২৮ – (সুনানে নাসায়ী, হাদীস :২৪১৫; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৬৪২২; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ৭০৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২৬৩৩৯)

লেখক
সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আযহারী
বিএ. অনার্স, আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর।
এম.এ. এম.ফিল. কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, মিশর।
সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ. খতীব, মুসাফির খানা জামে মসজিদ, নন্দন কানন, চট্টগ্রাম।০১৭১৯১৯৭৯৭৮ e-mail: jalal_cairo@yahoo.com

  • 22
    Shares
  • 22
    Shares