522 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

রাতে মাদ্রাসায় ঘুমিয়ে থাকা ছাত্রের ক্ষতবিক্ষত লাশ বাগানে মিলল সকালে

  • 43
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    43
    Shares

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নব্বইরশি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‌‘আলহাজ্ব রহমাতিয়া স্মৃতি শিশু সদনের’ হেফজখানার এক শিক্ষার্থীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম হাসিবুল ইসলাম। ১০ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীকে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধে  দুর্বৃত্তরা হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে শিশু সদনের হেফজখানার পেছন থেকে হাসিবুরের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত হাসিবুল ওই শিশু সদনের হেফজখানায় পবিত্র কোরআন শরিফের নজরানা বিভাগের ছাত্র ছিল। সে মোরেলগঞ্জ উপজেলা বারইখালী গ্রামের সোবাহন শেখের ছেলে।

শিশু সদনের হেফজখানার অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নিয়ে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) পংকজ চন্দ্র রায়। প্রাথমিকভাবে মাদ্রাসা সুপার হাফেজ মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান, বাবুর্চি ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি গামছা ও টর্চলাইট। দ্রুতই এই ঘটনার রহস্য উম্মোচন হবে বলে আশাবাদী এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ জানায়, সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন তার পিতার নামে মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদরের নব্বইরশি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১৯৯৫ সালে ‌‘আলহাজ্ব রহমাতিয়া শিশু সদন ও হেফজখানা’ প্রতিষ্ঠা করেন। ওই শিশু সদনের হেফজখানায় থেকে ৫ বছর ধরে পবিত্র কোরআন শরিফের নজরানা বিভাগে পড়াশোনা করতো মোরেলগঞ্জ উপজেলা বারইখালী গ্রামের সোবাহন শেখের ছেলে হাসিবুল ইসলাম।

 

প্রতিদিনের মতো হাসিবুল শনিবার রাতে পবিত্র কোরআর শরিফ পড়ে, ভাত খেয়ে সহপাঠীদের সাথে নিজ বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে। রবিবার ফজরের নামাজের শেষে তার দুই সহপাঠি জিহাদী ও কাওছার নিজ কক্ষে ফেরার পথে হেফজখানার পেছনের বাগানে হাসিবুলের ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে। তাদের ডাক-চিৎকারে আরও সহপাঠীসহ মাদরাসা সুপার ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ ক্রাইম সিনের সদস্যরা।

লাশের মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। বিকালে বাগেরহাট হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
নিহত শিশুটির মা তছলিমা বেগম তার ছেলের হত্যার জন্য সরাসরি শিশু সদনের সুপারসহ শিক্ষার্থীদের দায়ী করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে পবিত্র কোরআনের হাফেজ বানাতে রহমাতিয়া স্মৃতি শিশু সদনের হেফজখানার ভর্তি করেছিলাম। সেখানে থেকে ৫ বছর ধরে নজরানা বিভাগে পড়াশোনা করতো। ওরা আমার ছেলেকে হাফেজ হতে না দিয়ে খুনই করল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানাই।

পথিকনিউজ/এইচ কে

  • 18
    Shares
  • 43
    Shares