136 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

রাবির গাছতলায় ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা ৩ শিক্ষকের

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পথিক রিপোর্ট: বাঁ থেকে সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক ইফতেখার আলম মাসউদ ও সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কণক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দীর্ঘ ৫শ’ দিনের বেশি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে ইতিবাচক কোন সাড়াও দিচ্ছে না সরকার। এমন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন অধ্যাপক। চলতি সপ্তাহে তারা ক্লাস শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন। গত শুক্রবার ও শনিবার ওই তিন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজস্ব টাইমলাইনে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানান।

ক্লাস নিতে আগ্রহী শিক্ষকরা হলেন- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখার আলম মাসউদ এবং ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কণক। এ ছাড়া ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন ক্লাস না নিলেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করার জন্য সময় দিবেন বলে জানিয়েছেন।

এই চার শিক্ষকের ক্লাস নেওয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ভাইরাল। এমন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী।

গত শুক্রবার প্রথম সশরীরে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনলাইনে ক্লাস নেওয়া একটা হরর অভিজ্ঞতা। সপ্তাহে আমি অন্তত আট ঘণ্টা ক্লাস নিই অনলাইনে। এজন্য ৪০ ঘণ্টা পড়ালেখা করি, অনেক সময় তারও বেশি। সেইসঙ্গে পড়ালেখা নিয়ে আরও অন্তত ১০ ঘণ্টা টপিকগুলো ভাবি। কিন্তু যখন অনলাইনে ক্লাস নিতে যাই তখন কোনো শিক্ষার্থীর চেহারা দেখতে পাই না, অনেকেই কথা বলে না। একটা ডার্ক স্ক্রিনের সামনে বকবক করি। তবু আমি এই মহামারির সময়ে পড়ানোর ব্যাপারে খুব সিরিয়াস হয়ে উঠেছি। শিক্ষার্থীদের বলতে চাই আমার ভাবনাগুলো। কিন্তু আদৌ কিছু বলতে পারি কিনা, তা কিছুই অনুমান করতে পারি না। সবই পণ্ডশ্রম মনে হয়। অন্য দেশের বাস্তবতা জানি না, আমাদের বাস্তবতা এ রকমই। আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতি সোমবার-মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগে উপস্থিত থাকবো। ক্লাস রুম খুলে না দিলে গাছতলায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিট করবো এবং তারা পড়তে চাইলে পড়াবো। (হুম আপনাদের তথাকথিত স্বাস্থ্যবিধির কথাও মনে রাখবো। সবাইকে আমন্ত্রণ)।’

এর পরের দিন গত শনিবার সন্ধ্যায় সশরীরে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দেন ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কণক। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাপের টাকা খরচ করে শিক্ষার্থীদের মেসে থাকতে হচ্ছে, এতিমের মতো ঘুরতে দেখে কষ্ট লাগে। গাছতলায়, নতুবা খোলা মাঠে ক্লাস নিতে চাই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আমাদের ক্লাস চলবে।’

ওইদিন রাতে আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখার আলম মাসউদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, গত ২৬ মে রাজপথে প্রতীকী ক্লাস নিয়ে অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আহ্বান জানিয়েছিলাম। অন্যথায় গাছতলায় ক্লাস শুরু করবো আমরা। সবকিছু খোলা, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে কোন যুক্তিতে? কিছুটা দেরিতে হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকদের অনেকেই ক্লাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। সাধুবাদ জানাই আপনাদের। থাকবো আমিও, ইনশাআল্লাহ। ছাত্রছাত্রীরা থাকলে অবশ্যই ক্লাস নেবো। ক্লাসরুম খোলা না পেলে গাছতলায় শুরু হবে পাঠদান।’

একই দিন বিকেলে একই রকম ঘোষণা দেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সপ্তাহে ছয়দিন (শুক্রবার বাদে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আমি অফিসে শিক্ষার্থীদের সময় দেবো।

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণের পর থেকে প্রায় ১৭ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার একাধিক তারিখ দিয়েও পরে তা বাতিল করা হয়। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

এইচ.কে.জে