420 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

রূপেন শেঠ এর একগুচ্ছ কবিতা

  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    12
    Shares

১. মানসী, তুমি কতদূরে ?

সন্ধ্যার আলাপ অবরুদ্ধ গীত বিতানে-
রাত্রির অভিসন্ধির ছায়া ছায়া পরিমণ্ডলের দূর্গে,
তবে কি বহু যুগের ওপার হ’তে এপারের সুরালাপ-
করবে বিলাপ গুমরিয়ে
ঝিঁ ঝিঁ-র ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের শূন্যতায়-
অবগুন্ঠিত মননের উন্মুক্ত মনের
স্বপ্ন ভঙ্গের সন্ত্রাসে?

ধীরতার স্থিতধী পদচারণায়
-এগিয়ে আসছে সন্ধ্যাকামিনী-
সন্ধ্যামালতীর দুয়ার পেরিয়ে,
হয়ে যাচ্ছে স্তিমিত নৈস্বর্গীক উন্মাদনা
প্রাঞ্জল গবাক্ষে,
জ্ব’লে উঠেছে চিরাগ সাময়িকে,
দুর্ভেদ্য শূন্যাকর্ষক ভঙ্গে,
তবুও সাম্প্রতিক ক্ষণঘর্ষণে নিভু নিভু তাও-
পলাতকের পলায়ন তৎপরতায়,
সুখদ স্বপ্ন বুঝি বিলীয়মান ক্রন্দসীর অন্তর্ধানে।

নিভু নিভু চিরাগের দেউলিয়ার
কালাতিপাত কালক্ষেপণে-
রাগের সুররাগিণী বিচ্যুতা, নিরুদ্দেশের বৈকল্যে,
ঝ’রে যাচ্ছে,উড়ে যাচ্ছে দীর্ঘশ্বাসে-
বসন্ত্-বাহারের পত্র-
দিকভ্রান্তের আস্ফালন আহ্বানে,
ঝ’রে পড়ছে স্বপ্ন-মাধুরীর ইমন-কল্যান সাধনা-
স্বার্থহীনতার চিরবসন্ত কৌমার্যের সানুনয়-
প্রত্যাখ্যান ও প্রত্যাঘাতে।

এসো না, এসো না হে মায়াবিনী সন্ধ্যার আড়ালে-
স্বপ্ন ভঙ্গের কালরাত্রি,
বৈরাগ্যের নিঃসঙ্গ মলিনতায় থাকুক নির্বাকে কুঞ্জ,
থাকতে দাও অচৈতন্যে অনন্ত অগণ্যে দিনগুলি;
শুধু বিশ্বাস আমার, স্বপ্ন ভঙ্গের পারে অপেক্ষারত-
চ’লে যাওয়া প্রভাত বীতস্পৃহে-
স্বপ্নপুঞ্জ ধারণে জীবন্ত,
আসবেই, আসবেই ফিরে নববসন্ত সমাগমে-
দু-চোখে প্লাবিয়ে স্বপ্ন।

এসো হে, এসো হে নবযৌবনে বিগত প্রভাত
এসো হে এসো নবদিন-
নব গীত-আলেখ্যে নবযৌবনে প্রজ্বলিতে,
আগামী স্বপ্ননীল ক্ষণ-দিনাঙ্কে-
বিস্তারে নবস্বপ্নের রামধনু;
গাওয়াও, গাওয়াও চিত্রে-বিচিত্রে প্রাণের সম্পৃক্তে-
বাসব-বাসবদত্তামৈথুন্যের জন্মজন্মের সুরঝঙ্কৃতে।

মানসী-
তুমি কতদূরে?

২. শব

ব’হে চলেছে দিন গড্ডালিকা প্রবাহে
সাচ্চা নিরপেক্ষতার মুখোশ প’ড়ে,
চাইছি, আমার দৃঢ় মানসে চাইছি-
বন্দি করতে দিনগুলি-
একান্ত আমার নিগূঢ় খাঁচায় রবাহুতের আগতে,
ব্যর্থ, সবই গুষ্ঠিবদ্ধে নিষ্ফল প্রয়াশ।
জানেন, উঠেছিলাম আঁতকে বারোটা বাজার-
শেষ লগ্নে,
দেখি বিস্ময়ে,
চলছে একই খেলা প্রাতঃরাশ টেবিলে-
সানমাইকার ছুরিতে চর্ব্বির মাখন কাটা,
সোনার পাথর বাটির মতো আর কি।

ওপারেতে বাজছে ঘন্টা ঢং ঢং ঢং
এপারেতে অভিনয়ের রং বং চং, নৌটঙ্গী খেলা,
অকৃতদারের কৃতকর্মের কৃতদারত্বে ফসল তোলা।
ও ঘুড়ি- তুমি কার?
যার পালেতে হাওয়া লাগে আমি তার গো গোঁসাই,
শুধুই ভেল্কি-শুধুই যাদুখেলা-
পালে হাওয়া লাগা ওদের-পুণ্যতোয়া কারসাজীতে,
লজ্জায় দেবে হামাগুড়ি যাদু সম্রাটও,
টাঁকশালী নৈবেদ্যে, ভুঁড়ি পেটের ইন্দ্রপুরী ওদের।

“না না নটরাজ নেচোনা আর
নটরাজের নৃত্যতে,
সৃষ্টি তোমার চাবুকে নফর
স্বার্থবাদের বৃত্ততে।”
সৃষ্টিকে তোমার খাচ্ছে খুবলে
বঞ্চক-প্রতারকের কীট,
হাহাকারের নীরব আর্তনাদ করছে ভারী
আকাশ-বাতাস-
ধ্বংসস্তুপ মানবতার, কঙ্কালের চুড়ায়!
দেখো চেয়ে- আমি-যদু-মধু-আকবর-রহিম-
পল-গোমস-লামা-
হাতরাচ্ছি নৃমুণ্ডহীনে, ওদের চরকিবাজীর চক্রে-
খুঁজে পেতে নিজ নিজ মস্তক,
রাম-আল্লাহ্-বুদ্ধ-যীশু-এক যাত্রার যাত্রী সবাই-
শবযাত্রার শবে।

৩. পরিহাস

কালান্তরে কালান্তক ফুঁসছে ন্যায়বিপ্লব আসন্নে।

কালশুদ্ধির কলাভাগে অন্যায়-অবিচার-বঞ্চনা-
নিতে চায় হিসাব নিখুঁৎ, দৃঢ়ে- শান্তে ঋজুতায়।

অনেক করেছে ভক্ষণ নৈবেদ্য নির্ব্যূঢ়ে-
স্বাধিকারারুণ উঠবেই একদিন যমদ্বারে প্রেরণে-
তোমাদের,
কিন্তু এখন? অষ্টবক্র ভুজঙ্গে ছন্নছাড়া জীবন-
কৌশলে।

তাই সর্বহারার আর্তনাদে ঘুম ভাঙলো সকালের!
নিষ্পাপ কূজনে ভারাক্রান্ত আকাশ বাতাস,
নীলাম্বুর কালককূটনীল আদুল গায়ে রাখালিয়ায়-
গেছে ভুলে গোষ্ঠের দৃকদিশা- অচৈতন্যের
স্পর্শ নির্বাকে।

মরুভূমির মৃগতৃষ্ণিকায় ওষ্ঠাগত চাতকীয় মনে-
চরৈবেতি হাহাকার, সরিসৃপিয় পরিমণ্ডলে,
মাঙছে সঞ্জীবনী বারি, খুঁটে খাওয়া-
খুঁদ-কুঁড়ো জীবন,
মন্দক্রান্ত অপঘৃণে করছে প্রবেশ পিঞ্জরে-
করুণার বাঁচা আলিঙ্গনাবদ্ধ মৃত্যুর বরাভয়ে।

দুর্ভিক্ষ ক্ষণ-বিন্যাসের হাভাতে দিন-
মেপে চলেছে কালদন্ডে, দুর্বিনীত কালাশৌচ-
দুর্বাসা সময়,
জীব-জগতের প্রণিধানস্থ মানুষ-
চলেছে সারিবদ্ধে বৈতরণী পারাবারে নবাভিষেকে-
তিরহিত স্বপ্নের নব সর্বনাশে।

ওরে আয়- যেতে হবে সমাধীতে পৃথিবীর,
মহাকালরাত্রির মহাকালব্যাধি করছে গ্রাস
পরিমণ্ডল,
জীবনের নৃমুণ্ডমালা ধারণ ক’রে গলে-
মাততে হবে শিবতাণ্ডবে মরণের আহ্লাদে-
করুণাদানের অর্ধঃশ্বাসের মৃত্যুর জীবনকল্পে,
কেননা, অনাচারিত বৈভব করেছে ভষ্ম স্বয়ম্ভুকে-
প্রেতলোকিত শিবের শিবস্বস্ত্যয়ন মেধে।

দিকপালগণের রাজকীয় শোষণীয় দৃকপাতে-
লাঞ্ছিতা দেশের লাঞ্ছিতা মৃত্তিকা,
লাঞ্ছিত নিয়ন্ত্রিত জন্ম!
তমসুকে দস্তখতি কশেরু দুঃস্থ, মহীলতায়!
করাল লালসার জৃম্ভনে জর্জরিত দিনকাল!
করছে ভষ্ম সবুজ স্বপন নির্দহনে তিলে তিলে,
সুচৈতন্যের নির্চেতন পরিকল্পিতে, ক্ষমতার
প্রশস্তিতে,
মানুষ তুমি, দৈব দুর্দৈবের পরিহাস,
পরিবর্তিত আজকালে।

*** *** ***

(ভানুপুত্র)

সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত।

 

  • 12
    Shares
  • 12
    Shares