56 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

লকডাউনে আগাম জামিন শুনানির এখতিয়ার নেই

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের করা আগাম জামিন আবেদনসহ ১৫টি আগাম জামিন আবেদনের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার কোনো শুনানি হয়নি। ভুলভাবে আবেদনগুলো কার্যতালিকায় এসেছে উল্লেখ করে এদিন আবেদনগুলোর শুনানি করেননি বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এ ছাড়া লকডাউনে জরুরি বিষয়াদি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি যখন হাইকোর্টের এ বেঞ্চ গঠন করেন, তখন বেঞ্চকে আগাম জামিন শুনানির এখতিয়ারও দেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি লক্ষ করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই ওই বেঞ্চের কোর্ট রুমের দরজায় টানানো কাগজে লেখা ছিল, ‘বর্তমান লকডাউন এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অত্র কোর্ট আগাম জামিনের আবেদনপত্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শুনানি গ্রহণ করিবেন না বলে অত্র আদালত অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন।’

এর পর হাইকোর্টের এ বেঞ্চের বিচারিক কার্যক্রম ভার্চুয়ালি শুরু হলে আদালত বলেন, ‘আপনাদের আবেদনের কারণে আমরা গতকাল (বুধবার) বলেছিলাম, কিছু আগাম জামিন আবেদন শুনব। তবে কবে শুনব বলিনি। সুপ্রিমকোর্টের বিধি ও বর্তমান সর্বাত্মক লকডাউনে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে এ মুহূর্তে কোনো ধরনের আগাম জামিন শোনা যাবে না। ১৩ থেকে ২৭ পর্যন্ত আইটেম (আগাম জামিনের আবেদন) ভুলভাবে এসেছে। নির্দেশনা ছিল ভবিষ্যতে আসবে, কিন্তু আজ ভুলক্রমে এসেছে। সুতরাং আগাম জামিন আবেদনের শুনানি হবে না।’

এর আগে রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সায়েম সোবহান আনভীরকে আসামি করা হয়। তার পক্ষে গত বুধবার আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। গতকাল বিচারপতি মামুনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি দৈনন্দিন কার্যতালিকার ১৪ নম্বর ক্রমিকে শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের বিলাসবহুল একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই রাতেই নিহতের বোন বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন। পরদিন মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমানের আদালত এ মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ মে দিন ধার্য করেন। এ ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের বিদেশে যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

এদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীর কোথায় অবস্থান করছেন- মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে তা জানাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে গতকাল। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনুর করা এ আবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের আলোচিত বিষয় গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে মুনিয়া নামের একটি মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে যাকে আসামি করা হয়েছে, কেন তাকে মামলার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? জনমনে এ প্রশ্ন জেগেছে। শুধু তাই নয়, অনেকের প্রশ্ন- আসামি আনভীর কি দেশত্যাগ করেছেন? যদি তা-ই না হবে, তবে কেন পুলিশ কর্তৃক উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? জনমনে এমন প্রশ্নও রয়েছে, দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী বলেই কি তাকে গ্রেপ্তারে অনীহা প্রকাশ করছে পুলিশ? তা-ই যদি হয়, তবে তা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অশনি সংকেত।

সুত্রঃ আমাদের সময়